Sunday, 25 September 2022

কবিতার মালা || পাপড়ি দাস সরকার

 

                                                                  পাপড়ি দাস সরকার


ইচ্ছে                                                                                                            

এক ঝাঁক উড়ে এল
পাশবালিশ প্রীতির পাশে

লুকোনো জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে
বললো টুকি...

সঙ্গে করে আনা দোষ আর ভাঙা সপ্ন
এই ছিল সম্বল
অসহায় ঘুম ঝিমিয়ে পড়ল তাতে

হাত ভিজে গেল অহেতুক
মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেল ছিঃ।

আসলে, কেউ ছিলোনাতো জানো!
একটুর জন্য ছুঁতে পারিনি তাই!


হাইফেন

আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের হাইফেনে
বসে থাকে যন্ত্রণার মেহেফিল
আমরা মেহেফিল পোহাই।
আগুনকে দাহ করে
দাহ্য হয়ে ওঠবার  সপ্ন লেগে থাকে
হরেক যন্ত্রণার চৌকাঠে। ভালোবাসা রাখি
সেখানে, সপ্ন রাখি, উজ্জ্বল রাখি, সমর্পন রাখি।

কবিতা সিম্পহনীর মতো পরম বেজে ওঠে যন্ত্রণার জরায়ুতে...


কবিতার মালা || শ্রীময়ী চক্রবর্তী

 

                                                                       শ্রীময়ী চক্রবর্তী



ব্রাত্য জীবন         
                                                                                  
রুদ্ধ সংগীতের অভিমানী জীবন নয়
তবুও কোথাও যেন
অলিখিত ব্রাত্য ছাপ নিয়েই চলে
রোজের জীবন যাপন
উঠতে উঠতে পড়া আর পড়তে পড়তে ওঠা
এভাবেই চলতে চলতে দেখি
এলোমেলো পথ চলা
কোথাও যেন " শ্রী " হয়ে উঠছে


কবিতার মালা || প্রভাত শতপথী

 

                                                                        প্রভাত শতপথী                


সুন্ধরা গো

এই বসুন্ধরার ধুলো মেখে নিই,

একটুখানি বাৎসল্য চেয়ে নত হয় সমস্ত শক্তি ,
হিসেব ভুলে যাই --প্রাপ্তি ঘরের,
আলোর বৈভব নামে,
বয়ে যায় ধারা-স্রোত নামু জমিতে।

জেগে থাকে জন্ম, 
অলীক আঁচলের খুঁট থেকে উড়ে আসে আরাত্রিক সুবাস। 
তার জ্যোতিতে ধরাই অন্তরদানি ধূপের মতো,
শাদা ধোঁয়ারা কুণ্ডলী পাকিয়ে খোঁজে প্রতিসম মন,
লাগা লাগি, ভাগাভাগি ফসলের সুতক ব্রতে।

গাছে গাছ যেমন ঢলে পড়ে বাতাসে,
ঘুমের মধ্যে জীবন ও মৃত্যু তেমন ঢেউ খেলে ।
 এ কোন জন্ম পেলাম যে তা বোধগম্যের আগেই পালাই পালাই ভাষা।

পথফুলের মতো তথাকথিত ভুলেরা মুখর দু প্রান্তে,
আন্তরিকতায় শোভনীয় কেবল ওরাই।
ও পথিক, তোমার ভূমিকা তুমিই জানো ।






কবিতার মালা || তীর্থঙ্কর সুমিত

 

                                                                         তীর্থঙ্কর সুমিত 


ভালোবাসার দেবালোকে                                                                                        

স্তম্ভের ওপর আরো কতগুলো স্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে
দারুন অনিচ্ছায় একটা বটগাছ দুলছে
হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে 
নিঃসর্গ ও মানুষ অঙ্কনচিত্রে ক্রমশ বদলে যায়
অক্ষম শিলালিপি ক্লান্ত হয় পথে পথে
ধারাবাহিকতার পরিবর্তন সূচিত হয়
আঁকার সাদা পাতায়
দীর্ঘদিন পরে আরো কত নীরবতা ভেঙে
নিজেকে অটুট রেখেছি 'কবিতা' র কাছে
এইভাবে একদিন পৌঁছে দেবো অনিচ্ছার মানবজন্ম

ভালোবাসার দেবালোকে।

কবিতার মালা || ভানুমতি সর্বজ্ঞ

 

