Thursday, 21 April 2022

বৈশাখ সংখ্যা || পৌলোমী ভট্টাচার্য ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||   পৌলোমী ভট্টাচার্য





আই ল্যাশের কোলে তিস্তা

তুমি যখন তোমায় নিয়ে ব্যস্ত
আমি সিগনেচার রাখলাম পাথর খাঁজে ~

ধোঁয়াশায় স্তব্ধ কয়েক পাতা
আকরিক ভূগোল
হঠাৎই আই ল্যাশের কোলে তিস্তা

নির্জনতায়
সবেরা মাখা তন্দুরি ধুলো ↑

ধুলোর গা ঘেঁষে শুনছি
ওরই নাট্যরূপ |আর
ভেজা নদীর প্রবাহিত নীরবতা ,যা |
                                     ↓
             {পৌলোমীর যমজ গ্রামার
কেঁদেছি অবাস্তবের ভিজে সিঁড়িতে
Till the date ... }

পাহাড়ের ঠোঁটে তখন মেহবুব গোধূলি
চুমু খেয়ে গ্যাছে ,আর ||  নির্যাস ≈
আমার পশমে (স্বপ্ন আঁকে
কুয়াশাময় নক্ষত্র )= কর্পূর


বৈশাখ সংখ্যা || শ্রাবণী গুপ্ত ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||   শ্রাবণী গুপ্ত


মানুষ কি জানে


মানুষ কি জানে
মানুষের কাছে কোন শব্দ থাকে না!

মানুষের চেয়ে ঢের ভালো কোনো নদী
কোনো গাছ কোনো ফুল-প্রজাপতি

মানুষ যে ভাবে ব্যথা দেয় মানুষীর বুকে
সেভাবে কি গাছেরা ক্লেশ ছড়িয়ে দেয় গাছেদের গায়ে?

নদী জানে কিভাবে আড়ালে রেখে চলে যেতে হয়
মানুষের কাছে পাওয়া বেদনার কথা,
ফুলও জানে, শুধু মানুষই জানে না

কথার ভেতরে তত শব্দ থাকে না
নীরবতা চুপ থেকে যত শব্দ রেখে যায়।


বৈশাখ সংখ্যা || সোমা দাস ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||   সোমা দাস


বে-লয়


বেহালার ছঁড় বাজেনা আর, জমছে ধুলো
পাতায় পাতায় দমবন্ধ 
স্বরলিপি গুলোও ! 

সুর লাগেনা একতারাতেও
বেসুরো তাল, 
অন্ধরাতও কাটবে , তবে
বেলয় সকাল!


বৈশাখ সংখ্যা || অন্তরা সরকার ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  অন্তরা সরকার



বিশ্বাসে থেকে যেও

অদৃশ্য সাঁকো য় ঝুলছে যুগল তরী,
তোমায় রেখেছি উত্তর দিশায় ধ্রুবতারার আলোয়,
তুমি সমুদ্র বাতাস , তুমিই দুই শ্বাস,
সূর্য রেখার প্রতিবিন্দু গতিমালায় নিখুঁত বলয় সাজিয়েছি আনন্দে দূর্বাদলে।
তবে কেন এত অবিশ্বাস, অতন্দ্র প্রহরী হয়ে রাত জাগে?
ঝরে পড়ে মুখে রঙ, কুঁকড়ে যাই অন্তরালে।
প্রবল কালবৈশাখীর দাপটে নুইয়ে পড়ে কোমল লতা, 
যার বাকলে জড়িয়ে আছে শুধুই তুমি।
ধ্বংস হোক এই বিধ্বংসী প্রলয়,
বৃষ্টি জলে স্নান করে মুছে যাক অভিমান।
বৈঠা হাতে আবার দুজনেই ভেসে যাই স্রোতস্বিনী নির্মল স্রোতে।


বৈশাখ সংখ্যা || জয়তী ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  জয়তী



টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটল স্টার 

ওরা সারারাত নদীর সাথে খেলা করেছিলো 
আমি স্পষ্ট দেখেছি জানলার এপারে দাঁড়িয়ে 

তারপর ওরা রাজহাঁসের পেটে ঢুকে গেছে 
একথাও আমি স্পষ্ট জেনেছি -

মাঝেমাঝে ওদের ডাক দিই নদীর পাড়ে গিয়ে
ওরা হেসে ওঠে নদীর ওপারে-

সাঁকো পেরিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে অজস্র গান 
ধারাপাতে ভিজে উঠেছে ভেতরের ঘর.. 

