Friday, 18 June 2021
প্রচ্ছদ
সম্পাদকীয় নয় কিন্তু
আমরা খুবই আনন্দিত। মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা মে ২০২১ সংখ্যায় প্রথমবার লিখলেন বহু পরিচিত কবি কালীকৃষ্ণ গুহ। জ্যেঠু আপনাকে ভালোবাসা শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানালাম।
প্রচুর লেখা এসেছে।বেশ কিছু অপরিনত লেখা।যা প্রকাশ করতে পারলাম না,আবার এ-মাসের শেষে (৩০শে জুন) জুন সংখ্যাতেও প্রকাশ করতে পারবো না।তাঁরা তাঁদের লেখায় আরো যত্ন নিন এবং টাইম পাশ হিসাবে কবিতা লিখি বা ৩৫০ লাইক কমেন্ট পাবার আশায় কবিতা লিখবেন না।এটা অনুরোধ। কারণ আপনার কবিতা বই আকারে বেরোলে ৩৫০ লাইক যাঁরা দিয়েছেন,তাঁদের বেশিরভাগই আগে হাত তুলবেন।
এই সংখ্যায় যাঁরা লেখা পাঠিয়েছেন অথচ এই সংখ্যায়,নেই তাঁদের লেখা,তাঁরা আগামী ৩০শে জুন,জুন সংখ্যার সূচির অপেক্ষা করুন। লেখা পছন্দ হলে অবশ্যঅবশ্যই প্রকাশিত হবে।
সকলে মাস্ক পরুন (ভ্যাকসিন ২টি ডোজ নেয়া হলেও),নিজের সময় ভ্যাকসিনেটেড হোন,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, স্যানিটাজার ব্যবহার করুন।(এটা সরকারি বিজ্ঞাপন হিসাবে দিলাম না,আমরা এভাবেই সচেতন থাকতে পারবো)।
কবিতায়~ কালীকৃষ্ণ গুহ
কবিতায়~ বিকাশ চন্দ
কবিতায়~সুবীর ঘোষ
আত্মপ্ররোচনা সুবীর ঘোষ
কিছু কী ফেলে যাচ্ছি ! কিছু কী ভুলে যাচ্ছি বেড়াতে বেরিয়ে পাখিটার ফেলে যাওয়া পালকের মোহে ? ভিতরে অদৃশ্য তাড়া -- অতিথিরা বসে আছে সন্ধ্যাকে কর্ষণে মুড়ে দেবে বলে । এমন অদৃশ্য হাতে আমার থাক্ না কিছু সান্দ্র উপহার । তেঁতুলপাতারা দোলে যূথবদ্ধ ফলের সোহাগে । তার থেকে আরো কিছু বেশি বেশি আশা থাকে মলয়সম্ভবা বাণী দক্ষিণের কাছে । অল্প এসো গল্পে কৌতুকে এবং অবশ্য নিও সুরভরা সুরার সোরাহি । অশ্ব যায় অপরাহ্ণে অপহৃত প্রান্তরের খোঁজে । অস্ফুট বুটজুতোর শব্দে বর্ষা দূরে যায় । আত্মপ্ররোচনা আমি বশ্যতার ধারা বলে ভাবি ।
নদীতীরে ফেলে আসা ঘাসের চুপড়ি খুঁজে দেখ দেখি শৈশবের ফড়িং লুকিয়ে আছে কী না !
