Sunday, 19 April 2020

বিমল মণ্ডল

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










বিমল মণ্ডল 


আক্রোশ 

পাহাড়  ধসে ফেলি আক্রোশে 
জঙ্গলে  আগুন  জ্বালিয়ে হাসি
বিরহের মুখে  স্বপ্নকে করি জয়ী
পাহাড় থেকে  জঙ্গল  করে অট্টহাসি 
ভুলে গেছি এতো দ্রুত  আমি ছলনাময়ী। 

জোয়ারের  জলে এতো বেনোজল 
জেনেও চুপচাপ  ছিলাম কতদিন 
ভূকম্পনে ধসে গেল সব ফল
পুরনো  স্মৃতি ফিরাবে না আর মন। 

ফিরে এলাম প্রেমাহত পাখি একা
অসময়ে ঝড় ছিল  বিদায়ের  সেই রাতে
জঙ্গল  আজ সাফ, চারদিক শুধু ফাঁকা 
আমার জীবনে  কোকিল ডাকবে  না প্রভাতে। 

ভাষার  খেলা  করেছি নিজ ক্রোধে 
তার প্রতিদানই  পেয়েছি শব্দের  চোখে 
সব হারাবার  আক্রোশে  জ্বলেছি মধ্যে মধ্যে 
আজ আমি বিরহী  রাধা কৃষ্ণের  দুঃখে। 


তুমি

তুমি যখন  আমার কাছে এলে
তোমার  দুচোখে দেখেছি সীমার মাঝে  অসীম
আমার হৃদয়ে  তুমি ভালোবাসা  দিলে 
রাত্রিময় আকাশে তোমার দান  অপরিসীম। 

বেদনা  আর কষ্টে  গড়া  তোকার শরীর 
চিন্তার  মাঝে খুঁজে  পেয়েছো আমায়
তুমিই প্রতীক  আমার পৃথিবীর 
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ  আমি শরীরের অর্ধেক দেবো  তোমায়।

কতবার  তুমি আঘাত  খেয়েছো কাঁটার 
কতবার  তুমি  ধরেছো বেদনার গান
হৃদয়ে  শূণ্যতার   সুর পেয়েছো কতবার 
তোমার সান্নিধ্যে  আজ পেয়েছি অপরূপ  ঘ্রাণ। 

জীবনে  ধরে রাখো জয়ের সাক্ষর
এ তোমার সব চেয়ে বড়ো পাওয়া 
আমি তোমার হয়ে করবো  ঝঙ্কারমুখর
তোমার কাছে শুধু  এই টুকু  চাওয়া । 

অন্ধকার থেকে আলোর  পথে  এলে 
তোমার মুখে  তবুও  মধুর  অস্ফুট সুরে
অস্থির অবগাহনে ডুব দিয়ে তুমি গেলে। 

যা কিছু তুমি- আমি ভাগ করে নেবো 
আমার ভালোবাসায়  খাদ নেই জানো
তাই আমি   তোমায় সাথে  পত্রপুটে খুঁজে  যাবো 
যেখানে  তুমি তোনার স্পর্শে ভালোবাসা দেবে। 


আত্মকেন্দ্রিক 

অন্ধকারে জ্বলে ওঠে গগনচুম্বী  স্বপ্ন 
জেগে ওঠে মনে কত বাসনার ঢেউ
আমি পাবো না কিছু দেখিনি তা দুঃস্বপ্ন 
আমি ছাড়া এ আকাশ পাবে না কেউ। 

আকাশের  সব তারা মিটিমিটি  করে তাকায় 
আমার কাছে  একথা ধ্রুব অবশ্য 
আকাশে  বসে তারাদের কতকথা জানায়
দূর থেকে দেখবে আমায় প্রকাশ্য।

পাহাড়, নদী , জঙ্গল পেরিয়ে আমি যাবো 
কু-রুচিতে থামবো  না আর মোটে
দেখবে সবাই আমায়, সে কথাটা  ভাবো
মাটি থেকে  আকাশ  কত ফুল ফোটে । 


