Friday, 30 October 2020

|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ মোনালিসা চট্টোপাধ্যায় ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
মোনালিসা চট্টোপাধ্যায়


তার শ্বাসে আমার নিশ্বাস

সমস্ত শরীরে চাঁদ ভেসেছে গোপনে ।
আজ ক্লান্তদিন ছাতিমের গন্ধ ছড়িয়ে বাতাস 
লুটোপুটি --- জেনে নিচ্ছি সাবালক ইচ্ছেদের 
বারমাস্যা ।
কলের পাইপ বেয়ে যে জল সরে যায় তাকে মন্ত্রবলে মেয়ে বলতেই পারি সেই তো আমার লক্ষী চাঁদ সদাগর কে কাকে বেসেছি ভালো ।
জীবন একের পরিপূরকে ভুবন মাত্রা গতির অঞ্চল তাকে পুজোপাঠে আয়ত্তাধীনে রাখি জন্ম --- জন্মান্তর পরজন্মে ।
বাতাসের মিহি বোধে মেয়েদের মান রাখি উচ্চে কেননা আমিও সেই মেয়ে ।
তাই ঘরে তুলে এনে বলেছি তুমিও কন্যা ।
মা হতে চাইলে মা হওয়া যায় কিন্তু মেয়ে আর মা ডাকার আকুল ডাক তার আর্তিতেই জানি কত ভাবে কত ত্যাগে লক্ষ্ণীকে ডেকেছি আমি মেয়ে বলে ।
বিসর্জন নেই সে আমার জীবন কন্যা।
তার শ্বাসে আমার নিশ্বাস নেয়া এক বাদ্য যে বাজনায় সঙ্গীত আমার ।
যে সুর কোমল তাকে কোমলতায় বলো কোজাগরী আজ এই শ্বেতশুভ্র চাঁদ ধুয়ে দিক মনের অতল ব্যথা ।
সব মেয়েদের মায়েরা মেয়েদের পুজো করুক আজকে দিন যথাযথ আলো হোক শুভ হোক ।
জীবনের শান্তি থেকে অশান্তির টানানথে আমিও খেয়াল গাই মেয়েজন্ম নিয়ে একে কি তোমারা সুখ পাও ? 
চাঁদের বিভ্রমে চাঁদফেনা আজ মানুষের পথে ছড়িয়ে ময়ূর আনে এই রাতজ্যোৎস্নারা 
নিয়ে জীবন কাটাব সঙ্গে থাক হাজার হাজার লক্ষ্ণীপুতুল আমার ।

|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ বর্ণজিৎ বর্মন ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
বর্ণজিৎ বর্মন 



শুনানি

আকাশে ঝড় উঠলে ভয়ে পাথর সাজে ইন্দ্রাণী 

কালীঘাট থেকে চলে আসে আতপ গন্ধ বাণী 

ড্রাইভারদের কয়েকটি ধাপ আছে ,তারপর      
                                        পাখিরা চালাবে 
ambassador 

নোটিফিকেশন ভীড় করেছিল 
গতকাল হয়েছে আদালতের শুনানি 

কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা ঐ হাতের ফাইলখানি 
এক 
অস্থায়ী ড্রাইভারের আত্মকাহিনী


|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ প্রসেনজিৎ আচার্য ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
প্রসেনজিৎ  আচার্য


অথচ ঈশ্বর নয়

ঈষ্দুষ্ণ বাতেলামিতে ম্যানগ্রোব ফুটে উঠছে ঠোঁটে
                   বলিভিয়ার জারজ ক্যাপশন
দৌড় তো শুরু হয়ে গ্যাছে ট্রাগোদিয়ার জ্যা বরাবর 
বিসর্গ স্ট্রীটলাইটের ভূমিকায় জ্বলে ওঠে
                             বি- স্বর্গের যাবতীয় বিন্দুজল      
অনামিকায় এভোগ্রাডো সূত্রের বৃষ্টিপাত আর বিন্ন্যাস
অতঃপর রৌদ্র শিস দ্যায় বোল্ট ডেষ্টিনেশন সি-বিচ
এক চামচ লবন অন্তঃকরণে আত্মগ্লানি পরে দু'ধাপ সিঁড়ি 
                   বেডসিন 
      বালিয়াড়ি 
দূরে একটা কচ্ছপ আত্মার মতন সড়ে যাচ্ছে  
                           অথচ ঈশ্বর নয় সব কোণ সব গলি


|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ সুষ্মিতা রায়চৌধুরী ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা 
অণুগল্প~সুষ্মিতা রায়চৌধুরী


কোজাগরী করচা

সংবাদ মাধ্যমে জবর খবর,মা লক্ষী ইন্টারভিউতে বলেছেন-“লক্ষীমন্ত,শান্ত,নির্বাক মেয়ে থুরি বউ,কি করে বৃহস্পতি আনে বলো দেকি!!!”

