Friday, 8 May 2020

ইভা দাশগুপ্ত

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ 
রবি ছায়ায় কবিতা ২০২০

মনের কাননে   ইভা দাশগুপ্ত 

এ এক অন্য সকাল 
এক অন্য আয়োজন 
এক অনন্য উচ্চারণ 
এমন সমর্পনের পৃথিবী কখনো দেখিনি 
শুনশান, নির্বাক, দূষণ মুক্ত আকাশ 
কাগজ পড়লে অস্ত্র পড়ার শব্দ !

দুর্ভেদ্য নিঃসীমতায় শুধু তুমি তুমি আর তুমি 
নিঃস্তব্ধতার প্রাচীরের আড়ালে তোমার পদধ্বনী 

ভোরের স্নাত পুষ্পমাল্যে বরণ করি তোমায় 
কোনো আড়ম্বর তুমি চাওনি কখনো 
প্রাণের মাঝে প্রাণের মিল 

এসো কবি, ভরিয়ে তোলো তোমার সুর মূর্ছনায় 
জাগাও দিগ্বিদিক আলোক মঞ্জিরায় 

ভগ্নহৃদয় উজ্জীবিত করো তোমার আশীষ বার্তায়

প্রণাম তোমায়, প্রাণের ঠাকুর, প্রণাম l

থাকো তুমি স্বপনে মমনে 
চলনে বলনে থাকো তুমি 
মনের মধ্য কাননে l

এষা চক্রবর্তী

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ 
রবি ছায়ায় কবিতা ২০২০


বিশ্বকবি সম্রাট  এষা চক্রবর্তী

বিশ্বকবি সম্রাট তুমি, ঠাকুর পরিবার,
একটি নাম সবার মুখে আসে বারবার।
গানে ,গল্পে, কবিতায় ,তার পরিচয়,
গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ লিখে করলেন বিশ্বজয়।
আকাশ বাতাস মুখরিত তারই জয়গানে,
অমর হয়ে আছেন তিনি বিশ্ববাসীর প্রাণে। 
অনুভূতির শিখর চড়ে গানে গানে ভুবন ভরে,
গল্পকথায় উপন্যাসে চিঠিপত্রের প্রাণ ভাসে।
উজান বেয়ে মাঝি নৌকা চালায়,
হাল ধরে সে আপন খেলায়।
নোবেলজয়ী বিশ্বজয়ী মনে পড়ে কেবল তারই ছবি,
তিনি মোদের রবি ঠাকুর প্রাণের বিশ্বকবি।।

সোমনাথ বেনিয়া

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ 
রবি ছায়ায় কবিতা ২০২০

সাঁঝতারা   সোমনাথ বেনিয়া

যে আলো অক্ষর থেকে আসে, পুনশ্চ গান
উচ্ছ্বল তরঙ্গে অনুমোদন
ডুবে যাই অতল মায়ায়, কী সম্মোহন
সুর ধরে দিগন্তের কাছে রাখি ধূসর ব‍্যাকুলতা,
মেঘলা মনের গুপ্তকথা ...
প্রয়োজনের কাছে দাঁড়ায় স্নিগ্ধ নিশ্বাস!
শত ভুল অন্তরের স্ব-ইচ্ছায় চূর্ণ
গ্রহনের আকুতি পাঁজরের দগ্ধলিপি
উপসংহারে দরজা খোলা, প্রিয়
দেখে যদি জনপদ, সেও বুঝি পাগলপারা
ছুটে আসে অবিরাম ক্ষত, রক্তক্ষরণ
এই তো বটের ছায়া, সাঁঝতারা ...

সোনালী দাস সরকার

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ 
রবি ছায়ায় কবিতা ২০২০


কবিতে মন অঞ্জলি  সোনালী দাস সরকার

ওই এলে ২৫শে বৈশাখ কর্তাল  মৃদঙ্গ বাজে রে
পদ তলে গালিচায় ফুলদল বিছাও রে-
রাশি রাশি সখি সাজে ভুলে তার লাজ রে
নৃত্যে গীতে মাতে প্রাণ ছন্দ কবিতা তালে রে।
নীলাকাশে নীলিমায়,রামধনু রাঙে রে
কেঁপে ওঠে আকাশ বাতাস কার আগমনে রে
ওই এলে জন্মতিথি গুরু দিক্ষা পালনের রে
তস্তময়ৈ শ্রী গুরুবে নমঃ সবে মিলে বলো রে!

