Tuesday, 8 October 2024
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১ || তপজা মিত্র
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১ || শাশ্বত গঙ্গোপাধ্যায়
করোনার দিনগুলোতে || শাশ্বত গঙ্গোপাধ্যায়
১.
নার্সিংহোমের বেড,
আসলে লেখার সাদা পাতা
ড্রিপ চলছে, মাস্ক খুলে দাও নার্স, যেমন সুবিধে
আমাকে উঠিয়ে বসে পেন আনো,
সাদা পাতা দেখে
আমার শরীর জুড়ে রাক্ষসের দাউ দাউ খিদে
২.
'আপনার মস্তিষ্কে গাঢ় কুয়াশা
নি:শব্দে ঢুকে গেছে
এর নাম ফগি ব্রেন, করোনা হবার পর হয় '
ডক্টর একথা বলে,
প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন-
'ভয় নেই, কুয়াশা শেষে পলাশ ফুটেছে সবসময়'
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১ || Rina Kansabanik
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১ || জয়াশিষ ঘোষ
আড়বাঁশি || জয়াশিষ ঘোষ
একান্তে বসে আছি
কবেকার অকাল বর্ষণে মুছে গেছে পঞ্চম সঙ্গীত
বিদ্ধ বল্লম থেকে রক্তেরা শুকনো পলাশ
ক্ষত দেবে দাও--
তা ছাড়া দেওয়ার কী আছে , ছাইপাঁশ ?
বনজ গন্ধেরা ভরে আছে আমাদের ঘরে
মানুষ থাকে না আর, আড়বাঁশি ভেঙেছে অধরে..
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১|| নীলাব্জ চক্রবর্তী
নীলাব্জ চক্রবর্তী-র কবিতা
ব্রেক
এই যে স্মৃতি বেয়ে
একটা কাঁচের ক্যালেন্ডার জুড়ে নিচ্ছ
গায়ের ওপর
ফাঁপা পাথরের ওপর
যে আহ্বান
স্পষ্ট হচ্ছে
অভ্যাস অর্থাৎ
রক্তের ভেতর-বাইরে যে ঋতু পড়ে গেল
খুব হল
এই কাগজে কাগজ ঘষে ঘষে
একটা স্থায়ী রক্তপাত
ব্রেক নিল
আর
নীল করল কেমন মুঠো করল…
দৃশ্য থেকে পড়ে যাওয়া ভাষা
একটা হাত-ফসকে-যাওয়া দৃশ্য
লাল হচ্ছে
নীল
জানলার বাইরেও জানলা
ছায়া পড়ছে
গাছ
পড়ছে
স্মৃতি তো একটা আঙুল অবধি নীরবতা
নীরবতা
আসলে
ব্লা ব্লা
কাট
একটা বিস্বাদ লংশট
পার হতে হতে
ভাষার এপার-ওপার দেখা যাচ্ছে না আর...
একটা অনভ্যাসের কবিতা হয়ে
সেফ খেলছে
ডামি দিচ্ছে পুরনো দিনের শো
বেদনা
সুর
উত্তর
কাঁচির এপারে ওপারে থাকা দীর্ঘ শব্দমালা
ফলো করতে করতে একটা অনভ্যাস
নির্বাচন করছে
অস্থির সাম্যের মতো ধাতব স্মৃতির গন্ধ
জল হয়ে জলের কাছে
তিনভাগ কবিতার কাছে
রূপ অর্থে ঘন হয়ে
পাথর-অমনিবাসে গুঁড়ো গুঁড়ো সম্পর্ক লেগেছে
জানলা নম্বর দুই বরাবর
তোমার আমার ঠিক মাঝখান দিয়ে...