এই নিয়ে মর্ত্যে তুলকালাম।

এদিকে ইন্টারভিউতে এও শোনা যাচ্ছে তিনি বলেছেন-“মিনে করা সিঁদুর গাছাটি বড্ড প্রিয় কিন্ত না হাতে ধরে থাকতে রাজি নই কারণ আইডেন্টিফিকেশন মার্ক নয় ওটা,যত্নে রাখা ভালোবাসা,তাই আগলে রাখি অন্তরে।”

মিডিয়ার অনর্গল প্রশ্নে নাকি বেশ গর্জে উঠেছিলো তাঁর নীরব ওষ্ঠ।

সেই ভিডিও সামনে আসায় মর্ত্যবাসী বুঝে গেছে,লক্ষীরও রাগের প্রকাশ ঘটে।

বেশ রাগেই নাকি মালক্ষী বলেছেন-“বেকারত্ব আর দুমুঠো অন্নসংস্থান করতে অক্ষম দেশে পুজো আচ্চায় খরচ হয়ে যায় লাখ টাকা,ধিক ভন্ডামো।কৃষকের বরাদ্দ পঁচিশ টাকা,প্যাকেজিং করিয়ে ঝাচকচকে শপিংমলে চাল সব্জি বিক্রি হয় একশো টাকায়।যে ফলন করালো,তার নুন আনতে পান্তা ফোরায়,অথচ নিয়ম করে সে ঘরে তুলসীতলায় সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালিয়ে বৃহস্পতিবার পড়া হয় পাঁচালী!এসব অবিলম্বে বন্ধ হোক”।

 মিডিয়ার নিজস্ব সাংবাদিক নাকি দুম করে বলে উঠেছিলো,”জানেন আমার না পাঁচালী মুখস্ত”,সেই শুনে আবার চঞ্চলা হয়ে উঠেছিলেন লক্ষী ক্যামেরার সামনে।জবাবে বলেছেন- ”আমার কিন্ত সেয়ার মার্কেট মুখস্ত”।

অনেক কষ্টে তাঁকে শান্ত করার পর,মা লক্ষী আদর করে বলেছেন “শোনধন-ধান্যে ভরাতে গেলে উপযুক্ত কথা আর চটপটে হওয়া খুব প্রয়োজন।বাড়ির বউ হয়ে আলতায় পা ডুবিয়ে রাখলে বাপু পেডিকিওর করার টাকার জন্য শুনতে ইহবে!”

 অতএব ২০২০র খাসখবর-

আজকের লক্ষীর পায়ে গড়াচ্ছে অলক্তরাগ, কপালে সিঁদুর মোছা আনখ যন্ত্রণা,উথাল পাথাল ব্যথা নিয়েও সে তৈরী করে প্রোজেক্ট রিপোর্ট,পাঁচ বছরের সন্তানের ভবিষ্যত তাঁর হাতে।

আজকের লক্ষী সাতটায় বাবুদের বাড়িতে কাজে ঢোকে,শাড়ী সরে যায় দেখা যায় হাটু,ওরা হেঁটে যায় দুবেলা দুমুঠো খেতে পাওয়ার জন্য।

আজকের লক্ষী অসতী......অলক্ষী।আবার স্নেহের পরশে,সু-চিন্তায় সে শান্ত,স্মীত হাস্যে প্রেয়সী...ঘর আলো করে রাখা নব বধুবা মেয়ে।

“'কে জেগে আছো?”এই অর্থকোজাগরী শব্দের তাই আজকের লক্ষী ঘুরে দেখে চেতনা জাগছে কি সংস্কারাচ্ছন্নমনে? প্রতিবাদ জাগছে কি অন্ধকারের বিরুদ্ধে?শুভ জাগছে কি প্রদীপের তাপে?সর্বোপরি মনুষ্যত্ব জাগছে কি দ্বিচারীতা নাশ করে?অন্যদিকে আলতা রাঙা পায়ে তিনি হাইহীল পড়ে দেখতে ব্যস্ত ঠিকঠাক হাটতে পারছেন কিনা।

