Sunday, 25 September 2022

ইংরাজি কবিতা মালা || Paulami Mitra

 

                                                                    Paulomi Mitra




Colours


Silent Bliss of Flying colours,
Essence of peace in the sky,,
Divinity of Soul haunts the realm of life!
Yet too far to go to cherish moments!!

Loving beauty of peace,
Silently whispering the rhythm,,
Assembly of harmony to eternity!
The journey for immortality!!
Deep inside the heart,
Feeling of being alone,,
Who is there to hold the arms!
To feel the vibes of colours!!

To be with you,
To be in you,,
Glimpse of the sunset!
Loving the beauty of darkness!!
Too eminent to look,
Oh! The lovely eyes,,
And see! Magical tears are gone!
'My Soul' has come again to me!!
Again the day to celebrate,
When aging with time,
Smell of 'Gulal' touched the Soul!
To be happy for each day of love!!


Escape from Death

Let me decide my own life with peace,
I can create magic of rythmic love,,
I want to dance like an angel,
And when its just under your arms,
Its just a recollective senses of reminiscence,
And I need you to be my 'Hero' for ages.....

To the diversity from space,
To create moments of eternity,,
Journey to ourselves from 'You',
Just to be safe in calamity?????
Not that need,I worshipped for, 
And suddenly 'You' came to me,
When I was waiting to welcome 
'Death' in the verge of happiness!!
But you made me feel to enrich,
A 'Life Line' which is beyond this World,
And where now, I am living 'You' inside me to breathe heavenly !!


Star

When the silence of dark night 
is just engrossing 
the beauty of blue moon,
When the delightful smile of moon 
is playing hide and seek
with the sleeping phoebus Apollo,
When the Daystar is tired
with His blazing Warmth,
When the Rays slipped tears 
silently in a whirling motion,
Yet His joy is on the Rights,
devoting Himself only to the mind....
that is in the soul....
The day will come when sin will be free,
to please Almighty on this Earth.....
To make Him happy in this Universe
slowly , gently and densely!!!!!



হিন্দি কবিতা মালা || राजा देवराय

 

                                                                          राजा देवराय


प्यार

पहले प्यार को भुलाया नहीं जा सकता,
लेकिन क्या आप दूसरे को भूल सकते हैं?
वास्तव में आप कोई नहीं भूल सकते,
कभी-कभी प्रत्येक की गणना की जा सकती है।

सच मे प्रेम का अर्थ कठिन है।
कुछ सफल होते हैं और कुछ असफल।
सभी को प्यार में पड़ना चाहिए,
ईए मंत्रमुग्ध कर देने वाली राह में ले जाता है।


অণুগল্প গাঁথা || সায়ন্তনী নাগ

 

                                                                                 সায়ন্তনী নাগ



সহপাঠী

মধুময়ের সাথে সদাশিবের রোজ দুবার দেখা হয় প্ল্যাটফর্মে। একসময় ওরা সহপাঠী ছিল। সদাশিব ফার্স্টবেঞ্চ, ঝাঁ চকচকে রেজাল্ট, স্যারেদের প্রিয়পাত্র। মধুময় শেষ সারি, টেনেটুনে পাশ, ‘ধুস, তোর দ্বারা কিস্যু হবে না!’ অথচ স্কুল শেষের পর কলেজে ঢুকেই সদাশিব হারিয়ে গেল। লোকে বলে কোনো মেয়ের ল্যাং খেয়েছিল। যখন ফিরল, তখন ওকে আর চেনা যায় না। এক মুখ দাড়ি, এক মাথা উস্কোখুস্কো চুল, নোংরা দুর্গন্ধযুক্ত পোশাক। এ ঘাট ও ঘাট ঘুরে শেষটায় ঠাঁই নিল স্টেশনে। লোকের ছুঁড়ে দেওয়া পাঁউরুটি কি বিস্কুটের ভরসায়।
মধুময়ের ভরসা হয়েছিল পার্টিঅফিস। দলীয় আনুগত্য এবং বিনাপ্রশ্নে সমর্থন তাকে ঠিক সময়ে একটা সরকারি চাকরি পাইয়ে দিয়েছিল। ডেইলি প্যাসেঞ্জার মধুময়ের এখন ধোপদুরস্ত পোশাক, পিঠের ব্যাগে লুচি তরকারি, জুতোয় মোমপালিশ, পুজোর বোনাস, বছরে একবার সপরিবারে পাহাড় কিম্বা সমুদ্র, মেয়ের ক্যারাটে ক্লাস, ছেলের জয়েন্ট এন্ট্রান্স।
মধুময় আর সদাশিব রোজ এ ওর দিকে তাকায়। মনে হয় দুজনেই দুজনকে চিনতে পারে, কিন্তু কেউই প্রকাশ করে না। একজনের ঠোঁটে বিদ্রুপ ফুটে ওঠে, অন্যজনের চোখে ঈর্ষা। একজন আরেকজনকে ঘেন্না করে, অন্যজন করে করুণা।
কিন্তু কে যে কোন অনুভূতি বহন করে, স্পষ্ট হলোনা আজও।