পিঁপড়ে 

পিঁপড়ে  পিঁপড়ে এদিক শুনো ভাই
তোমার অতো বদবুদ্ধি আমাদের মধ্যে নেই
মাঝেমধ্যে অকারণে ঢুকে  যাও চটপট 
ঠান্ডা মাথায় কোপ মারো বেশ কটকট। 

সাবধান বলি ভাই শোনো বলি কথা 
তোমার কারণে কেন লোকে পাবে ব্যথা? 
ভালো আছো ভালো থেকো শান্তির  দেশে
সুযোগ বুঝে কোপ মারো এ কোন ছদ্মবেশে? 


আমি চলে যাচ্ছি

আমি  যাচ্ছি, নদীর পর সমুদ্রের  পাড় ধরে
কত জলচ্ছ্বাস,  পাখিরা  দেশ -বিদেশে  উড়ে
মাঝমাঝে  শোনা যায়  জাহাজের সাইরেন 
মাঝিরা  মাঝধরে ভাটিয়ালি  সুরে গান ধরেন।

আমার   ক্লান্ত  অপরিশ্রীয়মান সেই হাঁটা পথে 
আমি চলে যাচ্ছি  তোমার থেকে দুরত্বের সাথে 
তবুও  আমার চলে যাওয়া  কিছুতেই  শেষ নয়
তোমার ভালোবাসার ঘরে বসে থাকি প্রতিক্ষায়।     

বাতাসের  সাথে কথা  বৃষ্টির সাথে কথা বলে
আমার  দিকে চোখ ফেরাতেই তুমি দেখলে 
আমি দেখলাম   তুমি যাচ্ছো সময় ভরে ভরে
আমি হাঁটছি নদীর  পর সমুদ্রের  পাড়  ধরে।

আমি যাচ্ছি অস্থিরতা, কান্না শুনতে শুনতে
আমি যাচ্ছি চৈতন্যময়  হৃদয়ের বান ভাঙতে 
তবু্ও  তোমার থেকে চলেছি অনেক দূরে    
আমার দিকে ফিরেও চাওনি তুমি একেবারে।      


হতাশার গল্প

আমার স্মৃতি  জেগে ওঠে রাতের অকূল অন্ধকারে
অবোধ্য  বিলাপ গল্পের নদীটা মেশে গভীর সমুদ্রে 

রৌদ্রস্নাত নির্জনতা শূন্য মরুময় চারদিকে
এমনই ভাবে ভুলে  থাকা যায়,পরিপূর্ণ ভালোবেসে
দূরে  গেলে আমায় ফেলে অনেক অনেক দূরে   

আমার নিবিড় আত্মায় তোমার কথামালা,
 তোমার প্রীতি বন্ধনে, স্মরণ পাতায় 


তোমার  সামনে অসংখ্য  বিপ্লব পুঞ্জীভূত
 আর  পরীক্ষার  প্রশ্ন পত্র  হাতে
তুমি জেগে  শান্তির  লালিত বানী শোনাও আমায়।

সময় বলে দেয় দিগন্ত রেখা ধরে 
সমুদ্রের  অগাধ গভীরে 
  সমস্ত  দুঃখ  হতাশায় কাটে দিন-রাত । 


প্রায় আকাশ  পেরিয়ে

ছাউনি  ঘেরা  মাটির  দেওয়াল ঘেরা
তার মাঝে   আকাশ পেরিয়ে চাঁদের  বাড়ি
জানালা  থেকে  একটুকরো  আলো 
 বাড়িময় ছড়িয়ে 
উঠানের পাশে পুকুরের জলে ভাঙ্গা চাঁদ 
মাছেদের সাথে খেলা  করে 

এই রাতে নীল আকাশের  নীচে 
তুমি আর আমি
ঝোড়ো  রাত, চাঁদিনী  বাতাসে 
উন্মত্ততার ভেতরে 
তোমার অফুরান ভালবাসার বাতাস 
আমার হৃদয়ে  আসে 
এই উন্মুক্ত আকাশে।   