                                                                            ভানুমতি সর্বজ্ঞ


সেই ঘাসওয়ালি


সেই ঘাসওয়ালি

হাতে প্রায় গোল ধারালো কাস্তে

রুপোলী, চকচকে…

সবুজ সতেজ ঘাসের গোড়া থেকে থেকে কেটে নিচ্ছিল।  

এতক্ষণে আড়ালে থাকা পোকাদের ঘরবাড়ি, ডিম-লার্ভা

কিলবিলে ন্যাকামোতে আলো সেঁকতে লাগলো।

 

সেই ঘাসওয়ালি

নেই-জামার ভিতর সুবৃহৎ বর্তুল স্তন

হাঁটুর চাপে সুপ্তোত্থিত… ঘামে ডগোমগো  

এতক্ষণ আড়ালে থাকা ইচ্ছেরা জামাকাপড়, খাওয়া-দাওয়া আর 

অস্নাত পতাকার রশি খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

 

সেই ঘাসওয়ালি

তার শরীর থেকে বেড়িয়ে আসছে তাপ

নিয়তির বচনের মতো দগদগে লালাভ আর সর্পিল

 এতক্ষণ আড়ালে থাকা উদাসীন সঙ্গম… ক্রুদ্ধ যুদ্ধ, ঠোঁটের রক্ত আর

জঙ্ঘার উত্থান… অবশিষ্ট সামান্য আলো, সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।





ভ্রামণিক চালচিত্র || সোমা মুখার্জি

 

                                                                                 সোমা মুখার্জি


পথের সঞ্চয়
( রাস আল খৈমা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ) 

দুবাই ছাড়িয়ে বেরিয়ে পড়েছি, যাব রাস আল খৈমা ।দুবাই থেকে খুব বেশি দূর নয়। ছিয়াত্তর সাতাত্তর কিলোমিটার পথ। ঘর ছেড়ে বেরোনো মানেই বেশ মুক্তির  আনন্দ। অবচেতনে নতুন  কিছু দেখার আনন্দে মন উৎসুক হয়ে থাকে।
শারজা পেরোতেই পথের দুপাশে দিগন্ত বিস্তৃত বালিয়াড়ি। তারি মাঝে মাঝে কিছু কাঁটাঝোপ। সেগুলো'ই একমাত্র সবুজের ছোঁয়া। তবে এই মরুভূমি অঞ্চলের আদিগন্ত নীল আকাশ বরাবরই মনকে  টানে।যেন একটু ভাবনার অবকাশ এনে দেয়। 
দেড়ঘন্টার মধ্যেই পৌঁছে গেলাম রাস আল খৈমা বিন্ মাজিদ রিসর্টে। ইউ এ ই'র আমিরাত গুলোর মধ্যে বৃহত্তম শহর হিসের এর স্থান ছ'নম্বরে। বহু পুরোনো সময়ে ইসলামিক ইতিহাসের অধ্যায়ে রাস আল খৈমা ব্যস্ততম বন্দর হিসিবে পরিচিত ছিল।সে সময় এর নাম ছিল জুলফার। এখনও এ অঞ্চলে বাইরের দেশের লোকের তুলনায় এই দেশীয় লোকেদেরই আধিক্য।

শেষ বিকেলে এই আরব্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে যখন আমরা রিসর্টে পৌঁছলাম তখন সূর্যদের পাড়ি দিয়েছেন অস্তাচলে। এখন আবার সূর্যাস্ত দেখার প্রত্যাশায় রইলাম।
চমৎকার ছড়ানো খেলানো জায়গা এই রিসর্ট টি  আরব উপসাগরের পারে। রিসর্টের নিজস্ব সৈকত রয়েছে। যে কোনো সময় সমুদ্রের ধারে গিয়ে বসা যায়। বসার সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। 

এই মরুভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে অব্যাহত রেখেই যত রকম গাছ লাগানো , নানা ধরনের ফুল গাছ , বড়গাছ সে সমস্ত  কিছু দিয়েই এ জায়গাটাকে সাজিয়েছে এরা। গাছ জল দুটোই  একসাথে এটা পাখিদের প্রিয় জায়গা হয়ে উঠেছে। ভোর বেলা ঘুম ভাঙল নানা রকম পাখির ডাকে, বুলবুলি, ফিঙে, চড়ুই, পায়রা ঘুঘু ইত্যাদি।। সন্ধ্যে বেলায় ও গাছে গাছে পাখির ঘরে  ফেরার কাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠল চারিপাশ।কখনো কখনো সমুদ্রের জলে বালি আর জলের মধ্যে অনেক ছোট ছোট পাখি এসে মনের আনন্দে স্নান করে।দেখতে দেখতে মন ভালো লাগায় ভরে ওঠে...
পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে  ভ্রমণপিপাসু মানুষের  দল এসে জড় হয়েছে এখানে। সমুদ্রপারে শিশুদের বালি নিয়ে খেলা..সমুদ্র স্নান  মনে কে বন্ধন মুক্তির স্বাদ দেয়। বালির রাজ্যে আকাশে রঙ ছড়িয়ে সূর্য ডুবলো দিগন্তে। নিয়ে চললাম পথের কিছু সঞ্চয় স্মৃতির ঝুলিতে...