যথেষ্ট ফ্রেম
বিষয় একটি সহজ অভ্যাস হয়ে
গাণিতিক হয়ে
অপশন রাখছে
অথবা ধরুন
একটা ফাঁপা পিকচারাইজেশনের ভেতর
আপনি মিটিমিটি বসে আছেন
আর
গানটা পিছলেই যাচ্ছে
দশকের পর দশক
একটাই যথেষ্ট ফ্রেম
ফটোজেনিক হয়ে উঠবে কি উঠবে না
ধানচিত্রের কথা ভাবতে ভাবতে
নয়া নগর ফুরিয়ে এলে
স্প্রিন্ট টানতে টানতে রীল কাটার শব্দ
ছুঁড়ে দিচ্ছেন কার দিকে...
ভাষা অর্থে একটা ফোটোজেনিক অভ্যাসের কথা
আলোর জন্য শুরুয়াৎ অর্থে একটা গভীর ধাতুর কথা। রূপের কথা। কৃৎ ও তদ্ধিত। ডেরিভেটিভের কথা ভাবব না সুপারইম্পোজিশনের? অথচ দেখতে পাচ্ছি ভাঙা ভাঙা একটা দিনের ভেতর বসে স্মৃতি অনুবাদ হচ্ছে। বাদ হচ্ছে। স্তননে কার ছায়া মন করছে। ওম। খুঁড়ে খুঁড়ে। গ্লোরিফাই করছে। ফেনায় ফেনা ঘষতে ঘষতে খুব একটা সাধনার কথা। এনে দে এনে দে ঝুমকা-র কথা। ফোটোজেনিক মানে একটা অভ্যাস। পিছলে যাচ্ছে। দর্পণ অবধি যে স্বেদ যে ঘ্রাণ বারুদ অবধি। ব্যাকফায়ার। এই ঋতু। ক্যাম্পে ক্যাম্পে ভাষা এক শ্রম হয়ে নির্মিত পূর্ণচ্ছেদ হয়ে চলমান...
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১ || সৌরভ বর্ধন
শ্রম ও জাদুপথ || সৌরভ বর্ধন
১.
অনেক লেখারা আছে
নিশ্চুপ বাষ্পের ছায়াপথ
অনেক জাদুরা আছে
সশব্দ শাসকের ছায়াঘর
ফলত হরিণের পানীয় যেমন জল
বাঘিনীও জলের অভাবে ঘর ছাড়ে
২.
নিজেকে পিশাচ ভাবছি তাই
আর সুখকষ্টে
হারিয়ে যাচ্ছে আরামপ্রদ গাছেরা
দূরে দূরে
নির্বাক স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে
দৃষ্টিহীন পাথর
সহসা দাঁতে কিড়মিড় করে ওঠে
খেলা করে অন্ত্যেষ্টি রাতের গানে
ক্রীড়নক পুতুল সকল
৩.
কথায় এতো যন্ত্রণা
মাথা খাবার হয়ে আসে
আমাদের খাদক ও শাসক
ঘরে ঢোকে শেষ রাতে
যখন কোকিল ও তার ছানা
পচে গেছে, খসে গেছে ছাল ও চামড়া
পূণ্য প্রভাতে!
৪.
বুকের ভেতরে হাত রাখলাম
আর গড়িয়ে নামলো জল
জল নামছে হিংস্র
হাত রাখি, আর কণ্ঠনালী
গড়িয়ে পড়ছে পুষ্টি
মুখরিত পথ, সত্যিকারের
পাথরও হেঁটে যাচ্ছে
৫.
তেষ্টায় শুকিয়ে যায় ব্যথা
ব্যথারই যত আলো
গর্জে উঠছে প্রতি-ডাকে
রাত বাড়ছে, অনেক অনেক
উড়ছে সারা অন্ধকারে ----
অন্ধকারের কালো
আজ সম্মুখে, আজ সমস্বরে
৬.
স্বপ্নের বিস্ফোরণ
ঘটে গেছে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল নাচে
আড়মোড়া ভাঙা হাঁ-য়ে
সেঁধিয়ে যাওয়া স্বপ্নের জাদু
ঘাঁপটে আছে অনন্তকাল
পরিখাশূন্য ------
ওকে একটু জল দাও
করো প্রথম আঘাতেই হা-হতোস্মি
৭.