রেখা নাথ

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










রেখা নাথ


আম জনতা                                                                                                                                                    
-- মামন তাড়াতাড়ি আয় বি এম ডবলু এসে গেছে ।  মায়ের ডাকে মামন পীঠে ব্যাক প্যাক ঝুলিয়ে হাতের আপেল কামড়াতে কামড়াতে ঠাকুমার ঘরে দ্রুত গতিতে ঢুকে  ঠাম্মা আসছি বলেই এক ছুট্টে বাড়ির বাইরে চলে যায় ।
মামনের ঠাকুমা নিজের ঘরে জানলার ধারেই বসে থাকেন সকাল থেকে সন্ধ্যে অবধি । যুগপৎ বয়সের ভার  পৃথুলা শরীরের জন্য প্রায় স্থবির মামনের ঠাকুমা নড়তে  চড়তে বিশেষ পারেন না । জানলা দিয়ে দৃষ্টি প্রসারিত করে দেখতে থাকেন যতদূর দেখতে পারা যায় । প্রিয় নাতনীকে দেখার চেষ্টা  করেন কিন্তু দেখতে পান না । গেটের বাইরেটা দেখা যায় না  তাঁর জানলা থেকে । 
কৌতূহল বশতঃ ঠাম্মা মামনের দাদুকে জিজ্ঞেস করেন  হ্যাঁ গো বি এম ডবলু কী বস্তু ? দাদু হাসতে,হাসতে বললেন  একটা গাড়ী । খুব দামী গাড়ী । মামনের ঠাকুমা আশ্চর্য গলায় বললেন  অত দামী গাড়ী করে মামন ইউনিভার্সিটি যায় ? কে পাঠায় গাড়ীটা ? মামনের দাদু হাসতে,হাসতে বললেন  কে আবার পাঠাবে ! রামলখন রিক্সাওয়ালার ঝরঝরে রিক্সাটাকে এরা মজা করে বি এম ডবলু বলে । রিক্সা করে মামন মেট্রো স্টেশান অবধি যায় । তারপর মেট্রো করে ইউনিভার্সিটি যায় । বুঝলে ! 
মামনের জ্যাঠা ও কাকা সকালের চা পান বাবা মায়ের সঙ্গেই করে । অফিস যাওয়ার আগে টুকটাক দরকারী অদরকারী কথা হয় বাবা মায়ের সঙ্গে । মামনের জ্যাঠা জিজ্ঞেস করল  আচ্ছা , বলো তো বাবা  বি এম ডবলুর দাম কত হবে  ?  এই পঞ্চাশ, ষাট হাজার হবে হয়ত । মামনের জ্যাঠা চোখ কপালে তুলে বলল  – কী বলছো বাবা !  মাত্র ষাট হাজার !  দশ লাখ হবে  ।  মামনের কাকা সবজান্তার মত বলল   কী বলছিস্ দাদা ! বি এম ডবলুর দাম মাত্র দশ লাখ ! তিরিশ লাখের কম হবে না । ক্লাস এইটের ছাত্র মামনের ছোট ভাই , টিংকু বলে উঠল   তোমরা সবাই ভুল । পঞ্চাশ লাখের কম হবে না । দাঁড়াও , গুগুল  সার্চ করে এক্কেবারে ঠিক দামটা বলে দিচ্ছি ।