ওরা অগ্রাহ্য করে
হাসে- লুটোপুটি খায় আকাশের দেওয়ালে -



বৈশাখ সংখ্যা || অনন্যা ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||   অনন্যা



ভোর

আলগোছে শুরু যখন তখন ওমনি এক মায়া নিয়ে ফুটে ওঠার গন্ধ
আলতোছোঁয়া ভীতু চেহারা কুঁড়ির মত বুজে
সময় লাগে প্রকাশে স্বচ্ছন্দে ছন্দময়তায়
ধীরগতি বুঝি। তো কি ! স্বচ্ছতায় স্পষ্ট সময়ের পথে সময়ে

যেকোনো সত্য ভিড়ে হারিয়ে যেতে যেতে যেতে ঠাঁই পাতবার
তাগিদে প্রায়শই বুঝি গোলকধাঁধায় হারায় কখনওবা ফুরোয়ও
তবু যে খনে সবকখানা পাপড়ি মেলে পূর্ণতায় গভীর
সে তখন সাহসী - সহজ
বিনম্র - ঋজু
চোখে চোখ রাখে নড়চড় নেই
ভোর থেকে মধ্যাহ্নে
গোধূলি হতে মধ্যরাত
এক
আটপৌরে গন্ধমাখা গোটাদিন


Tuesday, 19 April 2022

বৈশাখ সংখ্যা || বাণীব্রত চক্রবর্তী ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  বাণীব্রত চক্রবর্তী


সাদা - কালো

হাওয়ায় ওড়ে  সাদা  পালক, 
আমার  সততা  এবং অতীত 
বাথানে ডাকছে কালো মহিষ
আমার  ত্বক  ওই পশুর মতো 
হাওয়ায় ওড়ে সততার শুভ্রতা
পাশাপাশি ওড়ে চতুর বায়স
বিপ্লবের ছদ্মবেশে  রাজনীতি 
 প্রতিদিন  নাচে যেন  পিশাচিনী।


চোখ  দেখলেই 

চোখ  দেখলেই বুঝতে পারি
চোখে  রাগ, নাকি সংরক্ত আঁখি 
বুঝতে  পারি ভালোবাসার  মায়া।
আজকাল কিন্তু   তুমি দুর্বোধ্য 
কবিতা  হয়ে গেছে রুক্ষ গদ্য।

বৈশাখ সংখ্যা || প্রকাশ ঘোষাল ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  প্রকাশ ঘোষাল


শব্দ-সফর

পাড়া বেড়ানি চোখ। উঠোনে অন্ধের ইশতেহার।বৃষ্টিহীন রেটিনায়
আলো পড়লেই পাখিদের মৃত্যুর খবর ভেসে আসে।
নিজস্ব বাঁশিতেও এখন শেষ ট্রেনের হুইশেল
১০০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে জ্বলে উঠছে নক্ষত্রের বিছানায়।
গিনিপিগ ছাড়া সত্যি পুরনো শহরে কেউ নেই আমার,
অনলাইন জোনাকিরাও আজকাল সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়ে।
জলের ঘূর্ণির ভেতর বিসর্গ কথা বলছে-
আগামী কয়েক দশক পৃথিবীর সমস্ত কবিরা একদিন
মূর্খ আগুনের মুখোমুখি হবে
এখন চৈত্র ঘুম পেরিয়ে বৈশাখ যা দেখছে দেখুক।
আপাতত ব্রিফকেস ভর্তি কিছু যতিচিহ্ন পাহাড় ভ্রমণে যাক।
শুধু
আয়নায় চন্দ্রবিন্দু উলটে গেলেই আবার সেই মোচ্ছব আর শব্দ-সফর।


বৈশাখ সংখ্যা || রাকা মুখোপাধ্যায় ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  রাকা মুখোপাধ্যায়


নো-ম্যানস ল্যান্ডে

                 
কাঁটাতার ছুঁয়ে ফেলেছি ভুল করে
জ্যোৎস্না ভেজা অন্ধকারে
হাসনুহানার গন্ধে মাতাল যখন
ছুঁয়ে ফেলেছি কাঁটাতার ভুল করে