অণুগল্প গাঁথা || শম্পা ব্যানার্জি

 

                                       শম্পা ব্যানার্জি


একটা লকডাউন রাতের গল্প

আজ ক'দিন ধরে আমার মন ভালো নেই। কেন নেই জানিনা। আমার সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেও ভালো লাগলো না। তাই গতকাল থেকে সরে গিয়েছিলাম। 
আজ এক বন্ধুকে বল্লাম,  "আমার আর কিছুই ভালো লাগছে না। মাঝে মাঝে এই রাতে এই সোশ্যাল মিডিয়ার ঘরে এসে বলতে ইচ্ছা করে, কেউ জেগে আছো?"
পরক্ষণেই ভাবি এসবের দরকার কোথায়? সবুজ আলো জ্বলছে তো! উনিভার্সিটির দিনে  ট্রেনের দরজা থেকে একটু ঝুঁকে মুন্ডি বার করে  দিয়ে সিগন্যালের আলো সবুজ দেখলেই, হৈ হৈ ব্যাপার। এইবার ট্রেন ছাড়বে। কল্যাণী পৌঁছব। নেমেই দৌড়বো। শাড়ি  পরলেও আঁচল গাছ কোমর করে দে দৌড়। বাসের লাইনে, একে বা প্রথম দশে দাঁড়িয়ে আহা সে যে কী আনন্দ। আমার প্রিয় বাস "মাই ফেয়ার লেডি।" ওর জানলার পাশের আসনে যে না বসেছে, সে কেমন করে জানবে। আর বাস ছাড়লেই গোঁ গোঁ আওয়াজ, জানলায় পুরো কাঁচটা সরিয়ে দিলে, বাইরে গলে যাওয়ার ভয়। সে এক থ্রিলিং! আরও একটা বাস ছিলো তার নাম মুড়ির টিন। মুড়ি যেমন টিনে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে ভরে তারপর, মুখটা চেপে আটকে দেওয়া হয়। এটাও ছিলো তাই। চাপতে চাপতে শেষজনকে চেপে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হতো। আর বাসটা বাঁ দিকে কাত হয়ে চলতে শুরু করতো। আসলে, বাঁ দিকেই তো দু'টো দরজা। শেষের দিকের মুড়ির ভারটা ও দিকেই পড়েছে। 
তবে, উনিভার্সিটি তে স্কুলের মতো, দৌড়ে গিয়ে প্রথম বেঞ্চিতে বসার তাড়া ছিলো না। I was always  backbencher..পেছনে না বসলে গল্প করা যাবে না। খুনসুটি হবে না। হাসাহাসি হবে না। আচ্ছা, এসব কথা বলতে বলতে আমার মনখারাপিয়ার চোখ দুটো চলে গেলো হঠাৎ বাইরের অন্ধকারের দিকে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। মুখোশ বেঁধে সোজা নীচে। ওয়াচম্যান বিজয়কে বল্লাম, গেটটা খুলে দে। ও বলছিলো না। লকডাউন। পুলিশ বিরক্ত করবে। নিঝুম রাস্তা, আকাশে আধখানা চাঁদ আর ল্যাম্পপোস্টের আলোয়, মায়াবি রাত দেখে মনে হচ্ছে, কে বলবে,  এই পৃথিবীর বুকে এখন করোনার গ্রাস। একটা পিৎজা ডেলিভারি বয়ের সাথে কিছু কথা হোলো। ও এখন করোনাকে পরোয়া করে না।