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ












হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


পাখি রঙের আকাশ  ------ ৫৭

সারাদিনে একবারও জানলা খোলা হয় নি। দরজার চোখে চোখ রেখে কারও মনে পড়ে যায় নি সবুজ মাঠের কথা। ঘরের মধ্যেই নিজস্ব সমীকরণে ব্যস্ত থেকেছে সবাই। অঙ্ক মিললেই শুরু হয়ে গেছে উৎসব। সাদা কালোর উৎসব। হাত দেখে মনেই হয় না রঙিন হয়েছে কোনোদিন। কেই বা চেয়েছে রঙিন ক্যানভাস বন্ধ ঘরের আনাচে কানাচে। রঙের জন্য বৃথা অন্বেষণ। দরজা জানলার আশ্চর্য বিন্যাস সাতসকালেই পুড়িয়ে ফেলেছে যাবতীয় রঙ। তবুও এই ঘর বলে যায় আবহাওয়া জলবায়ু। পথ চলতি মানুষজনদের উদ্দেশ্যে ধেয়ে যায় হঠাৎ কোনো নিষেধাজ্ঞা। যারা ঘরের বাইরে ঘর বেঁধেছে তারা মানে। লাইনের পর লাইন মুখস্থ করে। ঝড়ের দিনে কে কাকে বাঁচায় ----- এ এমন দিন। তাই সুযোগ বুঝে যে যার পছন্দের দরজায়। হঠাৎ উড়ে আসা নিষেধাজ্ঞার যথার্থ বাস্তব রূপায়নই একদিন ফাঁক করে দেবে দরজা।

Saturday, 18 April 2020

সুদেব রায়

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










সুদেব রায়

অন্য এক কবি ও কবিতা 

আমি  গাছের সম্মুখে দাঁড়াতে পারি মাথা উঁচু করে,
পাহাড়ের সম্মুখেও দাঁড়াতে পারি মাথা উঁচু করে,
শুধুমাত্র দাঁড়াতে পারিনা বাবার শক্ত মুখের মুখোমুখি ...


দৈনিক ঘুড়ির ঝাঁক, মানুষের ঝাঁক, কবুতারের ঝাঁক দল বেঁধে উড়ে 
শব্দ শুনি , ছবি আঁকি , হাক ছাড়ি...
জানি এসবের কোন মানে নেই
একদম অনার্থ ,পাগল‌ শব্দ উচ্চারণের মত !

একটু আগে আমার ভিতর তিনটি মানুষ প্রবেশ করল 
একজন  দুধরং , আরেকজন মাটি'রং
আর অন্যজন তো কচুরিপানার চুলের মত কুচকুচে...
একজন শাবল মারতেই সুরঙ্গ বেরিয়ে এলো 
সরু সিঁড়ি পথ , মনে হয় বহু গাছ আগের সুরঙ্গ 
( হতে পারে যীশু খ্রিস্টের জন্মের অনেক আগে, হতে পারে পৃথিবীর সৃষ্টির অনেক আগে, 
হতে পারে ঈশ্বর সৃষ্টির অনেক অনেক আগে ;
যদিও ঈশ্বর'র সৃষ্টি নিয়ে যথেষ্ট মতভেদ আছে ।)
এর পর খোঁড়া নিষেধাজ্ঞা আছে মানুষের , নিষেধাজ্ঞাদ্ধ আছে সমাজের, নিষেধাজ্ঞা আছে 

এই খানে সোজা হয়ে দাঁড়াও 
জল ,মাটি , কাদা 
মাখনের মত বুকে পুঁতে দাও গাছ 
সবুজ হয়ে উঠুক , ধূসরতা ভেঙে পড়ুক
সমস্ত উটের পিঠে আর মানুষের যকৃতের ভিতর 
উড়তে থাকুক সবুজ পতাকা 
থ্যাতলানো পাহাড়ের শরীরে ঝুম চাষ শুরু হোক
( কবি, শিল্পী, বাউল, আর্টিস্ট)
ধানক্ষেতের নাভি ধরে বেঁচে থাকুক ভালোবাসা...!