কবিতায়~ পিনাকীরঞ্জন সামন্ত
কবিতায়~ আলোক মণ্ডল
কবিতায়~ অলোক বিশ্বাস
কবিতায়~ দেবযানী বসু
সূর্যমুখীর চুরি করা আলোয় তোমায় সাজাই
দস্যু হও কি বাল্মিকী হও
কিংবা নেটবাহিয়া সপ্রাণ হও
পড়ে থাকি সেই রেবা নদীর তীরেই
যাদুবাস্তব কমল তোমার হৃদয়খানি
বিদ্যাপতির ডাইরি আর ভানুসিংহর পদাবলী
ঐখানে কি আছে সকল কমলিনী
রোজ খুঁজি নিজেকে।
কবিতায়~ রিতা মিত্র
কোনো প্রমাণ রাখিনা কোথাও
পেশাদারীত্বের নিপুণ উদাহরণ
প্রতিটি হত্যার পর, ফেরি করি রহস্য গল্প
রক্ত মুছতে মুছতে লাল হয়ে ওঠা মাদুরের উপর
অথিতিদের 'রেড কার্পেট অভ্যর্থনা' জানাই
মোরম দেওয়া রাস্তাগুলো আমার গল্প শুনতে শুনতে কেমন
এঁচোড়ে পাকা হয়ে উঠছে
তারা জানে না ' এক লাফে জাতীয় সড়ক ' হয়ে ওঠা যায় না
জীবনের সায়াহ্নে পৌঁছে আমিও মনে রাখিনি
প্রথম কবে অস্ত্রে শাণ দিয়েছিলাম।
কবিতায়~ চন্দ্রদীপা সেনশর্মা
হাঁটতে হাঁটতে দাঁড়িয়ে পড়ি জেব্রা ক্রসিং-এ
কবে থেকে হাঁটছি মনে পড়ে না।
দুর্ঘটনা ঘটবে না ভেবে হাঁপ ছাড়ি
মেঘাবৃত আকাশ। মেঘ জমছে পরতে পরতে
ট্র্যাফিকলাইট লাল কমলা সবুজ সংকেত দেয়।
বৃষ্টি আসে।
ঝাপসা সিগনালের গা বেয়ে গড়িয়ে যায়
আবহমানের জল।
পাপপুণ্যের জটিল অঙ্ক মাথার ভিতরে
ধুয়ে যেতে থাকে। রমণক্লান্ত মেঘ, বৃষ্টি থামে।
আর্দ্র বাতাসে রতির ঘ্রাণ--
ফেরার পথ...ট্র্যাফিকলাইট...জেব্রা ক্রসিং...
কত মূক-বধির ভাবনা পেরোতে পেরোতে
সন্ধের মুখোমুখি বয়স নতজানু হয়।
৪ এপ্রিল, ২০২১, সন্ধে ৮.৫৮
কবিতায়~ মন্দিরা ঘোষ
কবিতায়~ মৌসুমী রায়
অণুগল্প~ কার্তিক ঢক্
কবিতায়~ অনুপ মণ্ডল
কবিতায়~ সুধাংশুরঞ্জন সাহা
কবিতায়~ গোবিন্দ ব্যানার্জী
কবিতায়~ হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
অসফল স্বপ্নের মতো একটা নদী হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
অসফল স্বপ্নের মতো একটা নদী
চারদেওয়ালের ছায়া থেকে অনেক দূর দিয়ে
এমনভাবে বয়ে যাচ্ছিল যেন তাকে কেউ চেনে না
তাকে কেউ রাস্তা বলে দেবে না এমন সম্ভাবনাও ছিল
অথচ চারদেওয়ালের ভিতের থেকে এমনসব দীর্ঘশ্বাস
উঠে আসছিল যা শরীর বাঁকিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট
গাছের নীচের কয়েকজনের চোখ থেকে আমরা
পালাচ্ছিলাম প্রাত্যহিকতায় নদী না থাকায়
মনে হয় এটাই আমাদের শেষ অস্বস্তি
কারণ আগামী প্রজন্ম নদী চেনে না
কবিতায়~ হেমন্ত সরখেল
কবিতায়~ তাপস গুপ্ত
পোড়া মাটির শিং তাপস গুপ্ত
আঙিনা অলিন্দের শিরায় শিরায় ঢু মেরে
অস্থির শৈশব মাথা ঘষে
ঘষে ঘষে গজায় শিং
সবুজ সিন্ধুলিপি ঘাস
প্রসব বেদনায় গাঢ় হয় আরও পোড়ামাটি ঘিরে
জোর দিলে শব্দে য ফলা আসে
পান যুক্ত প্রণাম খাদ ঝরিয়ে
আর্তি জাগায়
তারা জানে রক্ত দ্বীপে অপেক্ষায় আছে
রাত্রির মাংসাশী দেহ সব আবহমান
ঘন রক্ত মেখে শিং দুটো আঙিনা জুড়ে
ঘুমায় নির্বিষ বিরতিহীন শাশ্বত বীজ ক্ষেত্রে।



