সমর সুর

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ 
রবি ছায়ায় কবিতা ২০২০


বাল্মিকী  সমর সুর

এখানে সন্ধ্যা নামলে কৃষ্ণচূড়াকে ছাতিমগাছ মনে হয় 
দেখি বসে আছেন বাল্মিকী আর তার দীর্ঘ ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে আমার উঠোন জুড়ে।
স্বভাবসিদ্ধ ভাবে বৃষ্টি নামে তৎসহ বজ্রবিদ্যুৎ 
যে মেয়েটি রোজ শোনে চটুল হিন্দি গান
আজ তার হলো কি 
সেকি তবে ভালবাসতে শিখেছে 
একের পর পর গেয়ে যায় রবীন্দ্রনাথ।
গীতবিতানের পাতা থেকে ঝরে পড়ে অক্ষরমালা
প্রেম ও পূজা অধরা মাধুরী।
কি জানি কেন মনে হয় পাশের বাড়িটিও প্রিয় বৈতালিক।
তোমার দীর্ঘ  ছায়া যেন এশহর শান্তিনিকেতন।

অনামিকা নন্দী

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ 
রবি ছায়ায় কবিতা ২০২০

কবির বাড়ি    অনামিকা নন্দী

ট্রেন ছুটেছে হু হু করে ছুটছে আমার মন
​সেইখানেতে কবির বাড়ি , যাব কতক্ষণ!
​গেরুয়া মাটির পথে ঘাটে কবির রাঙা পা
​পলাশ শিমূল আজ ডেকেছে ও মন ছুটে যা৷

​ওই যে দূরে ওই দেখা যায় ভুবন ডাঙার মাঠ
​আঁকাবাঁকা কোপাই নদী"বৌ ঠাকুরানীর হাট"
​বসব গিয়ে ছাতিম তলায় ছায়ার লুকোচুরি
​পাবো কি খুঁজে তোমায় কবি! মন গিয়েছে
​ চুরি৷

​কেমন করে লিখতে তুমি এমন কাব্য গান
​উদাস মনে চেয়ে চেয়ে দিনের অবসান ৷
​পৌঁছে যাব গোয়ালপাড়া,খোয়াই বাড়ায় হাত
​তোমার গানে তোমার ভাষায় মুক্তির আস্বাদ৷

​যাচ্ছি সেথায় যাচ্ছি কবি "চৈত্রের শালবনে"
​তোমায় নিয়ে ফিরবো আমার অনুভবে,মনে...















সোমা মান্না

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ 
রবি ছায়ায় কবিতা ২০২০


আমরা পরিযায়ী  সোমা মান্না 

আমরা পরিযায়ী 
পরিযায়ী শ্রমিক ৷
 আমাদের রক্ত-ঘামে 
আমরা দেশের জন্য সড়ক তৈরি করি,
 ইমারত গড়ি, রপ্তানির জন্য রত্নখচিত গহনা বানাই ৷
 আমাদের ডাক পড়ে ভোটব্যাঙ্ক ভরতে ;
 অথচ সংক্রমণের ভয়ে 
আমাদের ঘরে ফেরাতে চায় না দেশ , রাজ্য ৷ আমাদের জন্য তৈরি করা যায় না কোনো পরিকাঠামো ৷
বিদেশ থেকে এন আর আই-দের ফেরানোই যায় ৷
 তারা বিত্তশালী , আমরা দরিদ্র শ্রমিক ৷
 আমাদের মা-স্ত্রী-সন্তানের হাহাকার বৃথা ৷
আমাদের দেশের ট্রেন আমাদের বহন করতে চায় না ৷
পায়ে হেঁটে পাড়ি জমাই ,মৃত্যুবরণ করি ৷
 কারণ আমরা শুধুই পরিযায়ী শ্রমিক ||

শ্রাবনী বৈরাগ্য

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ
রবি ছায়ায় কবিতা ২০২০


রং মশাল  শ্রাবনী বৈরাগ্য

যদি হঠাৎ করেই
তোমাকে
মনে করতে ইচ্ছে করে
যদি মৃত্যুর আগের মুহূর্তে
জোর করেও তোমাকে
ভুলতে না চাই,

যদি তোমাকে জোর করি
ঠোঁট কামড়ে ধরে
খুব করে চুমু খেতে,
যদি তোমার সেই
ঘামার্ত শরীরের গন্ধে উন্মাদ হতে ইচ্ছে করে-
তুমি কি তখন পারবে,
আমার রং মশাল-এর আগুন হতে?