 এখন আপনারাই ভেবে দেখুন দেখি এই কোজাগরীতে,“লক্ষীমন্ত”বলবেন কাকে?সংবাদমাধ্যম তো নাজেহাল।।

|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ বিকাশ চন্দ ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
বিকাশ চন্দ



হৃদয়-পুরুষ খোঁজে

এমন তরো দুঃসময় কে কোন জাত লেখেনি গাত্রে--
সদালাপের গল্পগুলো ছড়ায় নিত্য দেখো সারা বিশ্বে, 
ছায়া পথের অরূপ রূপের নক্ষত্র কেউ দেখেনি রাত্রে 
অবাক চোখের নিষ্পলক কথা চোখ মুখ ঢাকা দৃশ্যে। 

বুকের ভেতরও প্রাণের কান্না কোজাগরী রাত বুঝছে
ভালোবাসায় ভেসে আছি কেবল দু'চোখ বড্ড ভারী--
বিশ্ব জুড়ে একটি নিদেন জীবন বাজী করেই খুঁজছে
ভূবন ছোঁয়া সম্প্রীতি আজ ও নিভৃতে জমেনি আড়ি। 

অদৃশ্য কোন শত্রু শূন্যতায় সে কী দানব নাকি দানবী--
পাখি ও ডাকে ফুল ও ফোটে গন্ধ মাতন এও তো সত্যি, 
আগলে আছে প্রাণের দোসর প্রাণে সকলে তো মানবই 
খিল খিলিয়ে উঠোন জুড়ে হাসে দেব শিশু সে এক রত্তি। 

জীবন মানে গন্ধ বিলায় জড়িয়ে গোলাপ যেনো গাছেই
চিমটি কেটে কেউ দেখে না যারা কে সত্যি মনের মানুষ,
কষ্ট আমার বুকের ভেতরে কেমন গুমরে বেঁচে আছেই
চতুর্দিকে রাজা রানী উড়িয়ে বেড়ায় মিথ্যে যত ফানুস। 

সকল ভাষা বোঝে না সবাই আহা প্রাণের ভাষা বোঝে
হৃদ কমলে জড়িয়ে স্মৃতি অহরহ পুরুষ পাথর আদর,
বিপন্নতায় সকল মানুষ ব্যাস্ততায় হৃদয় পুরুষ খোঁজে    
কান্না হাসির সকল কথাতে  চাতক সত্যি তৃষ্ণা কাতর। 

|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ রুনা দত্ত ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
রুনা দত্ত


ভালোবাসো 

কখনো নিঃশব্দে ভালোবাসো 
কখনো চুম্বনে ছুঁয়ে যাও 
কখনো গভীরে যাও তুমি  
আমার শরীর নদী হয় ওঠে

আমার সঞ্চিত যা কিছু ভেসে যায় 
স্রোতের অভিমুখে
তৃষিত আমি অভিযোজিত হই 
সোহাগ আফিমজলে  

পরাগতৃপ্তির শিশিরে ভিজে 
হয়ে উঠি হংসমিথুন নারী 
রিরংসার আবাহনে পূর্ণতা পায় 
অনাঘ্রাত নারীর ভালোবাসার কাব্য 


|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ রাজদীপ ভট্টাচার্য ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
রাজদীপ ভট্টাচার্য 



বৃক্ষবিষয়ক 

(১)
গাছকে বললাম, আমি তোমারই মতো। এই দ্যাখো, আমার বাহু। তোমার বাড়িয়ে দেওয়া শাখা-প্রশাখা। ও মুচকি হেসে বলল, কিন্তু আমার হাতে সবুজ পাতার পতাকা। আমি হাতে হাতে খাবার বানাই। সবার জন্য। রোদ্দুরে ছায়া দিই। যে আমার কাছে আসে তাকেই আড়াল করে রাখি। আমি নিজের দু'হাতের দিকে ফিরে তাকালাম। আমার দুহাত জুড়ে শহুরে কলুষ আর নাগরিক বিজ্ঞাপন। 