পেটের জ্বালার থেকে করোনা বড় নয়। দূর থেকে, এলেন এক বাহাদুর। আমাদের সোসাইটির ঠান্ডা জলের মেশিন থেকে জল নিয়ে যান। সাথে একটা সাদা স্ট্রীট সারমেয়। খুব ভাব নাকি দু'জনের। সিং জী আমাকে দেখে মাস্ক খুলে গল্প করতে লেগে গেলেন। গাজীপুরে বাড়ি। সেখানকার হালচাল বলতে লেগে গেলেন। বল্লাম, করোনার গল্প আর শুনতে চাই না। আপনি আসুন। সারমেয় সমেত রাস্তা পার হয়ে চলে গেলেন।
সিকিউরিটি বিজয়ের কী হাসি। বিজয় আর আমার মাস্ক একই। আমি সবাইকে কিনে দিয়েছি ডিজাইনার মাস্ক। একটা কথা ভেবে পাইনা, কেউ একটু চুপ থাকতে দেয়না। সবাই কি তাহলে হাঁপিয়ে উঠেছে? আমি এসেছি নিঝুম রাতের নিঝুমতা কিনতে। পরশু সন্ধ্যেবেলায় ধূমকেতু দেখেছি। কিন্তু, ছবি তুলতে পারিনি। খুব জ্বল জ্বল করছিলো নিউইজ। আজ আধখানা চাঁদ আর দেখলাম লালচে তারা। ওটা মঙ্গল গ্রহ। এটা চিনতে অসুবিধা হয় না। আমার কাছে একটা বুশনেলের বাইনোকুলার আছে, যা দিয়ে দূরে কিছু দেখতে গেলেই আমার চশমা পরা চোখে ব্যালেন্স না হয়ে অন্যলোকের ঘরের ভেতর দেখা যায়। তাই আর দেখি না। তবে, একবার দূরে পার্কে মাঝরাতে ওই বাইনোকুলার দিয়ে একটা আস্ত বিয়ে দেখেছিলাম। মালাবদল থেকে সিঁদুর দান। নর্থের বিয়ে খুব অল্প সময়েই শেষ হয়ে যায়। তারপর, দেখলাম তরতাজা নতুন বউটিকে বর বাবাজীবন কী যেন বলছেন। মেয়েটি আনত চোখে এক মুখ লজ্জার হাসি হাসছে। আসলে বাড়ির লোকজন ওদের স্টেজে বসিয়ে খেতে দৌড়িয়েছে। আমার বর তখন আমেরিকায়। কথা বলার জন্য রাত জাগতে হোত। তাই ব্যালকনিতে অমন জীবন্ত সিনেমা দেখার সুযোগ হয়েছিলো। আর হ্যাঁ, বর আর কনে নীল অর্কিডের মালা পড়েছিলো। কী ভালো লাগছিলো মেয়েটাকে। এখন আর পার্কটা দেখতে পাইনা। কী এক ক্লাউড নাইন এসে ওর গগনচুম্বী ইমারত দিয়ে  আমার প্রিয়  পার্ক থেকে আধখানা আকাশ সব ঢেকে দিলো।
এসব ভাবতে ভাবতে বিজয় আর মাহিন্দর দু'জনেই বল্ল চা খাবে। তা, আমি চা বানিয়ে ওদের দিলাম। আমি খেলাম। ওরাও খেলো। সাথে পার্লে জি বিস্কুট। শুনেছি জীবনের বহু অবস্থা অতিক্রম করলে বুদ্ধত্ব প্রাপ্ত হয়। আবার"বোধিসত্ত্ব"শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, বুদ্ধত্ব। আর অবলোকিতেশ্বর হলেন বোধিসত্ত্বগণের অন্যতম। জীবনের অনেক পথ হেঁটে এসেছি। এমন ভয়াবহ সুন্দরী তিলোত্তমা রাতে তোমায় প্রশ্ন করি, " নতুন ভোরের আর কত দেরি হে অবলোকিতেশ্বর ?
মেঘপিয়ন।




অণুগল্প গাঁথা || ফাল্গুনী দে

 

