Showing posts with label মে সংখ্যা. Show all posts
Showing posts with label মে সংখ্যা. Show all posts

Friday, 18 June 2021

প্রচ্ছদ

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||  প্রচ্ছদ || 





সূচি...

সম্পাদকীয় নয় কিন্তু ---

কালীকৃষ্ণ গুহ  বিকাশ চন্দ সুবীর ঘোষ পিনাকীরঞ্জন সামন্ত আলোক মণ্ডল অলোক বিশ্বাস দেবযানী বসু রিতা মিত্র চন্দ্রদীপা সেনশর্মা মন্দিরা ঘোষ মৌসুমী রায় কার্তিক ঢক্ অনুপ মণ্ডল সুধাংশুরঞ্জন সাহা গোবিন্দ ব্যানার্জি হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় হেমন্ত সরখেল তাপস গুপ্ত পার্বতি রায় রাখী সরদার  রাকা ব্যানার্জি তুলসীদাস ভট্টাচার্য চিরঞ্জীব হালদার পৃথা চট্টোপাধ্যায় সুকন্যা ভট্টাচার্য দেবলীনা চক্রবর্তী বঙ্গ রাখাল  নিবিড় সাহা দেবার্ঘ সেন রুনা দত্ত রুবি রায় নিমাই জানা মহঃ ওলিউল ইসলাম  

প্রচ্ছদ করেছেন : লীনা


সম্পাদকীয় নয় কিন্তু

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||











সম্পাদকীয় নয় কিন্তু    অভিজিৎ দাসকর্মকার

আমরা খুবই আনন্দিত। মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা মে ২০২১ সংখ্যায় প্রথমবার লিখলেন বহু পরিচিত কবি কালীকৃষ্ণ গুহ। জ্যেঠু আপনাকে ভালোবাসা শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানালাম।

প্রচুর লেখা এসেছে।বেশ কিছু অপরিনত লেখা।যা প্রকাশ করতে পারলাম না,আবার এ-মাসের শেষে (৩০শে জুন) জুন সংখ্যাতেও প্রকাশ করতে পারবো না।তাঁরা তাঁদের লেখায় আরো যত্ন নিন এবং টাইম পাশ হিসাবে কবিতা লিখি বা ৩৫০ লাইক কমেন্ট পাবার আশায় কবিতা লিখবেন না।এটা অনুরোধ। কারণ আপনার কবিতা বই আকারে বেরোলে ৩৫০ লাইক যাঁরা দিয়েছেন,তাঁদের বেশিরভাগই আগে হাত তুলবেন।

এই সংখ্যায় যাঁরা লেখা পাঠিয়েছেন অথচ এই সংখ্যায়,নেই তাঁদের লেখা,তাঁরা আগামী ৩০শে জুন,জুন সংখ্যার সূচির অপেক্ষা করুন। লেখা পছন্দ হলে অবশ্যঅবশ্যই প্রকাশিত হবে।

সকলে মাস্ক পরুন (ভ্যাকসিন ২টি ডোজ নেয়া হলেও),নিজের সময় ভ্যাকসিনেটেড হোন,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, স্যানিটাজার ব্যবহার করুন।(এটা সরকারি বিজ্ঞাপন হিসাবে দিলাম না,আমরা এভাবেই সচেতন থাকতে পারবো)। 


কবিতায়~ কালীকৃষ্ণ গুহ

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা || 











মুখের লেখাগুলির       কালীকৃষ্ণ গুহ

তাঁর সঙ্গে অনেক দিন দেখা হয় না
দেখা হলে
কী বলতে পারতাম তাকে?
বলতে কি পারতাম,
"মৃত্যু পার হয়ে এলাম" ?
না, পারতাম না।

মৃত্যুর কথা বলা বারণ।

তাকে বলতে পারতাম,
"গভীর রাত্রে মাঝে মাঝে দূরে কোথাও
একটানা ড্রাম বাজলে আমি তার শব্দ শুনতে পাই।
তুমিও শুনতে পাও কি?"


তার মুখের আত্মপ্রশংসার রেখাগুলির  দিকে 
তাকালে
কিছুই বলতে পারতাম না...