(২)
গাছেরা কিছুই ধরে রাখে না। পালক লাগিয়ে উড়িয়ে দেয় বীজ, জলের কাছে রেখে আসে। বহুদূর পথ পেরোবার আগে কচি বীজদেহ ছুঁয়ে থাকে, মুখে আঁচল চাপা দিয়ে হাত নাড়ে। অনায়াসে মাটির কাছে পাঠ নিতে পাঠায় ছানাদের। ঘরে ফেরা না ফেরা নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করে না। তারপর আকাশের দিকে চেয়ে, আলোর দিকে চেয়ে সমর্পণী স্তব। প্রার্থনা জানায় পৃথিবীর হয়ে একাই, কারো অপেক্ষায় বয়ে যেতে দেয় না এই তিনদিনের জীবন। 

(৩)
আমি গাছকে প্রশ্ন করেছিলাম, তোমার মন নাই কুসুমের বাপ? সে তাই বসন্তে ফুল ফুটিয়েছিল আর শীতে ঝরিয়েছিল পাতা। তারপর একদিন জনান্তিকে বলেছিল, আমি দিতে পারি, নিতে পারি না। আমার ভিতরে, প্রতিটি কোশে, আমার বাকলে লেখা থাকে রোজকার কথা, তবে উচ্চস্বরে জানাতে পারি না। শুধু মুখ বুজে নিজের কাজ করি। কত কাজ! মাটি থেকে জল টেনে টেনে তুলি। পাতায় পাতায় ডেকে আনি মহাদ্যুতিম। যে আদিম লঙ্গরখানার দায়িত্ব দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে সে কাজ যে শেষ হবার নয়! আমৃত্যু এ বিশ্বমন্দিরের সেবায়েত আমরা, ওই বাতাসের সাথে সামান্য খুনসুটি আমাদের বরাদ্দ বিনোদন মাত্র।

(৪)
আগে বুঝতাম না কিছুই। ইদানিং বেশ স্পষ্ট হয়ে আসছে সকল অভিপ্রায়। দিব্যি অনুভব করি, মাটির সাথে সেলায়ের ফোঁড়ে বাঁধা আছে আকাশ। তাই তারা লেপ্টে থাকে অপরের গায়।  প্রতিটি উদ্ভিদ, প্রতিটি বৃক্ষ যেন মাটি থেকে আকাশ অবধি টানা সূচের নক্সা। গাছ কাটা হলে সেই প্রাচীন কাঁথার রূপ জীর্ণ হয়। আকাশ ও মাটির মধ্যে জমে সমূহ তিমির। ইবলিশ নেমে আসে দুজনের মাঝে। 

(৫)
গাছেরা জন্মনিয়ন্ত্রণ জানে না, এজন্য তাদের অবশ্য কোনো দুঃখ নেই। গাছেরা আত্মরক্ষায় অস্ত্র ধরতে জানে না,  এজন্যও তাদের কোনো দুঃখ নেই।  আসলে তাদের শরীরেই কোনো দুঃখগ্রন্থি নেই। থাকলে মানুষের কপালে দুঃখ ছিল!



|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ প্রনব রুদ্র ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
অণুগল্প~প্রনব রুদ্র 



কৌশল

বছর আটের রাহুল। জানালার শিক্ ধরে ফসলের সবুজমাঠ, প্রকৃতি দেখছে। গ্রামের ধনী মাতা-পিতার একমাত্র সন্তান। অতিমারী অসুখের প্রকোপে এখনো বাড়ির বাইরে আসা বারণ। আর বিশেষ বারণ-  ওদিকের মনুয়া, নিতাইদের সাথে খেলা এবং কথাও! কী এক ভাইরাসি অসুখ- কথা বললে, ছুঁলেই নাকি মারা যাবে সে!