আবীর ভট্টাচার্য্য

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ
রবি ছায়ায় কবিতা ২০২০

প্রাণের ঠাকুর কে    আবীর ভট্টাচার্য্য

কবে থেকে বলোতো ঠাকুর ভালোবেসে গিয়েছি তোমায়..
শৈশবের বৈশাখীস্মরণে, তব কন্ঠে কুন্দমালা,
সেই শুরু...'সকরুন নিবেদনের গন্ধ ঢালা'
কুমুদিনী,মঞ্জুলিকা,সুচরিতা,বিনুদের সাথে সহবাস
হাসা,কাঁদা, ভালোবাসা,সোহাগ-জর্জর পরবাস
চোখে চোখ রেখে তাকাবার সাহস দিয়েছ যতবার
স্ত্রীর পত্রে মৃণাল হয়েছি,তবু 'অমিত'ধারায় ঝরেছ অনিবার
পুত্র-প্রিয়-পিতা হয়ে ছুঁয়ে যাও গোপন সংরাগে
তোমার আসঙ্গসুধা ভরে থাকে জীবনে, সোহাগে..

আজ নাকি জন্মদিন,..সখা মোর,হে বন্ধু আমার!
যার জন্ম প্রত্যুষের শিশির পতনে,কুসুমের প্রস্ফুটনে
কি প্রয়োজন তার সবিশেষ তিথি-উদযাপনে?
তবু জন্মদিন,কি দেব তোমায়!
এই দুঃসময়ে অভাবে,স্বভাবে উপবাস। ঘরে পড়ে শুধু চিঁড়ে 'টি;
গাছে আছে কলা,বসো,মেখে দিই বাটি ভরে,খাও দুটি
আবার যখন হবে ভোর,
পল্লবিত মল্লিকাবনে গুনগুন মনের ভ্রমর
কুসুমিত কুর্চিগন্ধে ভরে যাবে আমার উঠান
নিও গো ঠাকুর তুমি প্রাণভরে পায়েসান্ন-ঘ্রাণ






Monday, 4 May 2020

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


পাখি রঙের আকাশ   ------ ৬৬

কোথাও একটানা একটা শব্দ হয়ে চলেছে। কানে লাগছে না। আবার কান পাততেও ইচ্ছা করছে না। মনে হচ্ছে চারপাশের পরিবেশের মতো শব্দটাও আমার সবকিছুর সঙ্গে মিশে গেছে। আলাদা করে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শব্দগুলো যেন ভেঙে ভেঙে গিয়ে আরও অজস্র শব্দ হয়ে পিনের মতো সারা গায়ে ফোটাচ্ছে। শরীরে কোথাও কোনো যন্ত্রণা নেই ঠিকই কিন্তু শব্দের পথ জুড়ে সবকিছু যেন অবশ হয়ে আসছে। সেই শব্দপথে আর কোনো শব্দ যেতে পারছে না। অদ্ভুত এক ঠাণ্ডা অন্ধকারের আবহাওয়া। এখনও হাত পা নাড়ছি কিন্তু কতক্ষণ তা জানি না।


আলিউজ্জামান

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










আলিউজ্জামান


বাবা

মস্ত সজনে গাছের পাতা পড়ে আছে আঙিনায়।
রোদপোড়া হাতের অবলম্বনে । সাইকেল প্যাডেল করে চলে যাও ।রামধনুর মত
দুর শ্রমিকের ঘামের গন্ধে।
একটা প্রদীপের ঘরে ।আমার কপালে কাজলের টিপ।এত আবির তোমার পকেটে।
যেনো খেলনা কিনতে দিন ফুরোলো 
পোড়া মাটির পুতুলে । 
সেই পুতুল খেলা বন্ধ হলে ,
অনেক অনেক মোমবাতি ক্ষয়ে যাওয়ার পর,
বুঝতে পারি!
ভাঁটু ফুলের গন্ধে গোপনীয় ঋণ শোধ করে।
বাজারের থলের মধ্যে মায়ের যৌবনকাল সঙ্গে নিয়ে।
তুমি ঠায় দাড়িয়ে আছো পৌষমেলার ভিতরে।