চোখ ,মুখ ,নাক , কান
সভ্যতার বাউল গান গেয়ে চলা দক্ষিণাবাতাস 
খেজুরের পাটির একপাশে জেগে আছে জোড়া চোখ
মনে হয় দুটি নদী , 
মনে হয় দুটি আকাশ,
মনে হয় দুটি সুবিশাল মাঠ
মনে হয় দুটি সুন্দরবন 
জেগে আছে উন্মাদ বাউলের মত 
জেগে আছে উম্মাদ বাঁশির সুরের মত
(। শুধুমাত্র স্বাধীনতার অপেক্ষায় , শুধুমাত্র সবুজ দেখার অপেক্ষায়...!)
যদিও স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণের কথা মত আমি তুমি স্বাধীন দেশের নাগরিক
আমাদের চারপাশে সবুজ আর সবুজ ।


সবুজ ঘাসের উপর আমি হেঁটে চলি 
হেঁটে হেঁটে নদী পাড় হই 
হেঁটে হেঁটে পাহাড়ের ওপাশে যাই 
ছোট্ট ছোট্ট ঘরবাড়ি , ছাগল ভেড়া মানুষ গাছ 
আকাশের নীচে কলরব শিল্পীগোষ্ঠী
আমি হেঁটে চলি , নিস্তব্ধতার দিকে
পিছনে ফিরে দেখে ....
সবুজ ধীরে ধীরে লাল হয়ে আসছে
তারপর কেঁউ একজন কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে দিল........


পেইন্টিং অফ হিউম্যান

১.
জঠে পাকা লালবদুক - ন
নারীর ট্যালিতে ক্যান্সার
হো হাতি পুরুষের পিঠে---- ৭ পুরুষ π।

 ২.
লাল জামা বেণু রতি
এক টেনিসে চামুচ গ্যালাক্সি
টুপ দাড়ির ফাঁকে লেজা - টেংরি
ষ বারে হলুদ বানর 
জ্যা ব্লাউজী থমথমে দেহ - এ
চার বোতল আর কয়েকটা ইঁদুর শ্রমিক।
দৌহি। ক্ষৌরকর্ম। মানউশস ।

৩.
জ্যামে ত্রিভুজ-- রেড লাইট
সুইচ অফ দ্যা পেনডেমনিয়াম 
ফুটান্ত জিরাফে অ্যালকোহল
পেনিডেটা - স ( ভিতরে ভার্জিনিটি)
 আলোকপাত । বীর্যক্ষরণ । পেইন্টিং অফ হিউম্যান।

ফর দ্যা ডেডলক

১.
সমীকরণের ভিতর ঘুটঘুটে অন্ধকার ফর দ্যা ডেডলক
ত্রিভুজ কাটা চামচ হাতে বাইশ মাইল চটি ছিঁড়ে 
স্টেশনের গরম হাওয়ায় শরীর ট্রেন ভাসমান 
ব্যাস ,দ্যাট ইজ এজি ওভার ব্রিজ লকলকে 
তিন ,তিপ্পান্ন , ছাপ্পান্ন উৎপন্ন হয় সাতচল্লিশ নিখোঁজ।

২.
মগ মগ জল আঁচড়ে চুলঘুম বাইবেল ভাঙা বেদ 
ইলেকট্রন বিন্যাস কাটাছেঁড়া পেতে পৈতে ফু বাঁশি
সালফারিক পুরুষ ক্যায়াচে ভাত ঘুমটা সেড়ে নেয়
টু দ্যা সিমিলার ম্যান অব হেল , বিষাক্ত রাসায়নিক
                                               ৎ। মানুষ।

৩.
মবমেন্টালিটি । জাত। পাত। হো । হো ।
মগজ ধোলাই শাকচুন্নি ইস্যু অফ রিলিজিয়ন
নর্দমার জলে ভাসমান ত্রিকোণমিতিক শালিক
সমীকরণের ভিতর ঘুটঘুটে অন্ধকার--- ( মুখ)।


সবশেষে উপড়ে ফেলে শিকড়

১.
শক্ত দাঁত নরম বিছানায় নাচে
উঠান ভাঙা চিরুনির ফাঁকে ফাঁকে ১.২ সেন্টিমিটার দূরত্ব 
লকলকে লাইন গুলো ছাপাখানায় ছাপোষা।

