Sunday, 25 September 2022

কবিতার মালা || জয়তী দাস

 

                                                                            জয়তী দাস


পাথর প্রতিমা


আমি তখন নায়াগ্রার শব্দ শুনছি ধীর লয়ে,
কিংবা কোনো পাথর প্রতিমার মন্ত্রধ্বনি.. 

বাইরে চাপা আলো অন্ধকারে 
বিকালের ছোঁ-খেলা,
পরিপাটি ভাঁজ হয়ে আসছে সংসারের যাবতীয় দপ্তরখানা -

পাখিদের ছুটি হয়ে গেলো
নীল আকাশ ধীরে ধীরে পশ্চিমে পা বাড়ালো -
শুধু ওই প্রতিমা, 
নদীর কাছেই ঋণ শোধে ব্যস্ত! 

লিখতে পারতাম ওর সোনার বালা হারিয়ে গেছে অথই জলে, 
ওর শরীরের অষ্টধাতু গলিয়েছে মহাজন শ্রেণী-
জানি, ওর কঙ্কালের ফাঁকফোকরে নীল কাঁকড়া বাসা বেঁধেছে -

তবুও অপেক্ষা ওর ফুরায় না... 
পথে পথে ছুটে বেড়ায় ইচ্ছে রঙের বেদুঈন ঘোড়া 
স্থির অচঞ্চল মূর্তি 
ডুবতে থাকে মানুষের ভিড়ে...





কবিতার মালা || জয়া বসাক

 

                                                                  জয়া বসাক



যখন নিজেকে লিখি...


আমি চিৎকার করি রোজ
কোনো এক অন্ধকারের কাছে                                                                            
ছায়ার কাছে...

আয়না ভেবে যাকে কাছে টেনে নেই হাসি...
তার কাছে তো নিজের মূর্তিটুকুই ভেসে ওঠে

হাতের রেখার মতো,অস্থির এক দর্শনলিপি...



কবিতার মালা || উমা মণ্ডল

 

                                                                        উমা মণ্ডল


বেহালা                                                                            

 

উপত্যকা থেকে ডাক পাই…

কোন সুদূরের প্রান্ত থেকে ফিরে ফিরে আসা স্বর

অবুঝের মতো ঘাড়ে ধাক্কা দেয়; তখন উত্তপ্ত

জিভে না খাওয়া ভাতের অংশ

ধানের কাহিনী

 

ভাবিনি তো, এইভাবে; গতিপথ...

ইথারে ইথারে ডানা দুটি

সামনে দাঁড়িয়ে গতজন্ম

চলন্ত গুহার হাতছানি পার করে সার্বভৌম

গাঢ় রং, মায়াছবি

 

অতলান্ত হায়

কিছুই বুঝিনা 

শুধু সামনের কুয়াশায় মাখা জানালায়

যে মেয়েটি স্তব্ধ

হাতে বেহালার মায়াবীণা

সে কি আমি, না আমার জাতিস্মর...



কবিতার মালা || পৃথা চট্টোপাধ্যায়

 

                                                                          পৃথা চট্টোপাধ্যায়


হাঁস উড়ে এসেছিল   

                                                                     
হাঁস উড়ে এসেছিল একদিন উড়াল ডানায়
বৃষ্টি ভেজা শহরের সন্ধ্যা ঘিরে অথচ শীতের কাল
আধুনিক শহরের অনেক অসুখ
অসুখী মানুষ ঘোলা জলে

শরীরের ঘ্রাণ চায়
হলুদ বোতাম ফুল মর্নিং গ্লোরি
সকালের আড়মোড়া ভেঙে
দুঃখ নিয়ে বেড়ে ওঠা সুখ দেখে ভেবেছিল

দুঃখের ঘুম হয় নাকি ?
জানালাটা খোলা থাক
সৃষ্টি সুখ আসে
ঝিরিঝরি জল গায়ে লাগে




কবিতার মালা || ঋদ্ধি ঘোষ

 