কবিতায়~ বিকাশ চন্দ

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||












জন্ম অসুখ    বিকাশ চন্দ

আগুনের আড়ালে ছায়ারা দুলছে অবিশ্বাস্য আত্মাহীন 
বাতাসের নিঃশ্বাসে কুঁড়ি আলো মুখে পাঁপড়ি খোলে---
উদ্দাম বাতাসের বিদ্রুপ ধূলিস্যাৎ সংসার বোঝে সব
হৃদস্পন্দন শোনাবো আমার এসো বুকে প্রাণের দোসর। 

অচেনা অন্ধকার ঘিরে আছে ভাঙাচোরা ঘরে পাঁজরে
জল জীবনের চিত্রপটে থমকে জীবন বাঁচার ছবি---
ঘিরে আছে কালো মেঘ আতঙ্ক চাঁদোয়া চেনে না গৃহলক্ষ্মী 
একান্ত ছায়া শরীর আগলে দু'হাতে সন্ধ্যায় পঞ্চমুখী শাঁখ। 

ছিন্নভিন্ন গাছের শরীরে তখন পাখিদের ঠোঁটের আদর ডাক
হাজারো দুঃখের ভেতর দিশেহারা ধান দূর্বা ভিটে হীন ঘর
থমকে আছে গলায় আত্মস্বর জানে প্রিয় ভালোবাসা মুখ
অপরূপ চেনা সবুজ নেই জলের ভেতর এখন জন্ম অসুখ। 


কবিতায়~সুবীর ঘোষ

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||











আত্মপ্ররোচনা  সুবীর ঘোষ

   

কিছু কী ফেলে যাচ্ছি ! কিছু কী ভুলে যাচ্ছি বেড়াতে বেরিয়ে পাখিটার ফেলে যাওয়া পালকের মোহে ? ভিতরে অদৃশ্য তাড়া -- অতিথিরা বসে আছে সন্ধ্যাকে কর্ষণে মুড়ে দেবে বলে । এমন অদৃশ্য হাতে আমার থাক্ না কিছু সান্দ্র উপহার । তেঁতুলপাতারা দোলে যূথবদ্ধ ফলের সোহাগে । তার থেকে আরো কিছু বেশি বেশি আশা থাকে মলয়সম্ভবা বাণী দক্ষিণের কাছে । অল্প এসো  গল্পে কৌতুকে এবং অবশ্য নিও সুরভরা সুরার সোরাহি । অশ্ব যায় অপরাহ্ণে অপহৃত প্রান্তরের খোঁজে । অস্ফুট বুটজুতোর শব্দে বর্ষা দূরে যায় । আত্মপ্ররোচনা আমি বশ্যতার ধারা বলে ভাবি ।

নদীতীরে ফেলে আসা ঘাসের চুপড়ি খুঁজে দেখ দেখি শৈশবের ফড়িং লুকিয়ে আছে কী না !


কবিতায়~ পিনাকীরঞ্জন সামন্ত

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||












জার্নি       পিনাকীরঞ্জন সামন্ত

আমার হার্ডডিস্কের মধ্যে যে গোলাপটি লুকিয়ে আছে তাকে আমি চিনি
আমার হার্ডডিস্কের মধ্যে যে 'ভালোবাসা' শব্দটি লুকিয়ে আছে তাকে আমি জানি 
এখন 
প্রশ্ন হচ্ছে গোলাপ ও ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য কী ?
খুঁজতে খুঁজতে দেখি
হাওড়া স্টেশনের বারো নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে সবুজ পতাকা উড়িয়ে, 
আমাকে নিয়ে কোল্ডফিল্ড এক্সপ্রেস যথারীতি বিকেল ৫-১০ মিনিটে হাওড়া স্টেশন ছেড়ে দুর্গাপুর অভিমুখে চলে যাচ্ছে আর আমি 
ট্রেনের জানালার পাশে বসে -  ঠিক এই মুহূর্তে একটি কবিতা লিখছি - 
জানালায় জড়িয়ে আছে আমার গোলাপ আর আত্মায় জড়িয়ে আছে আমার ভালোবাসা - 
রবীন্দ্রসেতু 
বিদ্যাসাগর সেতু 
তোমাদের দুজনকেই আমার বিদায় ।

কবিতায়~ আলোক মণ্ডল

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||












আলোক মণ্ডল -র কবিতা
জল ছবি জল

একটা দু'টো শামুক আর দু'একটি চাঁদ
উ হু চাঁদ নয়, চাঁদের জলছবি 
চাওয়া বলতে এটুকুই

সামলে, ভাতের হাঁড়ি 
শ্যাওলা আঁকে শিকড়
গড় দরজার ওপারে থাকেন রাধাবিনোদ

একটা দু'টো শামুক আর 
টিউব নেভানো টিউলিপ 
চাঁদ কা চাঁদ, চাঁদের জলছবি, ভ্যানিশ!