বুঝিনি নিজের চারপাশে
এঁকে রেখেছ সীমারেখা
তাই ভুল করেই তোমাকে ছুঁতে গিয়ে
 ছুঁয়ে ফেলেছি কাঁটাতার

রক্তাক্ত হয়ে বসে আছি
ঠিকানাহীন অপেক্ষা নিয়ে
নো-ম্যানস ল্যান্ডে...
শুধু একটু আদর মাখব বলে 



বৈশাখ সংখ্যা || বাপ্পাদিত্য রায় বিশ্বাস ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||   বাপ্পাদিত্য রায় বিশ্বাস


নিরপেক্ষ 


 একটা মালগাড়িকে
 ষোলোটা রেললাইনে টুকরো করে বসালে
            ব্যাপারটা কি কবিতার মত লাগবে?
 নাকি প্রত্যেকটা লাইনে
                 একটা করে ইঞ্জিন জুড়তে হবে
 লেজে একটা করে গার্ডের কামরা
 আর সঙ্গে অবধারিত পতাকা, হুইসেল...
 একটা টুকরোও টুকরো থাকবে না শেষ পর্যন্ত
 চলতে চলতে প্রয়োজন হবে আরও ওয়াগনের
 তারপর একদিন তুমিও প্রশ্ন করবে
 সেই মালগাড়িটাকেও বেশ কয়েকটা লাইনে
 টুকরো করে বসালে কি
                         একটা কবিতা পাওয়া যাবে?

 এসব উত্তরের জন্য ইঞ্জিন অপেক্ষা করেনি
 গার্ডের কামরারাও অপেক্ষা করবে না কোনোদিন। 


বৈশাখ সংখ্যা || মধুপর্ণা বসু ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||   মধুপর্ণা বসু



প্রেম রতন ধন পায়ো 


ভালোবাসা নিঃশব্দে বুকে মাথা রাখে,
মসৃণ রেশমের জাল বুনে চলে      পাখির নীড়।
দুটি শক্ত পুরুষালি হাতে নরম যুঁইফুল,
সাবধানে মুঠো ভোরে নিরাপদ অলিন্দে রাখা,  
        সুবাস ছড়াবে,         পাপড়িও মুক্ত প্রাণ।
বালুচর পিঠ জুড়ে আঁচড়ে লেখা পুরাতনী সঙ্গমের উনসত্তর নাম,      
জ্বালাটা তীক্ষ্ণ তবু সহনীয়।

ওটা এমনই প্রবহমান বিশ্বাস প্রশ্নের চোখ...
      অন্ধকারে দ্বিধাহীন ভেসে যাওয়া
      প্রেম নামে নেশাতুর অসুখের যাম।

      যাবতীয় প্রতিকূল ঝড় বয়ে শেষ কথা, 
অনুকূল দুটো সবুজ পাতায় ধরা জীবন প্রতিদিন।
আকুল চোখে নিঃসংশয়              আস্থা যার নাম।
      এক পালঙ্কে যাবতীয় যুদ্ধে পরাজয় সুখ,
      চুমু অনুসঙ্গে ভালোবাসাময় ঋতুপরিবর্তন।



বৈশাখ সংখ্যা || উদয়ন চক্রবর্তী ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||   উদয়ন চক্রবর্তী 


মানুষই সার্থক মাংসাশী


মৃত তারাদের কান্না বাস্প হয়ে গেছে
ছায়াপথে
তবুও মৃত চাঁদের অতীত শব ভেসে আছে
বাঁশ বনের দিগন্ত রেখায়
সেখানেই কেউ একজন হত্যা হোলো এখনই 
রাজনীতির বিনোদনে

হাসপাতালে রাত জাগা চোখ দু হাত দিয়ে নিজের রিক্ততা সরায়
হাত বাড়ানো লোকজন তখন  ঘুমোয়
স্বপ্ন ঘুম মিথ্যে চিত্রনাট্যে

আমিও খুঁজে দেখছি শূন্যতার আকাশ 
যদিও মেজাজ কে রাজা বলে কেউ কেউ 
তাইতো সভ্যতা মাংসের কিমার মতো
ছোট ছোট ভাগে প্রলাপ বকছে নিজের 
ভুল শুধরে নিতে 

ঈশ্বর নিঃশব্দে বলে চলেছে মানুষই
একমাত্র সার্থক মাংসাশী।



বৈশাখ সংখ্যা || ঋভু চট্টোপাধ্যায় ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  ঋভু চট্টোপাধ্যায়