                                                                                  ফাল্গুনী দে


দিকশুণ্যপুর


ভোরের ফাঁসিকাঠ নয়, আত্মহত্যা নয়, এমনকি স্বেচ্ছামৃত্যুও নয়। একটি অপরিণামদর্শী স্বপ্নের জন্য মহাজাগতিক সাধন সিদ্ধির এক বিরলতম উদাহরণ -- অ্যালিজা। সে আর কোনোদিন পৃথিবীতে ফিরবে না, জীবিত অথবা মৃত। 2033 সালে নাসার পক্ষে প্রথম রক্ত মাংসের মানুষ হিসেবে রকেটে চড়ে সে মঙ্গলে পাড়ি দেবে। একমাত্র নিঃসঙ্গ মানুষ হিসেবে কোটি কোটি মাইল দূরে লাল মরচে পড়া আর বরফ শীতল উষ্ণতায় মোড়া গ্রহের নীল নক্ষত্রের নিচে সে হারিয়ে যাবে। শর্ত অনুযায়ী আগামী দশ বারো বছরে তাকে ত্যাগ করতে হবে বিয়ে সন্তান অথবা যৌনতার মতো পার্থিব আকর্ষণগুলি। 

সৌরদীপ কলেজ পাশ করে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে গ্রামেই একটি তথ্যমিত্র কেন্দ্র খুলেছে। অনলাইন ফর্ম ফিলআপ, কম্পিউটার গেমস, নেট পরিষেবা, ফেসবুক চালাচালি ইত্যাদি নানান সুবিধা বিক্রি করে সকাল থেকে রাত অব্দি। অ্যালিজার খবরটা একদিন ফেসবুকে পড়েই সে বিস্ময়ে কাতর হয়ে ওঠে। বিস্তারিত জানতে নেট তোলপাড় করে খুঁজে আনে বহু জানা অজানা তথ্য পরিসংখ্যান ও ছবি। ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে ম্যাসেঞ্জারে পোস্ট করে একটি ছোট্ট নোট -- "তুমি যখন 30 বছরের সাধ্বী যুবতী হয়ে রকেটে পা রাখবে, বাড়ির ছাদ থেকে আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবো। তুমি জানলা দিয়ে হাত নেড়ে ফিরে আসবার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিও, আমি প্লেটনিক ভালোবাসায় আজীবন অপেক্ষা করবো। মঙ্গল আর পৃথিবীর মধ্যিকার ইথার তরঙ্গে খেলে বেড়াবে আমাদের প্রিয় সংলাপ। প্রেম ভালোবাসায় নাসার আপত্তি নেই শুনেছি, তাই রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলে প্রেমে সম্মতি জানবো।"

কোকিল ডাকা বসন্তে ইমন রাগের এক সন্ধ্যায় রিপ্লাই আসে -- রিকোয়েস্ট একসেপ্টেড।




অণুগল্প গাঁথা || মৌসুমী চৌধুরী

 

