Friday, 30 October 2020
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ মোনালিসা চট্টোপাধ্যায় ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ বর্ণজিৎ বর্মন ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ প্রসেনজিৎ আচার্য ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ সুষ্মিতা রায়চৌধুরী ||
কোজাগরী
করচা
সংবাদ মাধ্যমে জবর খবর,মা লক্ষী ইন্টারভিউতে বলেছেন-“লক্ষীমন্ত,শান্ত,নির্বাক মেয়ে থুরি বউ,কি করে বৃহস্পতি আনে বলো দেকি!!!”
এই নিয়ে মর্ত্যে তুলকালাম।
এদিকে ইন্টারভিউতে এও শোনা যাচ্ছে তিনি বলেছেন-“মিনে করা সিঁদুর গাছাটি বড্ড প্রিয় কিন্ত না হাতে ধরে থাকতে রাজি নই কারণ আইডেন্টিফিকেশন মার্ক নয় ওটা,যত্নে রাখা ভালোবাসা,তাই আগলে রাখি অন্তরে।”
মিডিয়ার অনর্গল প্রশ্নে নাকি বেশ গর্জে উঠেছিলো তাঁর নীরব ওষ্ঠ।
সেই ভিডিও সামনে আসায় মর্ত্যবাসী বুঝে গেছে,লক্ষীরও রাগের প্রকাশ ঘটে।
বেশ রাগেই নাকি মালক্ষী বলেছেন-“বেকারত্ব আর দুমুঠো অন্নসংস্থান করতে অক্ষম দেশে পুজো আচ্চায় খরচ হয়ে যায় লাখ টাকা,ধিক ভন্ডামো।কৃষকের বরাদ্দ পঁচিশ টাকা,প্যাকেজিং করিয়ে ঝাচকচকে শপিংমলে চাল সব্জি বিক্রি হয় একশো টাকায়।যে ফলন করালো,তার নুন আনতে পান্তা ফোরায়,অথচ নিয়ম করে সে ঘরে তুলসীতলায় সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালিয়ে বৃহস্পতিবার পড়া হয় পাঁচালী!এসব
অবিলম্বে বন্ধ হোক”।
অনেক কষ্টে তাঁকে শান্ত করার পর,মা লক্ষী আদর করে বলেছেন “শোনধন-ধান্যে ভরাতে গেলে উপযুক্ত কথা আর চটপটে হওয়া খুব প্রয়োজন।বাড়ির বউ হয়ে আলতায় পা ডুবিয়ে রাখলে বাপু পেডিকিওর করার টাকার জন্য শুনতে ইহবে!”
আজকের লক্ষীর পায়ে গড়াচ্ছে অলক্তরাগ, কপালে সিঁদুর মোছা আনখ যন্ত্রণা,উথাল পাথাল ব্যথা নিয়েও সে তৈরী করে প্রোজেক্ট রিপোর্ট,পাঁচ বছরের সন্তানের ভবিষ্যত তাঁর হাতে।
আজকের লক্ষী সাতটায় বাবুদের বাড়িতে কাজে ঢোকে,শাড়ী সরে যায় দেখা যায় হাটু,ওরা হেঁটে যায় দুবেলা দুমুঠো খেতে পাওয়ার জন্য।
আজকের লক্ষী অসতী......অলক্ষী।আবার স্নেহের পরশে,সু-চিন্তায় সে শান্ত,স্মীত হাস্যে প্রেয়সী...ঘর আলো করে রাখা নব বধুবা মেয়ে।
“'কে জেগে আছো?”এই অর্থকোজাগরী শব্দের তাই আজকের লক্ষী ঘুরে দেখে চেতনা জাগছে কি সংস্কারাচ্ছন্নমনে? প্রতিবাদ জাগছে কি অন্ধকারের বিরুদ্ধে?শুভ জাগছে কি প্রদীপের তাপে?সর্বোপরি মনুষ্যত্ব জাগছে কি দ্বিচারীতা নাশ করে?অন্যদিকে আলতা রাঙা পায়ে তিনি হাইহীল পড়ে দেখতে ব্যস্ত ঠিকঠাক হাটতে পারছেন কিনা।
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ বিকাশ চন্দ ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ রুনা দত্ত ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ রাজদীপ ভট্টাচার্য ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ প্রনব রুদ্র ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ অনামিকা নন্দী ||
ফেলে আসা সময়গুলো জানলা দিয়ে উঁকি দিলে বিকেলের পৃথিবীতে ছায়া নামে , উঠোনে এক্কা-দোক্কা খেলে বেড়ায় গল্পকথা ৷
নোনাধরা হাসিরা রাজহাঁসের ঠোঁটে ডুব দেয় এঁদো পুকুরের জলে,অবিশ্বাসের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ঝলসে যায় বিশ্বাসের গর্ভ ,জন্ম নেয়
সম্পর্কের মৃত শরীর..