সার্কাস অথবা খেলা মাত্র      


অনেক ক্ষণ এভাবে দাঁড়ানোর পর ব্যথা

হওয়া দুটো পা এক সাথে ওপরে ওঠানোর নাম

যদি সার্কাস হয় আমি তবে নেহাৎ দর্শক।

এ পর্যন্ত সব ঘরের জানলা বন্ধ রেখেই উত্তরণ

সব দরজা বন্ধ রেখেই এগিয়ে যাবার চেষ্টা

প্রতি পদে ঘিরে রাখছে গোলাপি রুক্ষতা।

ভালো আছি এমন এক মরিচিকার ভেতর

বেঁচে থাকতেই মৃত্যু ভয় এক্কেবারে ধা।

যা হচ্ছে বেশ, ক্ষয়ে মরুক উনবিংশ অধ্যায়।

জলের আলপনা আঁকার পরে যেভাবে

হারজিতের ঘোষণা, ভয় লাগে এই সব কিছুই

খেলা হয়ে যাবে না তো?

 


বৈশাখ সংখ্যা || সুকন্যা ভট্টাচার্য ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||   সুকন্যা ভট্টাচার্য   


পটচিত্র


নিমতিতা গ্রামের দোদুল্যমান পটেশ্বরী 
ঝুমুর নাচের আগে কথায় কথায় গলাগলি
চোখ মোছামুছির শেষে নাম.. রসকলি।
কেউ দিয়ে যায় চাল,তেল,আটা
 পিছনে আছেন কেউকেটা।


টেলিফোনের তারে শালিকপাখির ঢেউ
খবর নেওয়ার আজ নেই আর কেউ।



বৈশাখ সংখ্যা || বর্ণজিৎ বর্মন ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  বর্ণজিৎ বর্মন


ভিত্তি


সভ্যতা গোপনে সোশালাইজেশন ঘটায় 
সংস্কৃতির কংক্রিট ভিত্তি নির্মান হয় 

গাছের ছায়া নেমে আসে বিকেলে 
উত্তপ্তনিজস্ব গ্যালারি ছেঁড়ে 
বিলিন হয় 
ঘরে আসবাবপত্র  একা একা কথা বলে 

তখন শূন্য উঠোনে গমগম হাট বাজার বসে 
জড় সত্তা নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করে 

সভ্য মানুষ উপস্থিত হওয়ার আগেই তাদের 
সব নিত্যপ্রয়োজনীয় নিতে হবে 

মানুষ আশ্চর্য প্রাণী ।
পোশাকের ইচ্ছা রং dominance  করে ফেলে



বৈশাখ সংখ্যা || মানস চক্রবর্তী ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||   মানস চক্রবর্তী



জ্যোৎস্না 

জ্যোৎস্না কোনো মৃত স্বপ্নের ছায়া নয় 
বিলীয়মান রঙিন স্বপ্নের বুদ্বুদ নয় 
বেঁচে থাকার এক নিবিড় পাণ্ডুলিপি 
লেখা থাকে আমিষ কথা, বেদনার সুখ, 
নবান্নের দেশে দেখা হওয়া ম্লান মুখ |  

পৃথিবীতে ঢের দিন বাঁচা যায় 
ঢের দিন বেঁচে যাব 
আবহমান স্রোতে আসা-যাওয়া, যাওয়া-আসা 
কত হবে; তবুও মলিন দিন রাত্রি শেষে 
প্রগাঢ় অভিজ্ঞতা জ্যোৎস্না অবশেষে | 

Saturday, 25 December 2021

পৌষালি সংখ্যা || সম্পাদকীয় নয় কিন্তু

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  অভিজিৎ দাসকর্মকার 





সম্পাদকীয় নয় কিন্তু 


আমি ১৪ ই নভেম্বর, ২০২০ সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ও প্রকাশনার সম্মাননা অনুষ্ঠানে অবনীন্দ্র সভাঘরে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলাম, কবি মন্দিরা ঘোষ এবং কবি রিতা মিত্র কে মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য হিসাবে গ্রহন করতে ইচ্ছুক।তাঁরাও সম্মতি প্রকাশ করেন এবং গ্রহন করেন। 