 
স্কাল্পচার 


খোলার পর আশ্চর্য নরম একটা গন্ধ
মাখো মাখো জ্যোৎস্নায় 
লবঙ্গের নিবিড় চাষ

মিউজিক সিস্টেমে জাজিম  jazz 
দূরে জাহাজ,লাইট হাউস
বদর-বদর সারিগান মরমীয়া

উপযুক্ত বতরে উৎরানো খণ্ড-ত গুলির
অন্দরমহলে জলসা,
তুমুল, এন্ডলেস! 
পিরানহো মাছ কী চায় 
দ্বিতীয় স্বরবর্ণ বাদ দিয়ে নন্দ কে খেতে, আস্ত শরীর! 

পাহাড়ি পাথরে আঁকে গুহামানুষ 
গুহাচিত্র, খাজুরাহো ভাস্কর্য। 

 
ম

সমুদ্রে ডুবতে থাকা বিকেলের বুকে অ আ ক খ যাই লিখুন নিফটি পতনে খড়কুটোর কোন ভূমিকা থাকে না।
এমন সরল নিপাতনের চিত্রকল্পে মশারির চারকোন ছেঁড়া জাল চেপে ধ'রে বৈকালিক প্রতিবিম্ব।পেট ফোলা মশার রক্ত অণুচক্রিকায় একটি হত্যা দৃশ্যের দরকার পড়ে না কেননা কল্পিত আখ্যানটি  তে কোন কান্না থাকেনা, থাকে রিরংসা।
সেপ্টেম্বরে উল্কাপাত নিয়ম মাফিক- স্টিফেন হকিংয়ের হাসিটুকুই বুঝতে যথেষ্ট, হুইল চেয়ারও জানে তাকে নিয়ে যতই মস্করার "ম" কিংবা আশ্রয়স্থানভোগী বর্ণের লুম্পেনসি হোক
শেষ বর্গের প্রথম বর্ণ '  ম '।নাসিক্য কান্নাধ্বনি, নির্ঘাত নাস্ত্রাদামুস!


কবিতায়~ অলোক বিশ্বাস

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||













আমরা যাকিছু চাইছি   অলোক বিশ্বাস

গান আসছে। গাইবার আলো চাই।
নৌকো আসছে। জলভরা নদী চাই।
কোথাও যেতে কারো ভয় নেই, যদি 
সন্ত্রাস দাঁড়িয়ে না থাকে। রাস্তাকে ভালোবেসে ল্যাম্পপোস্ট জানলা খুলছে।  আলো আর অন্ধকার বিষয়ে সকল মিথ্যাকে অ্যাস্ট্রের ভিতর রাখার ব্যবস্থা চাই। কিছু মুহূর্ত আসে, গানের ওপর অবিরাম নির্ভর করতে চাই। অভূতপূর্ব আলোর ভাবনায়, অভূতপূর্ব নৌকোর ভাবনায় বসবাস সকলকে বলতে চাই...

কবিতায়~ দেবযানী বসু

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||












তুমি আমার ব্রক্ষ্মকমল     দেবযানী বসু

সূর্যমুখীর চুরি করা আলোয় তোমায় সাজাই
দস্যু হও কি বাল্মিকী হও
কিংবা নেটবাহিয়া সপ্রাণ হও
পড়ে থাকি সেই রেবা নদীর তীরেই
যাদুবাস্তব কমল তোমার হৃদয়খানি
বিদ্যাপতির ডাইরি আর ভানুসিংহর  পদাবলী
ঐখানে কি আছে সকল কমলিনী

রোজ খুঁজি নিজেকে। 


কবিতায়~ রিতা মিত্র

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||












পেশাদারী   রিতা মিত্র

কোনো প্রমাণ রাখিনা কোথাও
পেশাদারীত্বের নিপুণ উদাহরণ
প্রতিটি হত্যার পর, ফেরি করি রহস্য গল্প
রক্ত মুছতে মুছতে লাল হয়ে ওঠা মাদুরের উপর
অথিতিদের 'রেড কার্পেট অভ্যর্থনা' জানাই
মোরম দেওয়া রাস্তাগুলো আমার গল্প শুনতে শুনতে কেমন
এঁচোড়ে পাকা হয়ে উঠছে
তারা জানে না ' এক লাফে জাতীয় সড়ক ' হয়ে ওঠা যায় না
জীবনের সায়াহ্নে পৌঁছে আমিও মনে রাখিনি
প্রথম কবে অস্ত্রে শাণ দিয়েছিলাম।  