আমার কাছে সঞ্চিত যে মেঘ ছিল তা থেকে আর বৃষ্টি হয়না,সারা আকাশময় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ব্যথার গরম চূর্ণী ...
চৌবাচ্চায় বেঁধে রাখতে চায় সাগরের জল, বোঝাই হয় তিক্ত হওয়া রাত্রি,সকালের অনুভূতিগুলো এখন রাত্রির খাঁড়িতে...
অন্ধকারের প্রাচীর বেয়ে জীবাশ্মরা অন্তরমহলে ঢুকে পড়লে তেঁতো হয়ে যায় জলস্রোত ,ঢেউয়ের ওপর নিথর ফেলে আসা সময় আর মরচে ধরা চাঁদ৷
তবুও একফালি জ্যোৎস্না হাতে খাঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে....
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ শীলা সিনহা ||
কোজাগরী
কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে
চাঁদের আলোয় যখন,
চারিদিক ঝলমল করছে,
থেকে থেকে বেজে উঠছে শঙ্খধ্বনি,
বাড়িতে বাড়িতে পূজিত হচ্ছেন "মা লক্ষ্মী"।
ঠিক তখনই অন্যদিকে
অন্ধকার ঘরের কোনে,
ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে,
কত বাড়ির ধর্ষিত হওয়া,
কত আদরের, জ্যান্ত মা লক্ষ্মীরা।
কজনই বা তাদের খবর রাখে!
একদিকে পূজোর নামে চলছে
আমোদ, ফুর্তি পয়সা ওড়ানো,
অন্যদিকে দুটো খাবারের অভাবে
অকালে ঝরে পড়ছে কত প্রাণ,
কেউ কি তার হিসাব রাখে? কে-জানে!
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ আয়েশা মুন্নি ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ শুভশ্রী সাহা ||
ইমপ্রেশন!
ইমপ্রেশন শব্দটা ঠিক ভাদ্দরের আকাশের মত! ক্ষণে ক্ষণেই বদলায়। ভাদ্দরের আকাশ আনপ্রেডিক্টেবল, যাই বলুন সকালে রোদ দেখে উঠলেন, দিব্যি চলছে বেলায় এলো ঝেঁপে বৃষ্টি! ছোট ছোট ছোট! সব এলোমেলো, ভরা রোদ দেখে শাড়ি মেললেন, ব্যস গেলো, কোনোক্রমে সামলালেন! ইম্প্রেশন ও তাই, বড় আপেক্ষিক! আনপ্রেডিক্টেবল! আপনি পছন্দের মত কাজ করতে পারলেই দারুণ, ইম্প্রেশন জমে ক্ষীর, না করতে পারলে ইম্প্রেশনের গায়ে জ্বর চলে আসবে, ক্রমে ভাইরাল ফিবারের মতো ছড়াবে বাতাসে বাতাসে! তারপর করোনার মতো বিচ্ছেদ! তার জন্য যুক্তি তর্ক লাগে না৷ কি, কেন হলো না, আমি নিজে কি করেছি! আহা হয়ত সমস্যা ছিল! নহিইইই! করেন নি মানে ইচ্ছাকৃত! মেয়েরা সতত আবেগী এবং কানপাতলাও! যে যা বলে তাতেই উত্তেজিত এবং উৎফুল্ল ও!
পুরুষ অবশ্য যুক্তিবাদী বেশি হয় মেয়েদের তুলনায় এটা সত্যি, ব্যস্তও বেশি, চিলেরা কান নিয়ে চলে গেলে ছোটে না, তবে ভাগাব্যান্ড পুরুষ নিজের ইপ্রেশনের মাপ ঝোঁক করতে উৎসাহী হলেও হতে পারে! আহা! লাইকিং বলে কথা! নারীময় জীবন! যদিও লাইকার অনেক সময় তিতিবিরক্ত হয়েও দারুণ দারুণ করে, করতেই হয়, পরে এসে ইম্প্রেশনের মুখে ঝাড়ু মারে বন্ধু বৃত্তে! খুব স্বাভাবিক, সেখানেও ইপ্রেশন খারাপ হলে আরো চিত্তির! আমাদের মতো ভ্যাগাবন্ড যারা, যাদের কিছুর মালিকানা নেই, তারা নির্লিপ্তে ইমপ্রেশনের খেলা দেখে যায়! থাক থাক! ফিলগুড ফ্যাকটরেও রোদ ওঠে বইকি! আহা মিথ্যা করেই হোক, ভালো বলতে দোষ কি! সেই ভাদ্দরের আকাশ আর কি বেমক্কা বৃষ্টি হলো বা, রোদ দিতে কি অসুবিধা ভাই! গিভ মি সাম সানশাইন!! গিভ মি সাম রেইন!