                                                                              ঋদ্ধি ঘোষ


কাঁটাতার

কাঁটাতার ছড়িয়ে দিয়েছে সে এক মারণ অসুখ ! ঘাস-বেদী জীর্ণ। দু'একটা হরিণ কচি শাবককে নদীর আয়না চেনায়, চোখ থেকে ফিরিয়ে ন্যায় খিদের আলপনা। একই বনতল, চরাচর ; হারানো গেরস্থালির চালে কস্তুরী রোদ ঝিমিয়ে পড়ে রোজ।

মেহুলী বাতাস একদিন স্বদেশ এঁকে বলেছিল : 
'এই সত্য--, রক্ত গাঢ় হ'লে ঝুঁকে পড়ে দিন।'

দো-পাকা উনুনের আলোয় মা'কে দেখি। বিন্দি, মনে পড়ে তোর ? ধান-আলুর সোঁদাগন্ধে সিদ্ধ সকাল। সেই যে-- 'তুষ-তুষালি' সেরে ফুলপিসি বেরোল ! তারপর সংবাদ। মজা ডোবা, বাঁশডগে পত্ পত্ ছেঁড়া লালপাড়, কত ব্রতকথা এভাবে গ'লে গ্যাছে...জ্বালানো চিৎকার ; জ্বলন্ত মোমে।

সহস্র সুষুপ্তী থেকে জেগে উঠল না কাচগুঁড়ো! ভাঙাকাচে বটছায়া, ক্ষত শৈশব, অনিদ্রার পাখি। বিকোনো উঠোনে ফোঁড় তোলে চেনা মুখ ; খুচরো পয়সা আর খই ছড়ানো কাঁথা। তবুও দু'পারে 
শরৎ কুসুম, দশমী এলেই একাকার ইছামতী...




কবিতার মালা || সোমা মুখোপাধ্যায়

 

                                                                 সোমা মুখোপাধ্যায়



জলছাপ
         

শ্রাবণের একটানা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে
পৌঁছে যাই অতীত দিনে।
হাটুজলে বাগবাজার,হাতিবাগান,কলেজ স্ট্রিট।
তখন ঊনিশের উন্মাদনায় বৃষ্টিতে,বর্ষণে,
ধারাজলে রোমাঞ্চিত যা কিছু সব।
সব ইচ্ছাগুলোকে নোঙর করে পেরিয়ে যাওয়া
স্বপ্নের সেই সব দিন।
আজও সেই চেনা অচেনা বৃষ্টিবিন্দুরা
শ্রাবণ হয়ে লুটোপুটি খায়  ভগ্ন হৃদয়ে।
পরিত্যক্ত রাস্তায়, কফিহাউসের গলিতে
সেই জলছাপ আজও লেগে আছে।
কিছুদিন পরে ,
মেঘদিগন্ত পেরিয়ে শরৎ নামলে,
ঝিলের জলে নেমে তুলে নেবো একশত আট পদ্ম 
হৃদয়ের সব আখরকথা ডুবে যাবে
বীরেন্দ্রিয় ভোরে।



কবিতার মালা || পিয়াংকী

 

                                                                           পিয়াংকী


আস্তানা


আমার কোনো ব্যক্তিগত কোণ নেই
যেখানে ডুবিয়ে রাখতে পারি পরম পুরুষের গোপন অরক্ষণ
ডুবসাঁতার থেকে উঠে বলতে পারি,
'আমাকে ভিজিয়ে দাও একটিবার'

লাটাইয়ে টান পড়লে গুটিয়ে যায় নগররক্ষকের অস্ত্রসজ্জা
অবিরাম ললাটের টানে মুছতে থাকে পূর্বজন্মের তিলক 
প্রাচীন রামধনুতে লেগে থাকা সম্ভোগ বিলিয়ে দিই হাম্বীর রাগের মধ্যমস্বরে
 
অলিখিত উপশমের পাশে  মাছি এসে বসে প্রতিদিন 
সন্ধের নিথর পুকুরঘাটে বোবা পাতা আর কয়েকটা সাদা বক, 
উড়ে যাবার কথা ছিল এদের দু'তরফেই। 
অথচ সন্ধ্যা লাগার পরও এরা জেগে রইল জলের সিঁড়ি আর একটা আশ্রিত ব্যাখ্যার পাশে...