হঠাৎ "ম্যাওও ম্যাওও"- ডাক।
তারপর "ভোওউ ভোওউ"-ও শুনে মুখ চওড়া হাসি রাহুলের। 
সাথে সাথেই প্যাকেটটা জানালার বাইরে নামিয়ে দিলো।
দ্যাখে, মনুয়া নিতাই ওটা খুলে খাওয়া শুরু করেছে। 
রাহুলের বন্ধু ওরা। বাবা-মা জানেনা। ফাঁকা দুপুরে আর সন্ধ্যার পর প্রতিদিনই এখন আসে, ওরমভাবে ডাকে। 
বাড়িতে রান্না ঠিকমতো হয়না বলে একদিন রাহুলকে কেঁদে বলেছিলো- "তোদের বাড়ি থেকে প্রতিদিন কত সুন্দর সুন্দর গন্ধ আসে, তোরা প্রতিদিন ভাত খাস?"
রাহুল অবাক হয়ে বলছিলো- "হ্যাঁ খাই তো। আমি যা খেতে চাই করি, মা তাই রান্না করে দেয়।" 
সেদিনের পর মনুয়া আর নিতাইয়ের পছন্দের রান্নাও রাহুলদের বাড়িতে হয়। তবে মা জানেনা। আজ ছিলো মনুয়ার মাংস-ভাত। 
খাওয়া শেষে রাহুলের বোতলে জল খেয়ে নিচুস্বরে গল্প করতে থাকে ওরা। 

               স্কুলের স্যর বলেছিলেন মানুষের উপকারে আসাই মানুষের আসল ধর্ম। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড়ো খুশি ক্ষুর্ধাতকে তৃপ্তিভরে খেতে দেখা। তোমরা এখন ছোট এসব বুঝবেনা। তবু চেষ্টা করবে
মানুষের পাশে থাকার। এখন স্কুল বন্ধ হলেও স্যরের কথা ভুলেনি। মাকে বলে এঘরে নিজের খাওয়ায় ব্যবস্থা করেছে যাতে বন্ধুদের জন্য খাবার সরাতে পারে। 

             সন্ধ্যাবেলা কুকুরের ডাক শুনতে পেলো রাহুল। ঘরে তখন মা। মা বল্লে- "তুমি ওই কুকুরগুলো জানালা দিয়ে খেতে দাও নাকি? ও জানোয়ার কামড়ালেই কিন্তু জলাতঙ্করোগ, নাভিতে চোদ্দটা ইনজেকশন!"
রাহুল চুপ থাকে। 
"শোন, রাতে পায়েস করবো খাবে তো?"
পাশের ঝোপটা কেঁপে ওঠে। ম্যাওও ম্যাওও ডাক শোনা যায়। রাহুল জানে এটা মনুয়া বলছে, খাবে। রাহুলও মাকে হ্যাঁ বলে।

মা গজ্গজ্ করেন- "আবার একটা বেড়াল এসেছে। সবগুলোকে তাড়িয়ে জানালা বন্ধ করেদি।"

            দু'পায়ের দুই জানোয়ার রাহুলদের রান্নাঘরের পাশে পায়েসের গন্ধের জন্য দাঁড়িয়ে আছে। ক্ষুধার কাছে এমনই দাঁড়িয়ে থাকে সব পেট। শুধু ভোগবিলাসের ধরণটা আলাদা। উদরপূর্তির কৌশল ভিন্ন ভিন্ন।


|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ অনামিকা নন্দী ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
অনামিকা নন্দী



নোনাধরা সময়
​         
ফেলে আসা সময়গুলো জানলা দিয়ে উঁকি দিলে বিকেলের পৃথিবীতে ছায়া নামে , উঠোনে এক্কা-দোক্কা খেলে বেড়ায় গল্পকথা ৷
​নোনাধরা হাসিরা রাজহাঁসের ঠোঁটে ডুব দেয় এঁদো পুকুরের জলে,অবিশ্বাসের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ঝলসে যায় বিশ্বাসের গর্ভ ,জন্ম নেয়
​সম্পর্কের মৃত শরীর..

​আমার কাছে সঞ্চিত যে মেঘ ছিল তা থেকে আর বৃষ্টি হয়না,সারা আকাশময় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ব্যথার গরম চূর্ণী ...