ভ্রামণিক চালচিত্র || সংযুক্তা পাল

 

                                                                        সংযুক্তা পাল


দেবনগরীর অরন্যচর — জয়পুর (বাঁকুড়া)

টেরাকোটা শুধু মায়া হয়ে জেগে থাকে এমনটা নয়, জাগিয়ে রাখে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞান।স্থাপত্যের অন্তরে খোদাই করা থাকে নীরব দেবত্ব। নিভৃতে জঙ্গল পেরিয়ে এসে যখন সমস্ত ঘুমের আদিমতা ভেক পরিবর্তন করে, গাঢ় হয় আলো-আধাঁরি প্রশ্নেরা তখনই কে যেন নিয়ে যায় পাথরের গায়ে । জীবন্ত হয়ে ওঠে শহুরে লাশ, কথা হয় মৃত্তিকার একান্ত গভীর, গোপন সৌষ্ঠবের সঙ্গে। শুধু মূর্তি নয়, শুধু শিল্প বলেও নয় , সময়ের নক্ষত্র হয়ে কী ভীষণ একাকিত্ব বহন করেও বেদনার একটি গরিমা-যাপনের দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে গোকুলচাঁদ মন্দির যা মল্লরাজ ১ম রঘুনাথ সিংহের রাজত্বকালে নির্মিত —এমনটা জানা যায় মন্দিরের দক্ষিন দেওয়াল সংলগ্ন প্রতিষ্ঠালিপি থেকে। এটিকেই বাঁকুড়া জেলার সর্বাপেক্ষা বৃহৎ প্রস্তর মন্দির হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয় (আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী)।   

রাজৈশ্বর্যের দ্বিপ্রাহরিক আয়োজন এখানে স্তিমিত , গোধূলিবেলায় সস্পন্দ প্রাণ আর তাদের অভিমান, অভিযানের অদ্ভুত সব খেয়াল।

            অনতিদূরে জয়পুরের জঙ্গল। নিরাকার আমাদের বৃত্তিচর্চার বাইরে এক ধ্যানমগ্ন জীবনের সন্ধানে সন্ধে মাড়িয়ে মাড়িয়ে অবশেষে নিস্তব্ধতা। কখনো ঘনত্ব, কখনো বিস্তৃতি; প্রকৃতিও তো আসলে এক পরম সত্তা, যে আদরে, আহ্বানে ব্যপ্তির কোনো সীমাচিহ্ন না রেখেই স্বপ্নে-আলিঙ্গনে গাছ হয়ে থেকে যায়। সেই গাছের প্রতি মায়াই দিনের শেষে বেঁচে থাকার সমার্থক। এক বিশুদ্ধ ঘ্রাণের ইচ্ছা , প্রাণের ইচ্ছা সমগ্র 'আমি'র শরীরে ... ধীরে ধীরে ...এক হাতে অরণ্যেতিহাস , অন্য হাতে নাগরিক ভবিতব্য নিয়ে এ মাটির পৃথিবীতে আমি স্বয়ং যেন এক ফুল্লরা জন্ম।






কবিতার মালা || শ্রীমহাদেব

 

                                                                         শ্রীমহাদেব


সংলাপ                                                                                                                

আকর্ষণ অনুভব করি একথা সত্য
তবুও রঙচটা জীবনে কেরোসিন বাতির সাথে   
ভুল ভাঙাতে আসেনি কোনোও অপলাপ অথবা সংলাপ


আমি গাছ চিনে রেখেছি
তার ছায়া কিনে রেখেছি 
সোমত্ত মন তাকেও  কিনে রেখেছি


ভোরের শিশির জড়ো হচ্ছে 
তাকে গায়ে মাখছি
অবিরত রান্নার আঁচে নিজেকেও সেঁকে নিচ্ছি রোজ