কবিতার মালা || বর্ণজিৎ বর্মন

 

                                                                     বর্ণজিৎ বর্মন


ঘর                                                                                                         

ভাঙা । তবু স্বপ্ন দেখে সিঁড়ি 

তুমি প্রেম -
              অনন্তকাল জড়িয়ে আছি।

আশ্রয় দিয়েছ বিষুবরেখা জুড়ে-

চোখ বন্ধ করলেও সুস্পষ্ট দেখি 
তোমার সমস্ত নীল শরীর -

আগুন তুমি ভালোবাসো 
- গোপন প্রেমিক




কবিতার মালা || প্রিয়াঙ্কা পিহু কর্মকার

 

                                                                 প্রিয়াঙ্কা পিহু কর্মকার 


হঠাৎ


হঠাৎ - ভাঙাচোরা সচেতনতা -
ভাবচ্ছি সততার ফাঁদে অনুকরণ করছে -
জীবন্ত নাগরিকতা । 

শব্দের - চিৎকার শোনা যায় -
ভূমিকার চিড়িয়াখানায় । 

ফ্যাকাশে ভুল গুলো -
হাজার হাত ধোওয়া করছে আজ । 

যোনির জানালায় শুদ্ধ অন্ধকার ,
হঠাৎ - মনে হল পায়ের কাছে খুদিয়া নদ 
জলে ধুয়ে যাচ্ছে যত সন্তাপ ,
যত খসখসে দগ্ধ শ্লীলতা । 

হঠাৎ - পোড়া লাল , টকটকে লাল , সিদুঁরের লাল 
প্রণয়ের বিক্ষোভে দৃঢ় 
অনুরক্ত । 

চাদ্দিক নিঝিম নিস্তব্ধ ---- হঠাৎ ....!






কবিতার মালা || ডালিয়া রায়

 

                                                                         ডালিয়া রায়


তোকে জানালাম

যদি  বৃষ্টি  হোস চোখের দৃষ্টি হোস, নিয়ে যাবো মেঘের  পাড়ায়। 
খুব  আলতো করে  তোকে রেখেছি  ধরে বকুল বিছানো  মনের  ঘর টায়।

আনকোড়া যত  সুখ  আছে , রোজ ডাকছে
কাছে তোকে, তুই ও আছিস  বাঁধা পরে 
আমার মনের  একতারে।

রাত বলে আমি সাথী  হব , বৃষ্টির রূপকথা
লেখা হবে চোখের পাতায়।
শুকতারা বলে  আমি আছি  তাই দিশেহারা
আজ দুজনায়।

পাছে  ঘুম  এসে পরে  দুচোখে , হাসি ধরে  রাখি
অধরে। তোকে জানালাম মনে  মনে  বৃষ্টি ভিজলাম ।



কবিতার মালা || পিঙ্কি ঘোষ

 

                                                                          পিঙ্কি ঘোষ



অচেনা প্রতিশ্রুতি                                                                                                                    

    
বহুদিন ধরে অপেক্ষায় আছি
 
তবুও ধোঁয়াশার চাদর সরেনি,
সময়‌ আর সম্পর্কের গাঁটছড়া
বাঁধা যায়না বেহিসাবী আবদারে:
আপনতার বেড়াজালে বন্দী প্রেম।
বিবর্ণ আকাশে রামধনুর খোঁজে
আঁচল উড়িয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরে 
আবারও হারিয়ে যাই চন্ডালিকায়,                       
পর্দার আড়ালে চেনা চেনা মুখ নিয়তি-

নতুন সূর্য, নুতন সকাল, অচেনা প্রতিশ্রুতি।


Monday, 25 July 2022

জন্মদিন সংখ্য়া ~ দেবলীনা

 || মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  দেবলীনা 

শুভ জন্মদিন দেবলীনা , মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা এবং আমার তরফ থেকে তোমাকে আগামীর শুভেচ্ছা 

কৃষ্ণ

১)

কোন এক খরানি দুপুরের পঙ্ ক্তি তর্জমা করছিলাম বিষাদ নির্জন কোণে 
হঠাৎ রোদ্দুরের ছেঁড়া দরজা ঠেলে ঢুকে পড়লো 
বেশরম বাতাস...  উড়ে গেলো
পাখিঘরের - ছন, পালক, ঘ্রাণ। 
এই আক্ষেপে —
অবচেতনেই প্রশ্ন করি,
 বিষণ্ণ এ্যামপ্লিফায়ারে বাজে এ কোন সুর!!