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ দেবাশীষ সরকার ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ মৌসুমী রায় ||
অনন্ত সমুদ্র ও একটি চিল
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ অনঞ্জন ||
শিল্পী
এমনি এক যন্ত্রণার মুহূর্তে তুমি তাকে দেখেছিলে আলো হয়ে নেমে আসতে,
তুমি চেয়েছিলে সে যন্ত্রণা থাক অন্তত আরও কিছুক্ষণ, তুমি নিশ্চিত নিশ্চল
যন্ত্রণা ফিরে ফিরে আসে দাপটে; এমনি এক যন্ত্রণার মুহূর্তে ওলট-পালট সব-
ছত্রভঙ্গ ওই ঝড়ের অন্তরে দেখেছিলে মায়া, ভাঙা গাছের জন্য, ললিতকলা বুঝি তাই;
ঘন-কুয়াশায় মূর্তিমান কাল যখন ছুটে চলে, তুমি নিশ্চল বসে থাকো কালের পিঠে,
সূর্য যতক্ষণ-না তোমার সামনে এসে দাঁড়ায়, এবার দেখো- কে কার কাছে নতজানু হয়!
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ অনির্বাণ মন্ডল ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ গৌতম তালুকদার ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ সোনালী দাস সরকার ||
বাংলা সদা প্রাণচঞ্চল
মাতৃভাষায় জন্মদাত্রীমা-আর আগমনীর মাতৃভূমি
সর্ব শক্তি মা একাকার এখানে
ত্রিভুবনের মা তুমি।
শরৎএর শুভ্র মিঠেল বাতাস
আগমনীর আহ্বানে
মৃদুভাব মনে শান্তিপ্রদানে
উদ্ভাসিত প্রকাশ আনে।
ব্যাকুল হৃদয়ে পুঞ্জিভূত প্রেমে
তৃপ্তিসাধনের অঞ্জলি নেন
দুর্গতিনাশিনী মহামায়া মা
বাংলার ঘরে ঘরে সুখসমৃদ্ধি দেন।
বাঙালীর মহাউৎসব প্রাণপণে
দূর্দশা দূরীভূত করায়
সুস্থ তনুমনে সপ্তস্বরে গেয়ে
মায়ের বাণী ছড়ায়।
এসো এসো কবি রচো রঙেতে
বাংলার সৌন্দর্যতা
গর্ব করুন স্বয়ং ভগবান
মর্ত্য ধামের মাধুর্যতা।
এমন আলপনা এমন প্রকৃত শোভা
ছড়াবো পুস্পে ধরিত্রী মূলে
স্বর্গবাসী আপ্লুত হয়ে মিশে যাবেন
মানুষ কে তা ভুলে!
আমার সোনার বাংলা নয় দূর্বল
সবেতে লড়াকু খেলায়
বারংবার সে সুখ পিছে ফেলে
বেদনাকে রাখেনা হেলায়।
কষ্ট পেলেই প্রকৃত জ্ঞানেন্দ্রিয় জাগে
তাই শিক্ষা দাও
মর্মাহত কিছুতেই নয় এ সময়ে
বাংলার প্রণাম নাও।
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ কেয়া চক্রবর্তী ||
|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ রিয়েল আবদুল্লাহ ||
নেশা
মদ পান করে আমাকে নেশাগ্রস্থ হতে হয় না
তোমাকে দেখলেই মাতাল হয়ে যাই
তোমার কামোষ্ণ লাল চোখ আর ঘন কালো চুল
ডালিম ফাটা ঠোঁট - নিকষ দুটি চোখ
দেখলেই যৌবন টিকিতে আগুন ধরে যায়।
মদ পান করে আমাকে নেশাগ্রস্থ হতে হয় না
তোমাকে দেখলেই মাতাল হয়ে যাই।
চশমা
রঙিণ চশমা পরলে সবই রঙিলা লাগে
মানুষের দুঃখটাও রঙিণ হয়ে যায়
রঙিণ চশমা খোল-মানুষের কাছে যাও
মানুষ হও-তারপর গর্ব করে বলো
তুমি মানুষ -পৃথিবীতেই তোমার বসবাস।
রঙিণ চশমায় চেয়ে বেদনাকে দেখা যায় না
পরিশুদ্ধ দুটি চোখে শুধুমাত্র চেয়েই
বুঝা যায় বেদনা সকলের জন্মান্তর সঙ্গী।



