উত্তাপহীন মোলায়েম আলো থেকে খসে পড়ছে ভ্রূণ
তাকে কুড়িয়ে রাখছি
গায়ে মেখে নিচ্ছি
বোধহীন শব্দের কুৎসিত বিভঙ্গ 


এখন আর কোনোও শব্দ হয় না 
নধর কথাদের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে 
স্রোত, ঘুম ঘিরে আসে 
নিঃশব্দ যাপন থেকে মিলিয়ে যাচ্ছে একফালি আম


আমার জন্য যন্ত্রণা রেখো বসুন্ধরা ।



কবিতার মালা || দেব চক্রবর্তী

 

                                                                             দেব চক্রবর্তী 



চক্রবৎ               
                                                                                              
এ এক গাঢ় অন্ধকার 
ঝিমিয়ে আসছে সতেজ বৃক্ষরাশি। 
শৈশব হারিয়ে গেছে কবেই 
এখন শরীর ক্ষয়ে আসছে ক্রমশঃ
রথের চাকায়ও জমেছে মজা বালি, 
কাশ, পুঁজ ও পচা রক্ত
হয়তো যেকোনও সময় 
ভেঙে পড়তে পারে উত্তুঙ্গ সৌধ! 
 
এবার নিশ্চিত সময় হয়েছে
নীল পাখিটাকে উড়িয়ে দেবার। 
ভাসিয়ে দেবো আমার যাবতীয় প্রাপ্তি সব 
কচুরিপানার মতো  
আর নবজাতকের কাছে রেখে যাবো 
আমরণ ঋণ ;
যে ঋণ আমার নয়, দশের :
একদিন সে ঠিক আমার কৈশোরের মতো
আমার যৌবনের সাধনার মতো 
রথের চাকা ঘুরিয়ে দেবে 
ঘুচিয়ে দেবে চির অন্ধকার॥


কবিতার মালা || পারভীন শাহনাজ

 

                                                                  পারভীন শাহনাজ 


সোনা বউ  
                                                                                                       
পাটভাঙা রোদ নিপাট দুপুর 
পুড়ছে ভীষণ তাপে,
মৌরালা মাছ, সোনা মুগডাল 
ইলিশ চুলোয় ভাপে।

মিহি সুতার নীলাভ শাড়ী
চওড়া পাড়ের আঁচল
সুখ লেপেছে সিঁথির উঠোন
পলাশ রাঙে কপোল।

হাসছে মেয়ে রিনিক -ঝিনিক 
বাজছে পায়ে নূপুর
রাঙা ঠোঁটের  ফাঁকে বাঁধে
বাসন্তী রঙ দুপুর।

বিকেল সোনার কাঁকন মোড়া
সাঁঝবাতি নেয় চিনে
সারা দিনের ক্লান্তি যেন 
রাত নিয়েছে  কিনে।

যার জীবন নদী  টইটম্বুর  
ছলকে পড়ে  সুখ
তবু নিশুতরাতে কার বিরহে 
 ভাঙছে তারই বুক !


কবিতার মালা || সুপ্তোত্থিতা সাথী

 

                                                                     সুপ্তোত্থিতা সাথী



কিছু ম্যাক্সিম                                                                                                

রূপ,
ফুলের মতো একদিন ঝরে যায়।

সম্মান,
কাচের মতো,ভাঙলে জোড়া লাগে না।

টান,
ঝোঁক যতদিন,টানও ততোদিন।

উল্লাস,
আঁজলা ভরা জলের মতো ক্ষণস্থায়ী।

দরজা,
ভেতর,বাইরের আসা,যাওয়ার জন্য নয়,ঘরকেই আসলে সুরক্ষা দেয়।

তারুণ্য,
রক্তের জোর যতদিন,তারুণ্যও ততোদিন।

মূর্তি,
কাঠ,মাটি কিংবা পাথরের হোক,আসলে তা শিল্পীর মনের অবয়ব মাত্র।

বঁড়শী
শিকারী কিংবা সুযোগ সন্ধানী প্রাণীর মতো।

হাতা,
হাতের পরিবর্তিত রূপ।

আলো,
দূর থেকেই ভালো,কাছে এলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়।

চোখ,
খোলা থাকলে শেখায়,বন্ধ হলেই শান্তি।




কবিতার মালা || রূপক চট্টোপাধ্যায়

 