২.
হাতির দাঁতের উপর গন্ড আর্ট 
কাটাকুটি বক শালিকের পেটে সাতচল্লিশ পুরুষ
ভনভন করতে করতে মানুষগুলো যান্ত্রিক ।

৩.
গন্ড আর্ট  কিংবা ডট আর্ট  ভিআইপি ব্যাপার
কান্ডজ্ঞানহীন মাথাগুলো উদ্ধার করেছে বনমহিষ
ক্ষিদে পেটে শুয়ে আছে কলকাতা ।

৪.
গ্লাস গ্লাস জল কিঞ্চিৎ লেবুর রস পাঁচ টাকা  
সাইকেল চড়ে মঙ্গল গ্রহ ছুটে আসছে 
ঘরে ঘরে মন্দির মসজিদ গির্জা প্যাগোডা ।

৫.
দা কুমড়া , 
মানুষ চাষ খুব করে বন্ধ
সরকার এখন তুঙ্গে।

৬.
 মিটার বক্স ফেটে লালা ঝরে
বুদ্ধিজীবী হওয়া মানা আছে 
চোখ বুজে, মাছ ধরার কথা আছে।

৭.
 খুব যত্নে করে দেবদারু গাছ বেড়ে ওঠে
ট্রামে চেপে ক্ষমতা এসে
কেটে ফেলে ডাল, লগ, সবশেষে উপড়ে ফেলে শিকড় ।


রোমান্স 


ফুটিফুটি বাদম ভেঙে 
যেদিন বৃষ্টি এসে বুঁদবুঁদি কেটে দেয়
পিঁপড়ার মত পিছু ছুটেছিলাম
একটি পাহাড় পেয়েছিলাম ।

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ








হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

পাখি রঙের আকাশ  ------- ৫৬

এমনটাই তো হওয়ার কথা ছিল। নদীর ঘাটে বাঁধা থাকবে নৌকা। আমরা সবাই পায়ে পায়ে হেঁটে উঠব নৌকায়। আমার নৌকা হবে আমারই মতো। নৌকায় পা দিলে সে মেতে উঠবে আমারই ঢঙে। নৌকা তো মোড়ক। আমি ঢুকলেই সে আমার পায়ে নেচে নেচে চলবে। নৌকা তো দেখতে আমারই মতো। কানে কম শোনে, চোখের জলছবি আমারই পর্দার মতো। কিন্তু নৌকায় বসে অন্য কেউ। আমাকে বললো, বদলে মত আছে কিনা। অবাক, এ নৌকা কী ! এতদিন এ কোথায় চলেছিল ? কোন প্রশ্রয়ে স্পর্ধায় এত স্ফীত হয়ে উঠেছে ? বোঝা যায় সব জলতল সমান নয়। কেউ কেউ গলা জলে, ডুবে গিয়েও হাত নাড়ে গভীর সংকেতে।

Friday, 17 April 2020

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ


পাখি রঙের আকাশ  ------ ৫৫     হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

দিনরাত শুধু সময় গুণে যাও। হাতে কি উঠে এলো? নিজস্ব সমীকরণে ঠিক কতটা সাজাতে পারলে নিজেকে? একবার শুধু আয়নায় তুলে ধরো তুমি। কিসের ছায়া দেখা যায়? ভালো করে চেয়ে দেখো, তোমার হেঁটে আসা সারা পথের ছবি ভেসে ভেসে আসে। কিন্তু তুমি কোথায়? পথে পা দিয়েছ, পথে পা রাখো নি। ধুলোপথে কতটুকু ধুলোর আস্তরণ তোমাকে ছেয়েছে? শুধু সময় দেখেছ। আলো হাওয়া এসে এসে গান হয়ে যায়। তুমি রোদ, কতটা ছুঁয়েছ বিন্দু পথগান ধরে? ছেড়ে দাও, সব চলে যাক। তোমার মতোই তুমি সারা পথ হেসে ভেসে যাও। দেখবে কখন দাগ লেগে গেছে।