                                                              মৌসুমী চৌধুরী


সেফ পিরিয়ড

     অন্ধকার আমি খুব ভালোবাসি। অন্ধকারে আমার চোখ জ্বলজ্বল করে জ্বলে। লাইট অফ করলেই আমার শরীরে হিসহিস করে ওঠে কেউটে সাপ। তালপুকুরে এখন ঘটি না ডুব- লেও শরীরে আমার জমিদার বাপ ঠাকুর্দার রক্ত আজও বহমান। নিত্য নতুন শরীরকে অনাবৃত করতে আমার কেমন নেশা নেশা লাগে। এক একজনের ভূগোল এক এক রকম, ইতিহাসও। তবে হা-ঘরের মেয়েদের ভূগোল ও ইতিহাস দুই আমার বেশ পছন্দের। মেয়েগুলো একটু ভালো খাওয়া-পরার জন্য সব শোনে। আর কুদরৎ কি মহান ক্যরিশমা, খুদকুঁড়ো খেয়েও ওদের ভূগোল মারাত্মক  আকর্ষণীয়। গিরিখাতের অতলে হারিয়ে যাবার কুহক আহ্বানে আমি পাগল হয়ে যাই।
          মীনুর মা যখন প্রথম আমার বাড়িতে  কাজে ঢোকে তখন ওর ইতিহাস ও সর্বোপরি ভূগোল দুই'ই আমার ভীষন পছন্দ হয়ে যায়। ওর বর একটা মেয়ে উপহার দিয়ে নতুন সংসার পেতে দেশান্তরি হয়েছে। দশ বছরের মেয়ে মীনুকে নিয়ে বাসন্তী তখন খুব অসহায়। তাই কাজে বেরিয়েছে। ওর অসহায় চোখে আশ্রয় যাচনা। অন্ধকারে এসব মেয়েরা সতীপনা দেখায় না। বেশ উপভোগ করে। আর বাসন্তীর শরীরের ভূগোলে চাবুকের ইশারা! তাই স্ত্রী অনুরাধার অনুরোধে আমি মেয়ে সহ বাসন্তীকে রাখতে রাজী হয়ে গেলাম।
          গত চার বছর ধরে বাসন্তী আমায় শরীরী সুখে ভরিয়ে রেখেছে। প্রকৃত অর্গাজম আমি বাসন্তীর কাছেই পাই। কেননা মেনো - পোজের দিকে এগোচ্ছে মধ্য চল্লিশের অনুরাধা। বাসন্তীর তুলণায় সে এখন রীতিমতো জলো। তাই অনুরাধার অলক্ষ্যে, সব রকম সাবধাণতা অবলম্বন করে আমাদের সম্পর্ক বয়ে চলেছে খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর মতো। একদিন দুপুরে শাড়ি খুলতে খুলতে বাসন্তী হঠাৎ বলে,
-- " মেয়েটাকে এবার থেকে চোখে চোখে রাখতে হবে। "
বাসন্তী খোলা শরীরে হাত বুলোতে বুলোতে আমি বলি,
-- "কেন?  তার আবার কি হল?"
অভিমানী গলায় বাসন্তী বলে,
-- " আমরা তো আপনার বাড়ির এক কোণে পড়ে আছি অচেতন আসবাবের মতো। আপনার কি আর আমার মেয়েকে নিয়ে কোন মাথাব্যথা আছে? মেয়ে যে আমার ঋতুমতী হল আজ।"
    আমার সত্যি বাসন্তীর মেয়েকে নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। আমি তো মজে আছি বাসন্তীর শরীরে। ওদের মা-মেয়ের খওয়া-পরা সহ সমস্ত প্রয়োজনের ভার অনুরাধার ওপর। শুনেছি আমাদের ছেলে বিতান বাইরে পড়তে যাবার পর থেকে অনুরাধা নিজের কড়া তত্ত্বাবধানে বাসন্তীর মেয়ে মীনুকে পড়াশোনা শেখাচ্ছে। মেয়েটি ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠেছে এবার।
      বাসন্তী বলার পাঁচদিন পর আজ হঠাৎ উঠোনের নারকেল গাছটার তলায় চোখে পড়ল বাসন্তীর মেয়ে মীনুকে। শীতের দুপুরের সোনা রোদ ঝিলমিল করছে নারকেল পাতার ফাঁকে। আর সেই রোদ গায়ে মেখে মীনু হেসে কথা বলতে বলতে যেন গড়িয়ে পড়ছে বান্ধবী রাবেয়ার গায়ে। মীনুর শরীরের ভূগোলে বাসন্তীর ছায়া! আমার শিরায় শিরায় পূর্বজ - দের রক্ত খলবলিয়ে উঠতে চায়...
       দুপুরে খাওয়ার পর অনুরাধা বাসন্তীকে নিয়ে তিনতলার ছাদে এক হাঁড়ি ডালবাটার বড়ি দিতে চলে গেল। তাদের কথাবার্তায় জানতে পারলাম শীতের রোদে বসে তারা চালের গুঁড়োর মন্ড দিয়ে চষিও বানাবে।
         আমি নিশ্চিন্ত মনে অনেকদিন পর  আমাদের আউট-হাউসের ঘুপচি ঘরটাতে ঢুকলাম। বাসন্তীর মেয়ে মীনু বিছানায় শুয়ে মোটা একটা বই পড়ছিল। অভিজ্ঞ আমি জানি পাঁচদিন পর মীনুর আজ থেকে সেফ-পিরিয়ড চলবে। আমি ঘরের লাইট অফ করে দিলাম, ভর-দুপুরেও অন্ধকার ঝাঁপিয়ে পড়ল ঘরে।