জমাট মেঘেদের ভিড়ে খিল খিল করে হেসে উঠলে তুমি - কৃষ্ণ 
তুমি এলে আকাশের কয়েক আউন্স নীল মেখে 
তোমার মোহন বাঁশির উচাটন স্বর আমি এখন বুঁদ হয়ে শুনছি ... 
না এ কোন স্বপ্ন নয় , ঘুম নয় এ যেন এক
 গোপন ইশারা 
 গড়িয়ে পরছে নাচের মুদ্রায় শরীর থেকে মনে,আঁকছে স্বস্তিক চিহ্ন দ্রিমি দ্রিমি ছন্দে!

 
২)

 আজ সবকিছু কেমন পালটে যাচ্ছে ,
চারপাশ হয়ে উঠছে যেন উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ 
রামধনু থেকে ছড়িয়ে পড়ছে উন্মাদের মতো রং
বাতাসে ভাসছে এক আশ্চর্য্য নেশা 
আর আমার ব্যাকুল ভাব শুধু ছুঁয়ে যেতে চাইছে 
সেই ললিত সুর..
নীরব, মূক , চলচ্ছক্তিহীন আমি যেন বিনোদিনী - রাই
ডুবে যাচ্ছি ক্রমশ তোমার ঐ গাঢ় নীল কৃষ্ণগহ্বরে...


৩)

তোমাকে পড়তে আসে প্রতিবেশী মেঘ
তাদের দীঘল কাঁচুলি ভরে নিয়ে আসা মরসুমী হাওয়ায়
দুলে ওঠে তোমার ময়ূর পালক
তবু যেন এক অবিচ্ছেদ্য নূপুরের বোল 
তোমায় টেনে নিয়ে যায়
কবেকার সেই বকুলের ছায়ায়,তিরিতিরি নদীর পাড়


৪) 

এ কৃষ্ণ নাম অবিরাম , শাশ্বত,পরিণামহীন
যে নামের এত প্রেম সেই নাম শুনে আলুথালু 
রাই অঝোরে কাঁদে
অভিসার না জেনে মাথুর কপালে লিখে পদাবলী গায়।
আর তখনই তমালবনে ঝিরিঝিরি হাওয়া দেয় মিলনের
 সন্ধ্যার অলৌকিক আলোয়
 মাধবের শ্রী মুখে চেয়ে বিরহি চকোর জ্যোৎস্নায় কণ্ঠ ভেজায়।

স্কেচ ....       

এক একটা দিন কেমন উল্লাসের পর্দা উড়িয়ে চলে যায় !

ওপাশে যেমন এক চকমকে আলোর ঝালোর,
 কিচিমিচি বোলতান
 আর এদিকে ছায়া ছায়া মেঘ!

তারপর সব ফেড আউট --

আবছায়া - নৈঃশব্দ্য !

হাইকু 

১)

ঘন কৃষ্ণাভ
মেঘ রূপ দর্শনে
ময়ূর নাচে।

২)

আলোর কথা
লেখা হয়নি বলে
ঘনালো রাত।

৩)

আকাশ আজ 
বালিশ ছেঁড়া তুলো,
বেড়ায় ভেসে।

৪)

চাঁদ'ই জানে 
কলঙ্কদাগ তার 
নিরব ব্যাথা!

৫)

 রঙিন ফুলে
 জলমুক্তোর সাজ
 শ্রাবণ দিনে।



Monday, 18 July 2022

জন্মদিন সংখ্য়া ~ শ্রাবণী

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  শ্রাবণী


জল

সাওয়ারের নীচে ধুয়ে যায় অজস্র কান্না 
গুড়ো গুড়ো লবনাক্ত শোক  

অথচ 
তুমি বিন্দু বিন্দু দিয়ে সিন্ধু গড়ার কথা বলো

তুমি কি জানো না
জল কেবলই যন্ত্রণার কথা বলে.....