ফুল

যারা একসময় উদ্ভিদের যৌনাঙ্গে হাত রেখে ফুল হতে চেয়েছিলো। প্যারাসিটামলের অভিঘাতে জ্বর কমে আসলে।শীতল ঘাম সঙ্গে নিয়ে।কোমরে বেল্ট এঁটে চলে যায় বেশ্যালয়ে। ধারাপাতের নামতার মত ছান্দিক কৌশলে জলের ভিতর জল হয়ে মিশে থাকে।যেনো মনে হয় ,গভীর ক্ষিদেয় নখ বড়ো হলে । অন্নপ্রাশনের কথা মনে করতে নেই।অথচ ,তারায় একদিন কয়েক বিঘা জমিতে গাজর ফলিয়ে,
বাজারে আমদানি করেছিল বিটা ক্যারোটিন।


অর্থহীন 
     
ঘূর্ণনের স্বার্থপরতায় সূর্যের আলোর বিপরীতে
লিখে রাখি কাগজ --কলম । কোনো যে মানে নেই এইটাই মানে। আরও কিছুদিন নিদাঘ ছড়াও। শ্যাওলা বনে কচুরিপানা ভাসিয়ে নিয়ে যাক জল।যতদূর গেলে চিরবৈষ্ণবার্তি শেষ হয়। সবাইকে ডেকে বলা যায়।দ্যাখো।অভিব্যক্তিহীন মৃত জারজ পাতা।কবিতার মত অনাথের ।
রোজকার ট্রেন

তারপর অনেক অনেক বেলা কাটার পর।সমগ্র মাঠের তিক্ততা গা থেকে ঝেড়ে ফেলে।সূর্যাস্তের শেষ আভায় কপালের ঘাম উবে যাওয়ার আগে নিস্তব্ধ প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামে।প্ল্যাটফর্মের শেষে প্রায় নিঃশেষ হওয়া পুকুরে মাছরাঙা চঞ্চু চুবিয়ে বের করে আনে রুপোলি মাছের বুক।বোহেমিয়ান জীবনের স্বাদ ভুলে ।দুর কলমিলতার ডগায় একটা প্রজাপতি এসব কবর লাশের অদৃশ্য খেলা দ্যাখার পরে গিলোটিনের শেষ সুতোয় আটকে যায় তার ডানা।সেই ডানার কোনো প্রচ্ছদ নেই। রঙিন মলাট উড়ে গেছে নিশ্চুপে,বহুকাল আগে। তারপর শুকনো ঝরঝরে পাতার উপর দিয়ে ট্রেন চলে যায় দূরের স্টেশনের দিকে।রোজকার পান্তাভাতের  অ্যালকোহলিক স্বাদের নম্রতায়। 

আলোকনদী 

আমাকে যেতে দাও!
এসব মমার্থ রেখে দিয়ে যাবো।
তিলককাটা দুপুরে হাত পোড়ালে ভাঙা বৈঠায় উঠা মারাত্মক অপরাধ।
এসব রেখে দিবো আমি,
ফিল্টার পেপারের পরিশ্রুত দ্রাব্যে.
একটা ছায়া যা কিছুতেই সরেনা,
ফু দিলেই আগুন,ফু দিলেই অন্ধকার..
আমাকে যেতে দাও!
আর কত দূরে 
                  আলোকনদী?