                                                                  রূপক চট্টোপাধ্যায় 



এলডোরাডো                                                                                                    

রজোগুণে তোমায় হারিয়েছি 
ফতুর জলাশয় থেকে কংক্রিটের কাঠিন্য জুড়ে! 
আজ তমোগুণে তোমায় পেয়েছি, 
উচ্ছ্বাসের শৃঙ্গ থেকে, জাদুকরী এলডোরাডো!
 এখন কান্নার সময় কি না ভাবি?
 আমি ঠিক বুঝতে পারি না, কোন ক্ষত থেকে
 ডেকে উঠছে যান্ত্রিক হৃদপিণ্ড  সমস্বরে।
  কথাছিলো, শ্রমের পিঠে পাথর চাপিয়ে
  পাহাড়ি পথ পার হবো।  ধানের গর্ভগৃহে
  দুধ জমলে জলাশয়ের পদ্মবনে 
  ডুবে যাবো ফতুর আনন্দে, অন্নহীন লজ্জায়! 

  বুঝিনি কি ভাবে রজোগুণে তোমায়
  হারিয়ে, তমোগুণে ফিরে পাবো,তোমায় 
এলডোরাডো। তুমি হবে খুপরিতে
বেঁচে ওঠা লাল নীল অফমুডের হিসেবি সংসার!




কবিতার মালা || মধুবন

 

                                                                                 মধুবন


কফিনবন্দী প্রেম


স্বেচ্ছামৃত্যুকে স্বাগত জানাতে আমিও চলে এলাম অরণ্য বিছানো পথে;  রঙ খসে পড়া পাইন দেবদারুর বিষণ্ণতা ওদের চোখে মুখে। 
ধূসর পথ পরিক্রমায় আজ এগার ছুঁই ছুঁই। 
ওরা হাঁটছে। হাঁটার গতি শ্লথ। দুটি শীতল হাত পরস্পরকে ধরে আছে। ওরা দুজনেই মৌন; আসলে এখানে যৌনতা প্রায় মৌনতার প্রতীক। 
পায়ে পায়ে এগিয়ে চলেছে এক হলুদ শোকের মিছিল।
এগার বছর আগে কোনো এক হলুদ সন্ধ্যায় প্রেয়সীকে লাল গোলাপ উপহার দিয়েছিল পুরুষটি। ভালোবাসা উদযাপন ছিল সেদিন পায়রা ওড়ানোর মত। আজ তা যেন মৃত্যু উদযাপন। 
রাতের উৎসবে হলুদের হিম অন্ধকার যেন মৃত্যুদূত হয়ে স্বাগত জানাচ্ছে নারী ও পুরুষটিকে। যেদিকে ঝরে পড়ে আছে মরা পাতাগুলো সেদিকে ওদের পথের বাঁক। 
নিঃশব্দে মরে যাওয়া পাতা নারীর স্তনে গুঁজে দিচ্ছে পুরুষটি, যেখানে একসময় মুখ রাখলে শুনতে পেত সে নায়াগ্রার উচ্ছাস। জ্বলে উঠতো জলসার ঝাড়বাতি। আর একটু উপরে উঠলে কামিনী কাঞ্চন। ছিল কামনার অহরহ আনাগোনা। আজ সেখানে নিঃশব্দ হ্রদ, নিস্তরঙ্গ হেমন্ত–নিভে যাওয়া বসন্তকে ওরা স্বাগত জানাচ্ছে ধীরে, অতিধীরে।
প্রেমের শরীর কফিনে বন্দী হওয়ার আগে পুরুষটি তার বিবর্ণ ঠোঁট দিয়ে চুম্বন করলো হারানো যৌবনকে; কফিন বন্দী সেই এগার বছর, যা এখন শুধু ইতিহাস মাত্র।




কবিতার মালা || এলা বসু

 

                                                                            এলা বসু 



দাহ                                                                                                         


তখন মোমের পুতুলে আর মন ভরেনা
হাত পড়ে আমার লাশ কাটা ঘরে
বেলা বয়ে যায়
ক্রমশঃ দীর্ঘতর ছায়ার আদল
নিস্প্রান পুতুলে আর মন ভরেনা
শয়ন জুড়ে দহন পায়ের তলায় দহন
পোড়া শরীর খোঁজে শুধু সমর্পণ
আরো আরো আরো গহনে
মাটি খুঁড়ে চলে শিকড়
যেখানে পদ্ম ফোটে প্রাণের
বেলা গড়িয়ে যায়
কত নৌকো ইতস্তত ঘোরে ফেরে
ফিরে আসি যদি কোথায় আসব?
ঘরেও নাহি পাড়েও নাহি
যে জন রয়েছে মাঝখানে, সে জানে, সে বোঝে
অসম্পূর্ণ পরাগ মিলনের অসম্মান!