বিপাশা ভট্টাচার্য

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ









বিপাশা ভট্টাচার্য


স্নান
ভেজা ভেজা শিউলীর গন্ধে
মনে পড়ে যায় গতজনমের ভোর
হয়তবা এমনই কোন শারদপ্রাতে
তুমি এসে দাঁড়িয়েছিলে দুয়ারে।
সমস্ত অর্গল কেঁপে উঠেছিলো সেদিন
কিসের এক অজানিত আবেশে,আর শরতের শিশির লাগা আমার
পিঠ ছাপানো কালো চুল বেয়ে
গড়িয়ে পড়েছিলো যে দু'এক ফোঁটা জল
তুমি আঁজলায় ধরে রেখেছিলে তাকে।
বলেছিলেপুণ্যতোয়ার পবিত্র এই স্নান।
আজ আমার করতলগত মৃত্যুছায়া দেখে
ভয়ে শিউরে উঠি সুন্দরহয়ত লক্ষাধিক
অপূর্ণ স্নানবাকি থেকে গেছে আজো।
আমার সমস্ত সত্তা জুড়ে,শেকড় গেড়েছে যে মহীয়ান অশথ গাছ,তুমি তার কাছে দীর্ঘজীবনের পাঠ নিতে এসো।
অথবা দীর্ঘতর যে মৃত্যুযাপন তারও উৎসব
শিখে নিয়ো আমারই বুকের ভেতর
শেকড় ছড়ানো ক্ষতদের থেকে।
আমার ভিটেবাড়ি দেউলিয়া হলো যে জলের দরে
সে কানাকড়ির হিসেব মেলাবে সাধ্য কই?তার চেয়ে বরং চলো অন্যতর জীবন খোঁজা যাক
অন্য কোন শিউলী ঝরা ভোরের আগমনীতে...

পথ
সেই রাতে ঘোর কালো চরাচর,হিম নামা অন্ধকারে জাগেনি কোন প্যাঁচা
অথচ মৃত্যুর মতো ঘুম সমাগতপ্রায়
আমাকে নিয়ে যাচ্ছিল কোন অতল সন্ধানে।
পথের পাশে কোন নিভু নিভু আলো
জ্বলে ওঠেনিশেষ বিশ্বাসের স্ফুরণ নিয়ে
ডেকে ওঠেনি দু'একটা কুকুর কিংবা শেয়াল
জীবনকে জানান দিতে সেদিন ছিল না কেউ।
রাত্রির সমুদ্র পেরিয়ে ক্লান্ত নাবিকের মতো
একা ভেসে চলেছিলাম  পথ ধরে ভাঁটায়।
ছেঁড়া মাস্তুল আর বন্ধ কম্পাস
কোন দিকদর্শন করাতে অক্ষমঅপারগ।
ওই প্রবল একলা রাতে তুমি এসেছিলে।
হাত ধরে বলেছিলে সঙ্গী হবে এই বিপুল রাতে
আঁধার রাতের পথিক আমারদিকভ্রান্ত নাবিককে
তুমিও কী পেরেছিলে দিশা দেখাতে?জানিনাশুধু এটুকু জানি ধ্রুবসত্য,সুদূর পথের প্রান্তে ওয়েসিসের বিভ্রান্তি নও তুমি
এই সারসত্যটুকু বুঝেছি মনের গোপনে।
তাই এই পথ আর আমায় ক্লান্ত করেনা।