​চৌবাচ্চায় বেঁধে রাখতে চায় সাগরের জল, বোঝাই হয় তিক্ত হওয়া রাত্রি,সকালের অনুভূতিগুলো এখন রাত্রির খাঁড়িতে...
অন্ধকারের প্রাচীর বেয়ে ​জীবাশ্মরা  অন্তরমহলে ঢুকে পড়লে তেঁতো হয়ে যায় জলস্রোত ,ঢেউয়ের ওপর নিথর ফেলে আসা সময় আর মরচে ধরা চাঁদ৷

​তবুও একফালি জ্যোৎস্না হাতে খাঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে.... 

|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ শীলা সিনহা ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
শীলা সিনহা


কোজাগরী

 

কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে

চাঁদের আলোয় যখন,

চারিদিক ঝলমল করছে,

থেকে থেকে বেজে উঠছে শঙ্খধ্বনি,

বাড়িতে বাড়িতে পূজিত হচ্ছেন "মা লক্ষ্মী"।                     

ঠিক তখনই অন্যদিকে

অন্ধকার ঘরের কোনে,

ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে,

কত বাড়ির ধর্ষিত হওয়া,

কত আদরের, জ্যান্ত মা লক্ষ্মীরা।

কজনই বা তাদের খবর রাখে!

একদিকে পূজোর নামে চলছে

আমোদ, ফুর্তি পয়সা ওড়ানো,

অন্যদিকে দুটো খাবারের অভাবে

অকালে ঝরে পড়ছে কত প্রাণ,

কেউ কি তার হিসাব রাখে? কে-জানে!



|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ আয়েশা মুন্নি ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
আয়েশা মুন্নি



মায়াবতী প্রেমিকা

তুমি জানো না প্রেমিক...
কতটা বিপ্লবী প্রেমিকা আমি
আমি সমরেশের দিপাবলী
আমি প্রীতিলতা
আমি...তোমার তুমিতেও আমি।

তোমার উপর যখন অভিমান হয় 
কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে রাষ্ট্রের সংবিধানে।
তুমি যখন কাঁদাও তখন সিদ্ধান্ত নেই
শোক প্রস্তাব পাঠাবো সংসদে।
তোমার সাথে ঝগড়ার প্রতিবাদে
মিছিলে স্লোগান দেবার সিদ্ধান্ত নেই তোমার বিরুদ্ধে।

যখনই ভাবি ছেড়ে চলে যাব তোমায়
ইচ্ছে করে সকল রাজনৈতিক সভা মুলতবি ঘোষণা করি।
বিচ্ছেদের দিনগুলো চোখে ভাসতেই
সিদ্ধান্ত নেই জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করি দেশ।

আবার তোমার অল্প কথার গুরুত্বে
সুপ্রীম কোর্টের রুলস জারি করি,
ভালবাসি শুনলেই
রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাই ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন।
আমি নারী, মায়াবতী প্রেমিকা তোমার...

|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ শুভশ্রী সাহা ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
মুক্ত গদ্য~শুভশ্রী সাহা 


ইমপ্রেশন!

ইমপ্রেশন শব্দটা ঠিক ভাদ্দরের আকাশের মত! ক্ষণে ক্ষণেই বদলায়। ভাদ্দরের আকাশ আনপ্রেডিক্টেবল,  যাই বলুন সকালে রোদ দেখে উঠলেন, দিব্যি চলছে বেলায় এলো ঝেঁপে বৃষ্টি! ছোট ছোট ছোট! সব এলোমেলো, ভরা রোদ দেখে শাড়ি মেললেন, ব্যস গেলো, কোনোক্রমে সামলালেন! ইম্প্রেশন ও তাই, বড় আপেক্ষিক! আনপ্রেডিক্টেবল!  আপনি  পছন্দের মত কাজ করতে পারলেই   দারুণ, ইম্প্রেশন জমে ক্ষীর, না করতে পারলে ইম্প্রেশনের গায়ে জ্বর চলে আসবে, ক্রমে ভাইরাল ফিবারের মতো ছড়াবে বাতাসে বাতাসে! তারপর করোনার মতো বিচ্ছেদ! তার জন্য যুক্তি তর্ক লাগে না৷ কি,  কেন  হলো না,  আমি নিজে কি করেছি! আহা হয়ত সমস্যা ছিল! নহিইইই! করেন নি মানে ইচ্ছাকৃত! মেয়েরা সতত আবেগী এবং কানপাতলাও! যে যা বলে তাতেই উত্তেজিত এবং উৎফুল্ল ও!
পুরুষ অবশ্য যুক্তিবাদী বেশি হয় মেয়েদের তুলনায় এটা সত্যি, ব্যস্তও বেশি, চিলেরা কান নিয়ে চলে গেলে ছোটে না, তবে ভাগাব্যান্ড পুরুষ  নিজের ইপ্রেশনের মাপ ঝোঁক করতে উৎসাহী হলেও হতে পারে! আহা! লাইকিং বলে কথা! নারীময় জীবন! যদিও লাইকার অনেক সময় তিতিবিরক্ত হয়েও দারুণ দারুণ করে, করতেই হয়, পরে এসে ইম্প্রেশনের মুখে ঝাড়ু মারে বন্ধু বৃত্তে! খুব স্বাভাবিক,  সেখানেও  ইপ্রেশন খারাপ হলে আরো চিত্তির!  আমাদের মতো ভ্যাগাবন্ড যারা, যাদের কিছুর মালিকানা নেই, তারা নির্লিপ্তে ইমপ্রেশনের খেলা দেখে যায়! থাক থাক! ফিলগুড ফ্যাকটরেও রোদ ওঠে বইকি!  আহা মিথ্যা করেই হোক, ভালো বলতে দোষ কি! সেই ভাদ্দরের আকাশ আর কি বেমক্কা বৃষ্টি হলো  বা, রোদ দিতে কি অসুবিধা ভাই! গিভ মি সাম সানশাইন!! গিভ মি সাম রেইন!