সোমনাথ বেনিয়া

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










সোমনাথ বেনিয়া


দরজা 

এক মেয়েকে নিয়ে দুলাল আর মালতীর বাস করে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বস্তি এলাকায়। দুলাল একটি কারখানায় নাইট শিফ্‌টে কাজ করে। ফলত কাজের দিনগুলোতে মেয়েকে নিয়ে মালতী রাতে একাই থাকে। ছোটো ঘর। ঘরের দরজা খুব পোক্ত না হলেও খুব সহজে ভেঙে ফেলার মতোও নয়। ইদানীং মালতী খেয়াল করেছে রাত্রে দরজাটা মাঝেমধ‍্যে নড়ে উঠছে। দুলালকে এই কথা বলার পর দুলাল বলে
     - ও কিছু না। এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আসলে আমরা এয়ারপোর্টের কাছে থাকি তো তাই। প্লেন খুব কাছ দিয়ে ওঠা-নামা করে। তার‌ই শব্দে দরজা মাঝেমধ‍্যে নড়ে ওঠে। দিনের বেলায়‌ও হয়। দিনের বেলায় অনেক হ‌ইচ‌ই শব্দে সেটা শোনা যায় না। এখানে অনেকের ঘরের দরজায় হয়। ও কিছু না। শুনে মালতী কিছুটা স্বস্তি পায়।
        যাই হোক এভাবেই চলছিল। কিন্তু অসময় আসতে কত সময় লাগে! কারখানায় এক দুর্ঘটনার জেরে দুলাল মারাত্মক জখম হয়ে অবশেষে মারা যায়। এখন মালতী তাদের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মনে-প্রাণে আর‌ও নিঃস্ব হয়ে গেল। রাত্রে দরজা নড়ে! এখন তার ভয় লাগে কারণ যখন প্লেন ওঠা-নামা করে না, তখন‌ও দরজা নড়ে ...

Sunday, 3 May 2020

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

পাখি রঙের আকাশ  ------ ৬৫

ব্যস্ততার সকালেই সে এসেছিল। ঠিক বুঝতে পেরেছিলাম। কেমন যেন একটা অন্য হাওয়া। মনে হচ্ছিল কাজের মধ্যেই কোথাও একটা গিয়ে দাঁড়াই। যেন অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। ওই দূরের বটগাছটা, ঠিক তার পাশেই লড়াই করে দাঁড়িয়ে থাকা একটা পেয়ারা গাছ। সবাই আমার নজরে আসুক। কাজে কাজে রোজ মনে হতো। একটু হাতটা থামিয়ে পা-টা চালাই। কিন্তু ওই পর্যন্তই, তারপর আর এগিয়ে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। তারপরই নজরে আসে দক্ষিণের জানলা। হাট করে খোলা। কেউ যেন খুলে দিয়েছে। অথবা নিজেই কখন বসন্ত দুপুরে খুলে নিয়েছে। 
এখন মাঝে মাঝেই কাজ থেকে সরে আসি দক্ষিণের জানলায়। বাইরে আলো ছায়ার বর্ণপরিচয়, হঠাৎ বৃষ্টির ধারাবাহিক নামতা ------ আগের মতোই চিরচেনা ছন্দের পায়চারি। কিন্তু তবুও কোথাও যেন সে হেঁটে যায়। জানলায় বারবার তার উঁকি আলগা করে দেয় আমাকে। আলগা হয়ে চারদেওয়ালের ভারে আজ অনেক হালকা হয়ে গেছি।


অনামিকা নন্দী

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










 অনামিকা নন্দী

বাঁচিয়ে রাখি তোমায়
​               
​এই যে আমার দেশ দেশের মাটি সবই আছে
​অথচ,একটা নেই চেপে ধরে বুকের বাঁ দিকে
​অনুকরনের ঘৃণ্য প্রচেষ্টায় মাথা নিচু হয়
​"মাতৃভাষা"তোমার কাছে ৷
​নিজেকে সাগর ভেবে গর্ব ক'রে , ইচ্ছে মতো
​ছুঁড়ে ফেলে "তোমায়" নিষিদ্ধ বালুচরে ৷

​তোমার আঙুল বেয়ে গড়িয়ে নামে অবহেলার যন্রনা,লাশকাটা ঘরে নির্বাক পড়ে থাকে তোমার শতচ্ছিন্ন অবয়ব ৷
​পোড়াগন্ধের আঁচ অনুভব করি ,ফুসফুসে জমা হয় তোমার সমস্ত গ্লানি --অভিমান
​মনের মাঝে সন্ধ্য্যাপ্রদীপ জ্বেলে তোমায় বাঁচিয়ে রাখি প্রতিদিন ৷ 