কবিতায়~ চন্দ্রদীপা সেনশর্মা

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||











ইশারা, সন্ধের   চন্দ্রদীপা সেনশর্মা
                  
হাঁটতে হাঁটতে দাঁড়িয়ে পড়ি জেব্রা ক্রসিং-এ
কবে থেকে হাঁটছি মনে পড়ে না।
দুর্ঘটনা ঘটবে না ভেবে হাঁপ ছাড়ি

মেঘাবৃত আকাশ। মেঘ জমছে পরতে পরতে
ট্র্যাফিকলাইট লাল কমলা সবুজ সংকেত দেয়।

বৃষ্টি আসে।
ঝাপসা সিগনালের গা বেয়ে গড়িয়ে যায়
আবহমানের জল।

পাপপুণ্যের জটিল অঙ্ক মাথার ভিতরে

ধুয়ে যেতে থাকে। রমণক্লান্ত মেঘ, বৃষ্টি থামে।
আর্দ্র বাতাসে রতির ঘ্রাণ--
ফেরার পথ...ট্র্যাফিকলাইট...জেব্রা ক্রসিং...

কত মূক-বধির ভাবনা পেরোতে পেরোতে
সন্ধের মুখোমুখি বয়স নতজানু হয়।

৪ এপ্রিল, ২০২১, সন্ধে ৮.৫৮

কবিতায়~ মন্দিরা ঘোষ

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||












কবিতারা     মন্দিরা  ঘোষ

তুমি জোর করো না ওদের 
ঠেলা মারো না কখনও 
বরং ওরা প্রায়ই  ধাক্কা দিয়ে
ফেলে দেয় মেঝেতে
যন্ত্রণায় ককিয়ে ওঠো
মদ্যপ  হয়ে ওঠে ওরা 
লাথি মারে,রক্ত ফেঁপে ফুলে ওঠে
যৌনাঙ্গে জ্বালা ধরায়

ঘাড়ের রগে, সমস্ত রোমকূপে  হলকা
গ্রীষ্মের ঝলাসের মতো
সঙ্গে একটা  নিব
যে গর্ত খুঁড়ে  দেয় অস্তিত্বে 
সোজা থাকতে পারো না
 বলাৎকারের পর উঠে দাঁড়ানো
 রাস্তার কুকুরের মতো তোমাকে মনে হয়
ধীরে ধীরে সমস্ত চিৎকারের  বমি
 ঢেলে  দাও সাদা কাগজের ওপর

কবিতায়~ মৌসুমী রায়

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||













অচেতন        মৌসুমী রায়

এসো সন্ধে হলে ছিপি খুলে বসি
শশা কুঁচি টুকটাক পকোড়ার ছাঁট
মুন্ডপাত করি আমি তুমি বাদে সব্বাকার।
কার পাকা ধানে কে দিয়েছে মই
কেড়েছে কে কাকে গাছে তুলে
ভুলে যাই ঝোড়ো সেই রাত একখানা মোমবাতি 
ফুটো ছাতা একটাই হাত ধরে রাখা বন্ধুরহাত
চাপ! আস্ত জীবনটাই,উর্ধ্ব নিম্ন সর্বমুখী
চেপ্টে যাওয়া তোবড়ানো প্লাষ্টিকপট
বেবাক দূষণ।মাঝেমাঝে ফুটফাট মাইকভাষন
পরিবেশ বাঁচবে নাকি মরণকুঁয়ো
ট্রাপিজের খেলা দেখা সয়ে যাওয়া চোখ ঢেকে রাখি
কালো চশমার ছানি দিয়ে ঢাকা থাক শাক মাছ ঘোলাজল ছিপটাকে ভেঙে 
এসো বাতায় গুঁজি যাবতীয় ভুল
সন্ধে নেমে আসে অন্ধকার এসো ছিপি খুলে বসি
চেতনার ছাইভষ্ম ভাসুক আরেকবার,ভেসে যাক।

অণুগল্প~ কার্তিক ঢক্

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||












ত্রিফলা-জল    কার্তিক ঢক্ 

দুটো ছাদেই পর্যাপ্ত আলো-হাওয়ায় ফুল ফুটে আছে অনেক! 

মন খারাপের বিষয় গুলো বেছে বেছে স্মৃতি থেকে তুলে নিচ্ছিল সুজান, ওর দুচোখে ক্লান্তি, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে দেখতে...