নদীবৃত্তান্ত

কথাটা ধুলোর উপর লুটিয়ে দিলেও পারতাম
কিন্তু 
আজন্ম নদী হতে চেয়েছে যে মেয়ে
সে কী করে আঁজলা ভরে দুঃখ ছড়িয়ে দেয় 
বলো?

তুমি অভিমানের কথা বলবে, আর
আমি বুকের ভেতর মন্থকূপ আঁকব না!

তার চেয়ে তুমি আনন্দের কথা বলো, 

জানো না
অভিমান মানুষকে বড় অন্ধ করে দেয়!




সিরিয়ার প্রেম

অতঃপর
আর নেই প্রেম,
জিজীবিষা যাও ছিল, 
তাও ধুলোর গহ্বরে গেল মিশে,
জিয়ন্ত ছিলাম আমি, জোঁকের মতন প্রেমিকার ঠোঁট থেকে শুষে নেওয়া প্রেম ছিল যতদিন আঠালো অধরে।

কোন জিয়নকাঠির আঁচড়েও আর প্রেম ফিরবে না জানি,
আমারও জিয়ারত হবে না প্রেমিকার চোখের তারায়,
ধ্বংসস্তূপে আমি কুড়িয়ে ফিরব হারানো ঘরের স্তম্ভ,
তোমরা দূর থেকে দেখে নেবে সব।

একে তোমরা জেহাদ বলো?
আমি বলি ঘেন্না,
একে তোমরা আনন্দ বলো?
আমি বলি কান্না,

তোমরা কারা, যারা প্রতিটা মুহূর্তে প্রিয়তমর বুক থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছ প্রেয়সীর নিষ্কলুষ দেহ?
তোমরা কারা, যারা প্রেমের বদলে প্রেম পাওয়ার অধিকার কেড়ে নিচ্ছ বেয়নেটের জোরে?

অতঃপর
শেষ হবে সব,
আমারও নগ্ন দেহ পড়ে থাকবে তোমার রাইফেলের তলায়,
বারুদে বারুদে মিশে যাবে আঠালো সেই ঠোঁট,
যে ঠোঁটে প্রতি রাতে চুমু আঁকত আমার শেষ প্রিয়তমা...




যে চিঠিরা কথা বলে

প্রিয় চিঠি, 
তোমাকে খুলে বসলেই হারানো প্রেম আমার ঠোঁটে এসে কথা বলে,
আমার কল্পনায় প্রিয়ার সে অনাবিষ্কৃত শরীর,
নির্ভার দেহভার, কোমল অথচ দৃঢ় কপোতির মতো বুকেদের কম্পন
আমি আজও খুঁজে ফিরি সাদাকালো অক্ষরে
কেউ জানে না কত রাত স্বপ্ন দেখিনি আমি
বাস্তবের নির্মম আবহে আমার স্বপ্নেরা সুর তোলা ভুলে গেছে, 
প্রিয় চিঠি 
আমার দেরাজে তুমি তুলে রাখা আঘ্রাণ
দমবন্ধ রাতের বাধ্যকতামূলক রতিক্রিয়ায় তোমারইতো সৌরভ আমায় জিতে যাওয়া শেখায়
তুমি নিশ্চয় ভুলে যাওনি প্রিয়ার অনুরোধ,
"এক রাত্রির অমাবস্যার পর যখন একফালি চাঁদ উঠবে, তুমি সে আলোকেই জড়িয়ে নিও প্রিয়"
প্রিয় চিঠি, 
চিন্তা কোরো না, আমি জানি একদিন না একদিন
আমার নিভৃতে, আমার আমিতে ঠিক মিশে যাবে প্রিয়ার সে প্রেমের অক্ষর
তুমিও তো সেদিনই ছাই হবে যেদিন আমিও নগ্ন পুড়ব উষ্ণ পোড়া কাঠে।



অলংকরণ- শ্রী মহাদেব

Thursday, 30 June 2022