Saturday, 2 May 2020

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ











হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


পাখি রঙের আকাশ  ------ ৬৪

তুমি যখন কথা বলছিলে তোমার ভেতর থেকে একটা নদী বেরিয়ে আসতে দেখলাম। কত জল ! একেবারে গলা পর্যন্ত। টলটল করছে। বোঝাই যায় নি তোমার ভেতর আস্ত একটা নদী আছে। কিছু কিছু জায়গায় পানা, জলের ওপর তাদের ফুল ফুটে আছে। ছুটতে ছুটতেও তুমি তাদের কত সুন্দর করে আগলে রেখেছ। সারা দিনরাত তুমি আকাশের দিকে মুখ করে থাকো। বুঝতে পারি তুমিও তোমার দরজা হাট করে খুলে দিতে চাও। আমি বললাম, তোমার মতো এইভাবে কে পায়ে পা মিলিয়েছে। তোমার সে কি আনন্দ। কেউ জানেই না তুমি কত অল্পে খুশি। আসলে কেউ তোমার দিকগুলোকে চেনায় নি। আমি এখনও তোমাকে নাচতে দেখছি।

পৃথা চট্টোপাধ্যায়

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










পৃথা চট্টোপাধ্যায় 



নিঃস্ব রাতের কবিতা 

পোড়ো বাড়ি অথবা পুরোনো দেরাজের স্তব্ধতা 
পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে 
চাবির গোছাটা সেই  লকডাউন থেকে ঝুলছে আলমারির গায়ে  
অদৃশ্য চোখে আমাকে দেখছে কেউ
একটা নিথর বারান্দায় মৃতদেহ শায়িত ছিল 
ভাবতেই সরু পাঁচিলের উপর দিয়ে নিঃশব্দে হেঁটে গেল বিড়ালটা 
তুমি বিষ্ণুপুরের মাটির ঘোড়া চেয়েছিলে
দেওয়া হয় নি 
এরকমই অনেক কথা আজ মনে পড়তেই 
ইউক্যালিপ্টাস গাছের পাতা ধোয়া সুগন্ধি বাতাস
আমাকে শিউরে দিল
চাঁদের আলোয়  এখনো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি 
তোমার তেরছা মুখ, চিবুক 
নিঃস্ব রাতে লিখে চলেছি ভালবাসার কবিতা ...

যখন ইচ্ছেরা কথা বলে

রোদে পুড়ে  তামাটে রং
একমনে বসে থাকে সমুদ্রতীরে 
ঝাউবনে  পাতায় পাতায়  কামনার কানাকানি 
অনাথ হয়ে সূর্যাস্ত দেখে 
ঢেউ এর ওপারে তার হাত দুটো মাঝে মাঝে দেখা যায় শূন্যে তোলা 

আমার খ্রিস্ট গাছে রাতের অন্ধকারে কত ফুল ফোটে 
চৈতন্যের শরীর বেয়ে স্বেদবিন্দুর ধারা
দেহতাড়িত গাছ ভরে যায় কবিতার ফুলে
আকাশ থেকে ঝরে আগুন আর শিশির ক্রমান্বয়ে 

শব্দব্রহ্ম 

শব্দকে অসীম তাপমাত্রায় নিয়ে গেলে
বায়ুস্তর সশব্দে ভেঙে যায় 
কথা যায় ছড়িয়ে 
পারদ কুড়িয়ে নেওয়ার যত্নে 
শব্দকে আবার নিই তুলে 
শব্দের বৃত্তে ঘিরে রাখি শব্দকে ।

এক একটা নতুন শব্দ জন্ম নেয় চক্রবৃদ্ধিহারে 
শব্দ ক্রমশ ক্ষমতাবান হয়
শব্দের  আগুন জ্বলে 

আবার পেলব কথার মালা ছিঁড়ে 
শব্দ মুক্ত হয়ে ঝরে পড়ে 
শব্দের বুনোটে বাবুই হয়ে 
আমি কবিতার নীড় বেঁধে চলি


শূন্যতার পিছনে কেন এতো উজ্জ্বল আকাশ 

বসন্তের সকালে এক , জানলা খুলেই দেখি
আমার শহর হাসে জোয়ার জলের হাসি 

খুশি কতটুকু আছে মনে ভাবি

স্বপ্ন আর দুঃস্বপ্নের সরু গলি ধরে হাঁটি 
ভবিষ্যতহীন এক মশারিতে লেপটে ঘুমিয়ে আছে অনিশ্চিত প্রেম 
মাথার ভিতরে ঘুরঘুর করে সময়ের ঘুণপোকা
কড়া নিকোটিন গন্ধ এখানেও ভাসে
হাহাকারের পিছনে কেন এতো উজ্জ্বল আকাশ 
সাত সকালে আমিও তো শূন্যতা চাই না কোনো 