আসলে একটা ত্রিভুজের ভিতরে হেঁটে চলেছে সে 
কয়েক বছর ধরে, বলা ভালো হাঁটা ছাড়া আর কিছুই পাইনি  সুজান , প্রচুর সময় অপচয় হয়েছে তার, ইচ্ছে করলেই থেমে যেতে পারে সুজান, তবুও  কেন যে থেমে যেতে পারেনা সে! 
বোধহয় অন্য মেরুর "ধরি মাছ না ছুঁই পানির" মাধ্যাকর্ষণটি সচল থাকায়... 

বহুবার পূবেলাকে বলেছে সুজান  তার যন্ত্রণার কথা, বলেছে তার ভিতরে ভিতরে ক্ষয়ে যাওয়ার কথা
পূবেলাও জানে সেকথা, কেননা তার ৬০°হাসি আর ৮০° দৃষ্টি নিশ্চিত করে সেই ব্যাকরণ! 
তবু সে সামাজিক অনুশাসন আর অহেতুক দ্বিধার 
চৌকাঠে দাঁড়িয়ে  নিজের ইচ্ছে গুলোকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলছে রোজ, কেননা সে নিজেকে শুধুই মেয়ে ভেবেই বেঁচে আছে!  তার ভালো লাগার সরলরেখাটিকে কখনো  সন্মান করার সাহস দেখাতে পারেনি! 

সুজান বহুবার বোঝাতে চেয়েছে পূবেলাকে যে,
যেভাবে নিজস্ব পৃথিবীর ভার বহন করে চলেছে সে নিজের ! 
পূবেলাও তার পৃথিবী নিয়ে আনন্দে থাক, হাজার ফুল ফোটাক দায়িত্ব কর্তব্যের সমারোহে, নিজের জন্য কখনোই সেখানে কাঁটার জন্ম হতে দেবে না সুজান !
শুধু একটু সময়,একটু একান্ত সময় আশা করে সে... 
আসলে কেউই তো ইচ্ছে করে পুঁতেনি অদৃশ্য এই গভীর চারাটিকে, আপনা আপনি জন্ম হয়েছে তার !

একবার হয়াটস এপ্ এ একটা নূপুরপরা পায়ের  ভিডিও  পাঠিয়েছিল পূবেলা!
সেটা রোজ  দেখে সুজান, কি সুন্দর আলতা আঁকা দুটো পা , কি মিষ্টি শব্দ  পায়েলের !

এখন সেটাই শোনে! ,অবিরাম বেজে চলেছে
ঝুম্ ঝুম্  ঝুম্ ঝুম্...
শুধু সুর খুঁজে পায়না বলে সঙ্গত দিতে পারেনা সুজান!!!  
তবু, দুটো ছাদেই অসংখ্য ফুল ফুটে চলে রোজ৷৷  
 

কবিতায়~ অনুপ মণ্ডল

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||












কনফুশিয়াসনেস     অনুপ মণ্ডল

ছোট্ট একটা খাল,লাফিয়ে পার হতে গিয়ে যত বিপত্তি
ঘুমের মধ্যে হঠাৎই দেখে ফেললাম সাদা তরমুজ
দেখা হল তোমার সঙ্গেও কনফুসিয়াস
আমার হাতে ছিল খাগের কলম
আকাশের রঙ বেদনারহিত হলে
মেঘের মেধা ঘন নীল হবেই হবে
দরজার পাশে খুলে রাখা থাকবে রেশমের সোহাগ

পাশের বাড়িতে একটু আগেও
সিঁড়ি দিয়ে ওঠা এবং নামার দুদ্দার আওয়াজ চলছিল
সব চুপচাপ,পুলিশ আসার অপেক্ষা শুধু
ফেটে যাওয়া বেলুনের অতি প্রসারণশীলতায় অবুঝ শিশু
সাত সকালে চিল-চিৎকার করে ফাটিয়ে ফেলছে আকাশ



কবিতায়~ সুধাংশুরঞ্জন সাহা

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||













গোপনতা        সুধাংশুরঞ্জন সাহা

সত্য গোপনের দক্ষতা মানুষের অসীম।
এই গোপনতা না থাকলে,
দুনিয়ার প্রেম অভিসার পরকীয়া
সব ভেস্তে যেত।
রহস্যহীন হত শিল্প সাহিত্য কাব্যসৃষ্টি ।

মানুষের মনই গোপনতার মূলকেন্দ্র।
মানুষের মনের কথা প্রকাশ্যে আসে সামান্যই,
বেশিরভাগ থাকে গোপন।
মিথ্যের কুয়াশা বুনে বুনে মানুষই জানে
সত্য গোপন করার প্রকৌশল।