কবিতার মালা || শান্তা ভট্টাচার্য

 

                                                                          শান্তা ভট্টাচার্য


কুন্দ

কুন্দ ফুলের গাছের সাথে আলাপ জমাতে আসে ছোট্ট টুনটুনি
  উড়ে যাবার সময় তার দুচারটি ডাক ফেলে রেখে যায় পাতার কোলে।
পরদিন আড়ি পেতে সেই একই সময় খুঁজে বুলবুলি তার দূপুর কাটাতে এসে শিসটুকু লুকিয়ে রাখে ফুলের রেনুর কাছে।

  সেই একই সময় মন বাইতে বাইতে  আমার প্রিয় মূহুর্তগুলো গচ্ছিত রেখে আসি গাছের শিকড়ে।
  তারপর হাম্বির আলাপ গাইতে গাইতে পাখির সুখ বয়ে মন পালায় অচীনপুরে।





কবিতার মালা || ভাস্বতী নাথ

 

                                                                     ভাস্বতী নাথ


ব্যর্থ  বিধাতা           
                                                                                           
অভ্যাসের ঘরে নেহাতই  খেলাচ্ছলে
যদি ঢুকে পড়ে মধুলোভী  প্রজাপতি  !

ফুল তো দূরস্থান,  এ ঘরে
নোনাধরা টবে একদা বাহারী  এক গাছ
ফ্যাকাসে সবুজে হলুদের বাটিক প্রিন্ট নিয়ে
অস্তিত্ব রক্ষার  নিয়ম-লাইনে

তোমার পুরোনো চোখের মণি
প্রজাপতির ডানা থেকে রঙ ধার নেবে ,

নাকি চুপচাপ ব্যর্থ  বিধাতাকে  
ফিরে যেতে দেখবে !



কবিতার মালা || নীপবীথি ‌ভৌমিক

 

                                                                  নীপবীথি ‌ভৌমিক 



স্নান শেখেনি যারা 
 
  যেসকল মানুষেরা ডুব সাঁতার জানে, তারা কি স্নান শেখে আদৌ ?
জলে ভিজে যায় জীবন, এক হাত থেকে আর এক হাত
   
  ডুবে ডুবে হারিয়ে যায় নদী _ বসন্ত _ মানুষ...

   রঙ মাখা চোখ নিয়ে বন্ধ দরজায় কবিতায়
  ধুন তোলে সারেঙ্গীর বিরহে

    যেসকল মানুষেরা ডুব সাঁতার জানে
     তারা কি গান গায় কখনো?
  বরং নিরাপদ বিষণ্ণতায় রোদ মেলে আকাশ থেকে আকাশে,

   আসলে ডুব সাঁতার দেওয়া মানুষগুলো
       বড়ই বোকা,  
     সুর হারিয়ে ফেলেছে বলেই হয়ত কবিতাই লিখে গেল আজন্ম।


 
অঙ্কের খাতা
    
 সব অঙ্কের কি হিসেব মিলে যায়
 
   আলো থেকে আলো খুলে পড়ে।  প্রতিফলন থেকে
    প্রতিসরণ...

     বাজারে ফর্দ‌‌ মেলে না। অথচ থলে ভরে যায়
      হিসেব মেলানো জীবনে

 একদিন জীবনকে প্রশ্ন করেছিলাম বাজী রাখা
   কাকে বলে ;

    হিসেব হীন জীবন অঙ্ক জানে না বলে
    শূন্য এঁকে খাতায় খেলে যায় কাটাকুটির অভিনয়।



কবিতার মালা || উপাসনা সরকার

 

                                                                       উপাসনা সরকার


ধাঁধা                                                                                                            



আমরা দেখতে দেখতে স্থির করে নেব

আপনার জীবনে কোন জটিলতা নেই

আপনি নিখুঁত স্ক্রিপ্টে বলে যাবেন

যাবতীয় সংলাপ

একটুও ওঠা নামা নেই

নেই তাচ্ছিল্য বা প্রহসন

জমাট অন্ধকারের অস্তিত্ব নেই কোনো

সাফল্য আর মন খারাপের আপাত বিরোধ নেই


আমরা সাজিয়ে রেখেছি মঞ্চ

একে একে সিঁড়ি আর ধাপ

আপনার অবসরে কালো কফি আর দামী চুরুটের গন্ধ

এত প্রেম আর মোহ ডিঙিয়ে জীবন অগ্রাহ্য করার

শক্তিই বা কি আছে আপনার?