|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ দেবাশীষ সরকার ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
দেবাশীষ সরকার


রঙের ছায়া...

সব রঙের ছায়া গুলো এক, বর্ণহীন, নিথর l 
টক ঝাল রঙিন লজেন্স গুলোর স্বাদ মাদকতায় ভরা,  
আস্তা কুঁড়ের সরল চোখ গুলো বেয়ে সবুজ ঝর্ণার দল 
জমে পান্না হয় l ভাগ্যের রদবদলে এর জুড়ি মেলা ভার ;
ভগবানের ভাগের ফুল খোয়া গেছে ভক্তির অন্ধকারে, 
বাবু গো তোমার জিভ খানার একটা ফটো দাওনা 
আমার পূর্ব পুরুষরা এই জিভের স্বপ্ন দেখে দেখে 
স্বপ্ন দেশে দিয়েছে পাড়ি  l 
মরীচিকার তটে কালে কালে জমে ওঠে খেয়া, 
কত মাঝি আসে যায় ; 
সোনার কেল্লা গলে বেয়ে আসা অবেসি রাতের মায়া 
জঠরের আগুনে হোম সারে  ; 
অমসৃণ জিভ গুলোর ছায়া ধরে যদি ঝুলে পড়ো, 
জেনে রেখো বৈতরণী পার হবে শুভ l



|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ মৌসুমী রায় ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
মৌসুমী রায় 



অনন্ত সমুদ্র একটি চিল


হারিয়ে ফেলেছি বন্দরের শেষ নিশানা
মাঝ সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছি বেধড়ক!

বারমুডাট্রাঙ্গেল থেকে রহস্যসংকেত
হায়রোগ্লিফিকে বিচিত্র প্রেমপত্র পাঠায়
হারাকিরি কুরুবক বুরবক জেনানা হৃদয়
কালের মিক্সিতে ঘ্যাস ঘ্যাস পেষে
মোহমুদ্গর বাৎসল্য কাম প্রেম
রসালো আচারে দ্বিপ্রাহরিক পিএনপিসি
রোদেলা জাফরিতে পিঠ দিয়ে নিওন আলো
মোবাইলস্ক্রীনে ফিসফিসে দুর্বোধ্য 
ডোরাকাটা সংকেত বিপবিপ্ বিপবিপ্
চতুর্মুখ অজাবতারে দেবীনৃশংসা
ভক্তদলে প্রস্ফূটিতা হন।

মাঝসমুদ্রে তখন হাঙরের জলস্তুতি
জেগে ওঠে জলপরী,নীবিবন্ধে কস্তুরি ,
গন্ধকুঠিতে অমোঘ বসন্ত আহ্বান
দিকহারা কম্পাসে অনিদির্ষ্ট কাঁটা 
সাঁই সাঁই ঘুরে যায় নিয়তি আমার
ভোঁকাট্টা নাবিক জীবন ত্রিশঙ্কু ঝুলনে
উদগ্র বাসনাচক্ষু ভাসিয়েছি অনন্ত নীলাকাশে

দিশা নেই,গতি নেই ,নেই বন্ধুডানার ছায়া
বিভঙ্গউড়ানে স্রেফ লাটখাওয়া চিল...