অযাচিত মনে পড়ে 
কাল রাতে বাদামি মেয়েটার কাছে বিনীত মোমবাতি হয়ে তোমাকে ঝুঁকে পড়তে দেখেছি

অন্য বসন্তে

বসন্ত তার ফুলকারি কাজ ওড়নাখানি
সবুজ ঘাসে বিছিয়ে দিলো।
ফাগুন হাওয়ায় অমনি শুরু কানাকানি 
এমন দিনে মন কে নিলো!

পলাশ বৌএর কাজল চোখে ভ্রমর পাগল
বারে বারে যায় যে খুলে দোরের আগল
অশোক শাখে কোকিল ডাকে মনের সুখে 
শিমূল কাঁটায় ব্যথা জাগে গোপন দুখে।

আকাশ পটে সূর্য আঁকে বসন্তরাগ
বাউল মন আজ ব্যাকুল করে,
দখিন থেকে খবর আনে প্রেয়সী ফাগ 
ফুলের বনে আবীর ঝরে ।

Friday, 1 May 2020

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


পাখি রঙের আকাশ ------ ৬৩

কিছুক্ষণের জন্য স্টেশনে এসে দাঁড়ানো। তারপর হঠাৎ করে কে কোথায় হাওয়া হয়ে যাওয়া। তবুও জায়গা নিয়ে ভীষণ ঝগড়া, একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। সবাই সবাইকে দেখে নিতে চায়। কিন্তু কোথায় তাদের দেখা হবে, সেই জায়গাটাই বা কিরকম তা নিয়ে কেউ কোনো উচ্চবাচ্য করে না। তারপর হঠাৎ করেই বৃষ্টিদুপুরে ট্রেন এসে দাঁড়ায়। অনেকেই উঠে যায় আবার অনেকের জায়গাও হয় না। কিন্তু ঝগড়া থেমে গেছে অনেকক্ষণ। আসলে কিছুক্ষণের জন্যে সবাই ভুলে গিয়েছিল ট্রেনের কথা। তাই ট্রেন আসতেই সবাই এখন একা একা।


বিশ্বজিৎ দাস

মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা , ২-য় বর্ষ










বিশ্বজিৎ দাস

ক্ষত চিনে নেওয়া একটি সূত্র

১.
সাড়ে তিন হাতের একটি সূত্র ধরে
মরমিয়া হতে হতে রাখুন
ঘুমন্ত অপেক্ষা...

গুগলের মতো সার্থক দেহ
সমগ্র সার্কুলেশন ভেঙে
এখনো অংশিদারিত্ব খোঁজে পুষ্টি প্রশ্বাসের!

২.
এখানে ঝুরো মাটি, এখানে সন্দেহ জলের
উঁকিঝুঁকি। তাপপরিতাপের ভিতরে
হৃদয়ের প্রণত কোলাজ...

বলি কি আপনাকে
বহু উঁচু থেকে থেঁতলে পড়া জল
আসে না আপনার অপার্থিব বাতাসে...

৩.
সঙ্গীহীন এই একলা শুয়ে শুয়ে
মেরুদণ্ডী হলেও সাপের মতই
নিশ্চিত এবং সম্ভাব্য প্রেম জাগে অনুপুঙ্খ জ্বরে...

তবু ওইখানে রাতদিন
বোঝেনি আপনি
স্বপ্নগর্ভে লিখে দিন অলৌকিক জন্মান্তরবাদ...

৪.
অনেকেই আত্মস্মৃতি ভুলে
বেলোভেড নৌকায়
পাপড়ি ধরে ধরে এগোয় শাপলায়...

এই স্বীকৃত কথা
চা পানের বিরতিতে
রেখে চলে যান অমীমাংসিত ঘরখানি...

৫.
নিজের আদলে যে
আয়না নেভানো আলোয়
ফেলে গেলেন; সেও কি মিথ্যে বিবৃতি?

নাকি ফলোআপ করানো
একটি নৃশংস আত্মপ্রতিকৃতি

শেষে আপনিও কি
একটি সূত্র খুঁজে ক্ষত পুষলেন মনে মনে?