শব্দ, আরও শব্দ দাও
ভাব, তীব্র ভাব এনে দাও
দৃশ্য গঠনের একটা চিত্র
আমি অবিকল ধরতে চাই গর্জনে
যেভাবে অর্জন করে মেয়েরা
শ্রমের খাবার, পরিশ্রমের দিনলিপি
আর অবগাহন রাত দখলে
৮.
ঘুম আর ফুরোয় না
ঘুমের ঠোক্কর খেয়ে শুকিয়ে যায় চোখ
আমাদের যাত্রাপথ লীলার দিকে
যেদিকে জেগে থাকে দশমিক
যেদিকে সব পথ সমসত্ত্ব দ্রবণে
৯.
রাত আসে
আর ফুরিয়ে যায় ক্ষতিপূরণ
জেগে থাকা চোখের দিকে তাকালে
বিস্তৃত মণি আরও সাদা
জ্ঞানগর্ভ হয়ে যায়
তোমাদের হাতে ছেড়ে দিই তাকে
রাতের দখল
ফণা তোলে স্বাধীনতায়, আঘাতে
১০.
আমাদের শ্রমের ভিতর
কারা যেন গুজব ছড়ায়
কারা যেন শীতল কল্পনা দিয়ে ছুরি আঁকে
----- অস্ত্রের ভেতরে কোনো খাদ্য নেই!
যেসব খাদককে আমরা মুখ ভাবি
তাদেরও নিবিড় নিবিড়তর ভুখ এখন
যেন অকস্মাৎ রৌদ্রে ধাঁধিয়ে গেছে চিল
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১ || প্রদীপ আচার্য
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১ || দেবব্রত রায়
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১|| নির্মল রায়
ইউরেশিয়া-ককেশাসের কবিতা আজারবাইজান || বাংলা অনুবাদ- নির্মল রায়
কবি ভাগিফ সামাদোঘলু [Vagif Samadoghlu]
ইউরেশিয়ার ককেশাস অঞ্চলের দেশ আজারবাইজানের প্রথম সারির স্বতন্ত্র
কণ্ঠস্বরের অধিকারী হিসেবে কবি ভাগিফ সামাদোঘলু বিবেচিত হন। ১৯৩৯ সালে ৫ই
জুন তিনি বাকুতে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০০ সালে তিনি 'ন্যাশনাল পোয়েট অফ
আজারবাইজান' এই উপাধিতে ভূষিত হন।
ভাগিফ সামাদোঘলু আজারবাইজান
পার্লামেন্ট (মিলি মজলিস)- এর সদস্য। উচ্চাঙ্গ সংগীতে পিয়ানোবাদক হিসেবেও
তিনি সমাদৃত। কবি হিসেবে তাঁর বিশেষত্ব থাকলেও তিনি একজন সফল নাট্যকার
হিসেবেও প্রতিষ্ঠালাভ করেন।
কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-এ
টেলিগ্রাম ফ্রম দি রোড(১৯৬৮), ফরচুন অফ দি ডে(১৯৭২), আই এম হিয়ার,
গড(১৯৯৬),ফার ফ্রম ইংল্যান্ড(১৯৯৯), দি রিং অফ ফরচুন(১৯৯৯)।
পথের নক্সা [Road Map,1986]
আমি কোথায়?
কোথায়? আমাকে বল।
প্লিজ, কিছুটা আলো ফেল
এই জায়গায় শুধু একটুখানি,
আর আমাকে দেখতে দাও কোথায় আমি,
এমনকি আমি যদি আর কখনো এখান থেকে বেরোতে না পারি
স্বর্গ আর নরক [Heaven and Hell,1964]
যখন আমি স্বর্গ দেখতে চাই
আমি আমার চোখগুলো বন্ধ করি।
যখন আমি নরক দেখতে চাই
আমি সেগুলোকে খুলে রাখি।
উদ্দেশ্য [ Purpose,1982]
এই চলছে অবিরাম গুঞ্জন
আমার মস্তিষ্কে আবার।
এটা আবার শুরু হয়েছে...
কে অথবা কি আমার দরকার,
হে ঈশ্বর?