কবিতায়~ গোবিন্দ ব্যানার্জী

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||












ছেড়ে যায় বন্দরের মাটি    গোবিন্দ ব্যানার্জী

তারপরেও আঁকড়ে ধ'রে থাকে স্বপ্নযান 
একটা সান্ধ্যকালীন নিবিড়তা 
অথবা কালো শিরার উন্মেষ 
তন্নতন্ন ক'রে টাঙিয়ে রেখে যায় দোচালা... 
নরম ফুলগুলো একবার ঝ'রে যায় 
ঘুমিয়ে পড়ে পড়ন্ত রোদের আলগা ছায়ার ভিতরে

পরিপাটি নির্মিতি শেষ হ'লেও 
চটা উঠে উঁকি মারে উঠোনের স্মৃতি বিস্মৃতি 
জলের ফোঁটাগুলো জেগে পাহারা দেয় তাদের
যেদিন ঘরের চৌহদ্দিটা অচেনা পোশাক জড়িয়ে
নেমে আসে...আবর্তিত হয় উন্মনা মায়া

সবটাই উল্টে রাখা পাতার ভিতর থেকে
নেমে আসার পর রঙ বদলে নেয় মুখ বুজে 
একটা নৌকো বাঁধা থাকতে থাকতে 
বহুদিন আগেই শেষমেষ ছেড়ে যায় বন্দরের মাটি

কবিতায়~ হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা || 












অসফল স্বপ্নের মতো একটা নদী    হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


অসফল স্বপ্নের মতো একটা নদী

চারদেওয়ালের ছায়া থেকে অনেক দূর দিয়ে 

এমনভাবে বয়ে যাচ্ছিল যেন তাকে কেউ চেনে না 

তাকে কেউ রাস্তা বলে দেবে না এমন সম্ভাবনাও ছিল 

অথচ চারদেওয়ালের ভিতের থেকে এমনসব দীর্ঘশ্বাস 

উঠে আসছিল যা শরীর বাঁকিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট 

গাছের নীচের কয়েকজনের চোখ থেকে আমরা 

পালাচ্ছিলাম প্রাত্যহিকতায় নদী না থাকায়

মনে হয় এটাই আমাদের শেষ অস্বস্তি 

কারণ আগামী প্রজন্ম নদী চেনে না



কবিতায়~ হেমন্ত সরখেল

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||












অবরোধ     হেমন্ত সরখেল 
                  
পালে হাওয়া লেগে গেলেই ঘুড়ি
একটানে বাড়তে থাকে লক্ষ্মীপুজোয় বসা
ফরফরে বামুনের মতো |

তাকে গোঁত্তা খেতে হবে মোহল্লার আনাচেকানাচে,
লাট খেতে খেতে শত্রুকে মিত্র আর মিত্রের শত্রুতা
দেখেও না দেখার ভান করে বাড়তে হবে
সাইকাসের মতো, যার কাণ্ডে ঝুলে আছে উত্তরাধিকারী পেট
অঙ্কুরোদ্গম নিয়ে যজমানের ঘরে ঘরে |

কোথায় যেন যাবে বলে শুরু করা যাত্রা
বেমালুম ভুলে স্থবির হয়েছে পাল 
আর বাতাসের ফাজলামি দেখে হেসে কুটিপাটি হয়েছে অক্ষয় বট |

এসবের পর আর নতুন করে
নৌকাবিলাসের ইচ্ছে জাগে না |

কবিতায়~ তাপস গুপ্ত

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || মে সংখ্যা ||













পোড়া মাটির শিং তাপস গুপ্ত


আঙিনা অলিন্দের শিরায় শিরায় ঢু মেরে

অস্থির শৈশব মাথা ঘষে

ঘষে ঘষে গজায় শিং

সবুজ সিন্ধুলিপি ঘাস

প্রসব বেদনায় গাঢ় হয় আরও পোড়ামাটি ঘিরে


জোর দিলে শব্দে য ফলা আসে

পান যুক্ত প্রণাম খাদ ঝরিয়ে

আর্তি জাগায়

তারা জানে রক্ত দ্বীপে  অপেক্ষায় আছে

রাত্রির  মাংসাশী দেহ সব আবহমান

ঘন রক্ত মেখে শিং দুটো আঙিনা জুড়ে

ঘুমায় নির্বিষ বিরতিহীন শাশ্বত বীজ ক্ষেত্রে।