    
    কবি রিতা মিত্র                                          কবি মন্দিরা ঘোষ                                                                                                                                                                        
সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মানে আমার আমাদের একটা টিম।তাঁদের মতামত,তাঁদের পছন্দ, না-পছন্দ সবের কদর এবং গুরুত্ব দেয়া। আমি তাঁদের নিয়ে এই প্রথম সংখ্যা প্রকাশ করছি, যাঁরা মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকায় আগে কখনো লেখেন নি। কবি মন্দিরা ঘোষ এবং কবি রিতা মিত্র, আপনাদের পাশে পেয়ে আমি খুশি, আনন্দিত। বিশ্বাস করি আমরা একসাথে সুগঠিত কাজ করতে পারবো। 

আমরা সেইসব কবিদের অনেক ভালোবাসা জানাই, যাঁরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন।এ পত্রিকা আপনাদেরও।


পৌষালি সংখ্যা || অজিতেশ নাগ

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||  অজিতেশ নাগ 


অব্যবহৃত 


মানুষ মানে তো শুধু তুমি আমি নই,

আদিগন্ত চা বাগানের শেড-ট্রির নিচে অনাহারে মরে থাকা মানুষটাও তো ছিল,

ছিল মাসে একদিন ঘরে ফেরা নোনাজল উজিয়ে মেছো বাতাসে গা ভেজানো মানুষটাও,

ফিরে যখন যেতে পারছি না উলঙ্গের দেশে,

তখন কাপড়ের নিচের আমি-মানুষটা তো সবটাই রক্তমাংসের কাঠামো

আমরা মানে তো শুধু আমি তুমি না,

গাইতি হাতে ঝড়ের সামাল দেওয়া কাকে বলে দেখেছ কোনওদিন?

 

আমি সমুদ্র নই, আমি নুলিয়া নই, আমি মৃতদেহও নই,

অব্যবহৃত কোন চাবির মত পড়ে থাকি ঘরের সামনেই,

তুমি হয়ত আমায় এঁটো চাঁদ নিয়ে কবিতা লিখতে দেখনি; কিন্তু - 

দেখেছ কি নিপুন যত্নে আমি তোমার সেমিজ সেলাই করি?

 

 

যেখানে এখন আমি

 

আর কোনদিনও চিঠি আসবে না,

আর কোনও ডাকঘরের ঠিকানা খুঁজে পাবে না কোনও সামান্য পোস্টকার্ড,

দেশ বিদেশের ডাকটিকিট ছোপানো রঙিন অথবা সাদাকালো,

প্রায় নোংরা হয়ে আসা জীবনের কথাগুলো সম্বল করে,

আর আসবে না এই খোয়াইয়ের চরে

যেখানে এখন আমি,

জানতাম কীভাবে একতারা, দোতারা, তিনতারা হয়ে উঠে যাওয়া যায় সপ্তসুরে,

সপ্তডিঙা ভাসিয়ে দেবার প্রাক্কালে।

ঠিক এখন যেখানে আছি, তার অনেক উপরে অনেক কাক, চিল, অর্ধ-উন্মাদ পাখীর দল,

অনেকদিন কাটিয়েছি ওদের জীবন, নারীসঙ্গ, কবিতা আসর......

আস্বাদিত তৃণের শাকাহারি জিভ ছুঁয়ে পড়ে আছি পরম শান্তিতে

আর কোন পুর্ব-আদেশ মত চিঠি লিখতে রাজি নই আমি

 

 

বিছানা-বালিশ 

 

যদিও এই বিছানা-বালিশে লেপ্টালেপ্টি করে আছি,

তবু চাইলেই কি ফিরে যাওয়া যায় সেই বাদুরের দেশে,

সেথায় কোন এক প্রাগৈতিহাসিক সন্ধ্যেতে,

বিশাল ঘরের এক প্রান্তে রাখা চারশ বছরের পুরনো পিপেতে রাখা মদ,

চুপিসাড়ে একঢোক পান করে ফিরে যাবার সময়েই,

বিষাক্ত অবিশ্বাসে হা হা উড়ে গিয়েছিল বাদুরের দল,

আমার অস্তিত্বকে বিশ্বাস না করেই

তবুও আজও বিছানা-বালিশে সেই অস্তিত্বের স্বাদ মাখিয়ে রাখি,

ভুলে যেতে চাই ঘরছাড়া বাদুরের মত 

আমি চলে গেলে এই বিছানা-বালিশ বেচা হবে দারুন সস্তাদরে

 

 

ঘুম চাই

 