অনেক দরজা কি রয়ে গেছে
জীবনের বারান্দায়?
আমি এক অন্ধ মানুষের হাতে ধরা
ছবির মত...
অচেতন [Unconscious, 1968]
অচেতন
দেখ,
আমরা এই বইটা পড়া শেষ করব
আমরা জেনে নেব ঘাতক কে।
তারপর আমরা ঘুমিয়ে পড়ব,
একই বালিশে মাথা রেখে।
আমরা আমাদের জীবন কাটাবো এভাবে,
একই ঘরবাড়ি আর একই বাচ্চা ভাগাভাগি করে,
আর আমাদের মাথা একই বালিশে
এত কাছাকাছি, তবু এত অচেতন।
শিক্ষালয় [Tutorial, 1982]
আমাকে শেখাও কিভাবে কবিতা লিখতে হয়,
আমাকে শেখাও, নেকড়ের থাবার আঁকা ছবি।
শেখাও আমাকে যাতে অন্যেরা জানে
কোথার থেকে আমার কথাগুলো আসে আর কোথায় তারা যায়।
আমাকে শেখাও যাতে আমার কবিতা গুলো
তোমার মত বেঁচে থাকা আর মাটিতে থাকার অধিকার পায়,
আমাকে শেখাও,নেকড়ের থাবার আঁকা...
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১|| কার্তিক ঢক্
গৃধিনীর ফুট-স্টেপ || কার্তিক ঢক্
এখন তোমার একাকিত্বকে সঙ্গ দিচ্ছে নিরবতার সা রে গা মা...
যদি নদীতে যাও,দেখবে খানিক বালি পেরিয়ে জল - তারপর খলবল্...
আসলে বালি ভেজানোর ঢেউ নেই
তোমার পায়ে!
ফড়িঙের মতো জলকে ছুঁতে চাও তুমি...
জলের যে শব্দ আছে - আছে জলজ প্রসাধনী -
তাকে কবে গায়ে মেখেছো?
তোমার বায়োমেট্রিকে গৃধিনীর ফুট-স্টেপ!
জল তো জল-ই
অযথায় ঘোলা করছো তাকে...
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১ || তামিমৌ ত্রমি
শারদীয় সংখ্যা ১৪৩১ || অভিজিৎ দাস কর্মকার
Friday, 13 October 2023
উৎসব সংখ্যা ১৪৩০ : প্রচ্ছদ
উৎসব সংখ্যা ১৪৩০ : সম্পাদকীয় নয় কিন্তু ,অভিজিৎ দাস কর্মকার
উৎসব সংখ্যা ১৪৩০ : কবিতা , চন্দ্রদীপা সেনশর্মা
চন্দ্রদীপা সেনশর্মা
উৎসব সংখ্যা ১৪৩০ : কবিতা , পল্লববরন পাল
উৎসব সংখ্যা ১৪৩০ : কবিতা , এলা বসু
উৎসব সংখ্যা ১৪৩০ : কবিতা , পিয়াংকী
উৎসব সংখ্যা ১৪৩০ : কবিতা , কিংশুক চক্রবর্তী
ঘোলা জল নদী
কিংশুক চক্রবর্তী
ঘোলা জলের নদী!
পুণ্যস্নানে বোধ ছিল গায়ের কা
ফল্গুর ভাষা নিয়ে যেতে পারেনি আ
বোধিবৃক্ষের নীচে
সারিতে প্রতীক্ষায় শব্দের পূজা
ঠেস দিয়ে মন্দিরের দেওয়ালে;
সমীক্ষার উপকরণে ভরে যায় ডালা
বেদিতে ছড়ানো ফল;
নরম শাঁস আর খোলসে তৃপ্ত চড়ুইয়ে
খুঁটে খেলে বীজ -
যন্ত্রণাটুকু উঠে আসে শুধু
আর প্রতিরোধ
স্বত্ব আমাদের, আরও গভীরের অন্
রেখে আসা অধিকারের
ঘোলা জল নদী!








.png)


