অন্ধকার আর আলোর এই ভারসাম্য

আমাদের খেয়ে নেয় না

গল্প খুঁজে খুঁজে আমরা উপন্যাস লিখি

আমাদের বিরক্ত হতে নেই

কাঁদতে নেই কোনদিন

আমাদের এমন কেউ থাকবেনা

যাঁকে বলে দেব "পারিনি জানিস"


কত ভুল এমনি এমনিই আমাদের জীবনে

এল আর গেল

কত দুঃখে আমরা এমনিই একা দাঁড়িয়ে রইলাম


তোমরা দূরে দেখলে সিগেরেট পুড়ছে

ভিতরে ভিতরে কত মানুষ পুড়ে গেল


সে খেয়াল নেই

আমাদের মনে হবেনা সে কথা!



কবিতার মালা || মৌসুমী চক্রবর্তী ষড়ঙ্গী

 

                                                               মৌসুমী চক্রবর্তী ষড়ঙ্গী


ব্যবধান                                                                                                            
  
ভাবনা কি অস্পৃশ্য হয়েছে কখনও ? 

শ্রাবণের গান হয়ে ভিজে গেছে কাজল !
প্রনয়ের ভিজে পালক থেকে ছড়িয়ে পড়েছে  
সহিষ্ণুতার বিন্দু 

রাতের একলা ছাদ হাতছানি দিলে --
জাগরণের সঙ্গী হয়ে অনর্গল কথা বলেছে 
তৃষ্ণার্ত মেঘ - - -

সম্বিত ফিরে এলে জ্বলজ্বল করেছে
আমাদের ব্যবধানের নগ্ন নাম , ভিন গোত্র 

তুমি তো আমার হবে না কখনও 
তবে কেন রাখো ঐ অনিমেষ চোখ ! 
আজও ?


স্পর্শদোষ 
  
তারুণ্য দিয়েছে যত গভীর মিঠাস 
তাতেই তোমার তৃপ্তি ?
তুমি তাকে করেছ লালন
ছুঁয়ে দেখো,  চেখে দেখো বিনোদন-ত্বক - - -

পুরোটাই শুধু রক্ত মাংসে ছয়লাপ ।

গহন বিশ্বাস থেকে 
উঠে আসে মসৃণ-যাপন 
তাকে যত্নে তুলে নিতে যে হাত বাড়ায়  প্রিয়তম __
কেন তাতে বারবার মৃত্যু-ফুল ফোটাও!


কবিতার মালা || সুকন্যা ভট্টাচার্য্য

 

                                                                       সুকন্যা ভট্টাচার্য্য 


মায়া

শিশিরের ভালবাসা জমেছে কচুপাতায়।

টলে গেলেই হারিয়েছি শপথ। তবু পিপাসা মিটিয়েছি। হাত পেতে নিয়েছি ঊষের জল। কিরণ অন্ধকার ভাঙে কিন্তু মায়া শুরিয়ে গেলে হাতে কি থাকে বল?আলো মেখে ভুলে যাব শিশিরের পথ? তাই বাঁচিয়ে রাখি ঘাসের জলজ ভাষণ।






কবিতার মালা || রিনা গিরি

 

                                                                              রিনা গিরি


ফ্রেম                                                                                                                            

ফ্রেমে বাঁধানো বয়সের কাছে এলাম
অমনি জড়ো হল পূর্বকথার মুহূর্তরা 
আর ঘরময় ছড়িয়ে পড়লো 
পারফিউমের গন্ধের মতো টাটকা বাতাস ।
প্রান্তরে বেজে উঠে কৃষ্ণের মোহন বাঁশি
আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়
অন্য কোন মায়া জল নদীতীরে
কতোদিন ছেড়ে আসা গ্রাম।
সূর্যডোবা সাঁঝবেলা অহরহ মনে পড়ে...