সমর্পণ
 নিঃশব্দ প্রেম আমি তোমায় দিলাম।
দেবার মতো আর কানাকড়ি বেঁচে নেই,
 প্রেমঅন্ধত্ব আর সমর্পণ ছাড়া।
বাউল কিশোরতোমার একতারাটিতে
কোনোদিন কোনো সুর বেজে ওঠে যদি,আমার চোখের তারার কথা মনে করে,সেইদিন আমার দীঘিতে ফুটে উঠবে
একটি তাজা শুভ্র পদ্ম। আমি অপেক্ষা করব
সেই মাহেন্দ্রক্ষণেরযখন,আকাশ আর পৃথিবী এক করে নামবে ঘোর বর্ষা,আমি ভিজে ঝুপ্পুস হয়ে জ্বরো গায়ে
তোমার শীতল অবগাহনের প্রতীক্ষারত।
সেই দিন মাটির দালানে দুটো মোমবাতির আলো
পরস্পরকে ছোঁবে নিবিড় আলিঙ্গনে
আর আমার উঠোনে শঙ্খ বেজে উঠবে।

বোধ
কত কথা শেষাবধি আর বলা হয় না।
তারা জমে জমে গাছ হয়,
শিকড় চারিয়ে যায় আরো গভীর যন্ত্রণার দিকে।
ঘুম দীর্ঘতর হতে হতে মৃত্যুর মতো মনে হয়।
পরাজিত বোড়ে একলা হেঁটে বেড়ায়
জীবনজোড়া দাবাখেলার চৌখুপিতে।
দুঃখ জমে জমে নদী হয়,সে নদীর জল তুমি আঁজলা ভরে পান করেছো,তৃষাতুর তোমাকে সে দিয়েছে জীবনসন্ধান।
অথচ তার উৎসমূল খুঁজতে যাওনি কেউ,গেলে দেখতে পেতে এক আবিল ঝর্ণা--বেদনা জমে গড়ে ওঠা পাহাড়ের গা বেয়ে
চুঁইয়ে পড়ছে।
আঘাত পেতে পেতে কখনও ঢাল,কখনও বা শাণিত তরোয়াল হয়ে ওঠে।
তখন জীবন আর মৃত্যু সমার্থক।
হারানোর ভয়টুকু চলে গেছে যার,তার সমস্তদিনব্যাপী শুধু কবিতা আর গান।

ছায়া
অপরাহ্নে আলো কমে আসে--ছায়ারা দীর্ঘতর হয়ে ওঠে
কায়াকে ছাপিয়ে।
সেই ছায়ার দিকে মুখ করে চাই--এই বিশালতাকে পেরিয়ে কিভাবে সম্ভব
কায়ার সন্ধান?যে নিজেই হারিয়ে যেতে চেয়েছে,তাকে ফেরাবে তোমার সাধ্য কই?ক্ষীণ অবয়বখানি ক্রমশ বিলীন
ছায়ার সমুদ্রে।
দীর্ঘদীর্ঘতর পদযুগলঝুলে থাকা কাঁধ,লম্বাটে মগজ-- ক্রমশ দিগন্তবিসারী।
নিজের থেকে বিচ্ছিন্ন এক অপর সত্ত্বা,যা অনেকটা ঠিক তোমারই মতো,কিন্তু তুমি নও,তোমার আদিম সত্ত্বাটিকে গিলে নিচ্ছে,হারাচ্ছো তোমার রক্তমাংসঘাম,সে জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে
একটি অতিকায়অতিমানবিক ছায়া,শূন্যে দোদুল্যমান।
পৃথিবীতে অন্ধকার আরো ঘনীভূত হচ্ছে।

এইটুকু নরম...

ক্লান্ত হেমন্তের সমাগমে
বুকের ভেতর মেঘ করে আসে
অদূরে পোষ মানা মার্জার
একমনে চেটে যায় থাবা
দুপুরের এঁটো মাছের কাঁটাকোটা
আর ফেলে দেওয়া অন্ন খুঁটে খেয়ে
এইমতো দিয়েছে তৃপ্তির ঘুম।
নরম কাঠবেড়ালিটি থেকে
হিংস্র শার্দূল হয়ে উঠতে
পেরোতে হয় যতখানি ঝড়,তাহাদের পূর্বাভাস জানিতে চেয়ো না।
কলহ থামিলে পরে অদূরে চেয়ে দেখো,কাঠবেড়ালিটি ঘুমোলো কি?