আমার হৃদপিণ্ডের নিচে দমচাপা প্রেম এক-ঠ্যাং ভাঙা কাকের মত
দাঁড়াবার অতি প্রচেষ্টাতবু নানা সাংসারিক অক্ষমতানাড়িছেঁড়া প্রতিবন্ধকতা
বিশ্বাস না পেতে পেতে নাক দিয়ে অবিশ্রাম শ্লেষ্মার মত বেড়িয়ে আসে দম
কখনো শিশুর মত ঘুম চাই। 
আমার ফুসফুসের নিচে দমচাপা প্রেম কোমরে দড়ি দেওয়া বাঁদরের মত
কত অহংকারে রাত জেগে থাকে কত সাম্রাজ্যের বৃদ্ধা রাজকুমারীরা
তবে তাঁরাও জানেঘোরাফেরা তাঁদেরও অলিন্দেবড়জোর বাতায়নে
তা নিয়ে একটা স্বরচিত কবিতা হয়নারীজন্ম সার্থক হয় নাতাই
এখনই শিশুর মত ঘুম চাই। 
সিন্ধুনদের ওপর দিয়ে যে বক বাতাসে ভাসার স্বপ্ন দেখেছিল
তারও বন্ধুত্ব করার সাধ আমার এঁদো গলির সেই এক-ঠ্যাং ভাঙা কাকের সাথে
নিমেষে যৌনমূর্তিমৌনমূর্তির রূপ পরিগ্রহ করে আমায় আরও জাগাতে চায়
এইমাত্র শিশুর মত ঘুম চাই।

 

 

বোকা চাদর 

 

যে সব নারীর দেহ আরও গলে, আরো খানিকটা পচে গেছে,

তাদের ফোঁপানি চাপা দিই অনির্মিত বোকা চাদর দিয়ে,

ওদের মধ্যপ্রদেশ ফুলে ঢোল, হাত-পা-আঙুলে বেনামা নির্দেশ,

দূরবীন রেখো বন্ধু হাতে,

        আমরা সুরক্ষার দুর্গ থেকে ওদের শোভাযাত্রা দেখব,

        বেমক্কায় জ্ঞান-ফুল ছিঁড়ে রেখে দেবো,

        টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে দেবো ওপর থেকে,

        তবে সাথে রাখব নিশ্চিন্ত নিরাপদ দুরত্ব

আর যে সব নারীর দেহ অবাক কংকাল,

আমোদের ঠাসবুনুনি  ওদের এভাবে পাওয়া সমীচীন নয়,

নাকে কাপড় চাপা দিয়ে চাইলে খুঁজে দেখতেই পারো;

ওই নারীদেহের মজ্জাহীন হাড়ের ভিতর ভালোবাসা  গুপ্তধন





পৌষালি সংখ্যা || শকুন্তলা সান্যাল

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা || শকুন্তলা সান্যাল 



গঙ্গা  বহতা


কিছু কি সংকেত রেখে যায় নাভির পুড়ে না যাওয়া টুকরো?
হয়তো নিশ্চুপে বলে, দেখে দেখে তুমি শিখে নিও 
প্রলয় শেষের ভালোবাসা..,
যা প্রবাহিত গঙ্গার মতোই প্রিয়।

কিছু কি সংকেত রেখে যায় সবুজ বৃত্ত?
যা নিশ্চুপে বলে, দেখে দেখে তুমি শিখে নিও
গাছেরাও ছোটো বড়ো, কেউ বিখ্যাত কেউ অবিখ্যাত।
 শিখে নিও ক্লোরোফিল চারুকলা..,
যার ছোঁয়ায় গঙ্গার শান্তি আছে।

কিছু কি সংকেত রেখে যায় ঋতু পরিবৃত আকাশ?
যা নিশ্চুপে বলে যায় দেখ,কখনও ঝকঝকে বা মেঘলা বা 
কিছু কিছু মেঘ আছে হয়তো ,
বৃষ্টিদিনে হয়তো  তাকালেই না , কিছু পর দেখলে 
জ্যোৎস্নায় ভেসেযাচ্ছে চরাচর,জীবনও যেমন!
আকাশ দেখে অনুভব কর যেন বহতা গঙ্গা... 

আমাদের এই নির্বাণমুখী প্রবাহমুখী  অথবা বিপরীতমুখী চলাচল, 
যার সবটুকুই ভালোবাসার দরুণ অথবা নয়,
অথচ যে সূক্ষ্ম দেহটির নাম 'শান্তিকামী'
যা ছিলো আছে থাকবে ...!


এঁকে গেছে গঙ্গা 

সেদিন গভীর রাতে ফিরে,বারবার ফিরে যাচ্ছিলাম  
একটা শব্দহীন দাউদাউ বৃষ্টির কাছে।
অস্তিত্ব শুধু আলোয় এমন পোকারা 
বোকা ঝড়ের সাথে ঘুরছিলো,হয়তো উড়ছিল না,
হাওয়ারা চলছিলো বলে গা ভাসিয়ে রেখেছিল।

আমার দুঃখ বোঝার অনুভূতিটা ফিনফিনে টিনের পাতের মতো, 
কখন যেন ক্ষয়ে ক্ষয়ে ধার মুড়ে বসেছিল ।
তেমনি চুপ করে থাকতে থাকতে  অসাবধানে
পাতটা মধ্য রাতে ঝনঝন ঝনাৎ শব্দে মেঝেতে পড়ে গেল।
আমি তফাতে থেকেই অমন আচমকা আবেগে খিল তুললাম।

আমি তো তফাৎ এ থেকেই.. 
মা'কে বিদায় দিয়েছিলাম!


থমকে থাকা পাখি

আছড়ে ফেলি আমার আমিকে, 
ওকে স্তাবক বলি।
পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে চিপ্টে দি ওর কান্না।
আবার ভাত বেড়ে দি,অসহায় বলে কাছে ডাকি ।
দৃষ্টি নন্দিত নৌকার মাঝি মনে হয় নিজেকে।
আবার স্তাবকের চোখে গঙ্গার রূপ দেখতে থাকি।
আমি কি থমকে থাকা পাখি?

গঙ্গা গঙ্গা বোধে

আমি পরম হাঁস হতে চেয়ে হয়ে আছি ব্যাঙাচী 
বুকে আমার গঙ্গা প্রবাহ, 
চোখে ঘোরে প্লাসটিক জীর্ণ ক্লান্তি ।
আমি পরম হাঁস হতে চেয়ে 
হয়ে আছি  প্যাঁক প্যাঁক বাগীশ ।আমি আছি,আমি আছি বলি,
তবু কচুরীপানা বলে আমি নেই আমি নেই ।
এ শুধু আমার নৈঃশব্দের ঝংকার,শুনতে পায়না কোলাহল ।
কেউ নেই কেউ নেই আমিও না!
বহতা গঙ্গার বুকে ভাসছে, ভাসছে যাতা?

শান্তি কই শান্তি কই ?গঙ্গা তো বহতা..।


গঙ্গার বুকে দুঃখ পেতে নেই  


তখন কি আর কাঁদতে আছে
গঙ্গার বুকে যখন ভাসছে প্রমোদতরী?
পুতুল খেলা কিশোরবেলা,
বাদ কি গেছে সবি?

ভেবে তো নিতে পার, তর্কে হয়েছ বিজয়ী!

রাগ টাগ অন্তর জ্বালা নিভিয়েছে বান্ধবী ।

ভেবে তো নিতে পার,এক একটা কালো রাত্তির 
ছোট হতে হতে ছোটো কালো তিল
বরাত পেয়ে এসে বসে আছে ঠোঁটে,
আর ঘুরে যাচ্ছে তিলোত্তমায় সিনেম্যাটিক রিল..

অনুমান থেকে নেমে আসে প্রশ্নপত্র জেন,
হয়তো বিতর্ক আবার উস্কে দেবে মাথা!
দিঘি বাতাস পেলে মাখোমাখো হবে
এতো জানা কথা।
এমন কিছু  ভাবনা সেতো একি মাথায় গড়া!

গাছ টাছ তুমি কি হতে চাও !
আনমনা শৃঙ্খল মেঘবতীকে পরাও?

যদি বৃষ্টি বৃষ্টি নিম্নচাপ তোমায় চেপে ধরে,
যদি বান্ধবী কাঁচের বাংলোয় 'বৃষ্টি পোহাই আয়'বলে,

তখন কি আর কাঁদতে আছে?
যখন গঙ্গার বুকে ভাসছে প্রমোদ তরী!
পুতুল খেলা কিশোরবেলা 
বাদ কি গেছে  সবি?