|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ অনঞ্জন ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
অনঞ্জন 


শিল্পী


এমনি এক যন্ত্রণার মুহূর্তে তুমি তাকে দেখেছিলে আলো হয়ে নেমে আসতে,

তুমি চেয়েছিলে সে যন্ত্রণা থাক অন্তত আরও কিছুক্ষণ, তুমি নিশ্চিত নিশ্চল

যন্ত্রণা ফিরে ফিরে আসে দাপটে; এমনি এক যন্ত্রণার মুহূর্তে  ওলট-পালট সব-

ছত্রভঙ্গ ওই ঝড়ের অন্তরে দেখেছিলে মায়া, ভাঙা গাছের জন্য, ললিতকলা বুঝি তাই;

ঘন-কুয়াশায় মূর্তিমান কাল যখন ছুটে চলে, তুমি নিশ্চল বসে থাকো কালের পিঠে,

সূর্য যতক্ষণ-না তোমার সামনে এসে দাঁড়ায়, এবার দেখো- কে কার কাছে নতজানু হয়!



|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ অনির্বাণ মন্ডল ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা 
অনির্বাণ মন্ডল



বিস্মৃত

কথা ছিল বৃষ্টির বুক চিড়ে দেখা
ভাঙন
ক্রমশঃ খেই হারিয়ে ফেলা
অশরীরী মোহনা
অমৃত কলসের নীচে লুকিয়ে রাখা
দাঁত ভাঙ্গা চিরুনি
আর
একটা ছাতা বিহীন অন্ধকার।

বারবার উঁচু কাঁধের পর
যখন নতজানু লজ্জা
অপেক্ষা তখনও পরাজিত সহবাস;
তবু
এভাবেই ফিরে ফিরে আসে
 কালপুরুষের জীবাশ্ম;
আর
কথা থেকে যায় মাংসল অন্তর্বাসে।

|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ গৌতম তালুকদার ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
গৌতম তালুকদার


স্মৃতি

সারা দিন বাড়ির উঠনে

শিমুল তুলোর ছড়াছড়ি,

ওরা যেন দল বেধঁ-

পর ভুলে নেমে এসেছে।

                

               চারা  গাছের কচি পাতা

                                      ফুল,কুড়ি-

                 সাদা চুলে,পাকা মাথায়-

                   জল্পনা-কল্পনায় ব্যাস্তো;

              অন্যেরা মাটিতে লুটোপুটি!

 

তাই দেখে বাবলী;

হেসে গড়াগড়ি যায় আঙ্গিনায়

প্রকৃতি সাদে সময় কাটায়।

আমরাও বাবলী কিংবা- সুভাশীষ, ছিলাম।

 




|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ সোনালী দাস সরকার ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
সোনালী দাস সরকার


বাংলা সদা প্রাণচঞ্চল 

মাতৃভাষায় জন্মদাত্রীমা-আর আগমনীর মাতৃভূমি
সর্ব শক্তি মা একাকার এখানে
ত্রিভুবনের মা তুমি।

শরৎএর শুভ্র মিঠেল বাতাস
আগমনীর আহ্বানে
মৃদুভাব মনে শান্তিপ্রদানে
উদ্ভাসিত প্রকাশ আনে।

ব্যাকুল হৃদয়ে পুঞ্জিভূত প্রেমে
তৃপ্তিসাধনের অঞ্জলি নেন
দুর্গতিনাশিনী মহামায়া মা
বাংলার ঘরে ঘরে সুখসমৃদ্ধি দেন।

বাঙালীর মহাউৎসব প্রাণপণে
দূর্দশা দূরীভূত করায়
সুস্থ তনুমনে সপ্তস্বরে গেয়ে
মায়ের বাণী ছড়ায়।

এসো এসো কবি রচো রঙেতে
বাংলার সৌন্দর্যতা
গর্ব করুন স্বয়ং ভগবান
মর্ত্য ধামের মাধুর্যতা।

এমন আলপনা এমন প্রকৃত শোভা
ছড়াবো পুস্পে ধরিত্রী মূলে
স্বর্গবাসী আপ্লুত হয়ে মিশে যাবেন
মানুষ কে তা ভুলে!

আমার সোনার বাংলা নয় দূর্বল
সবেতে লড়াকু খেলায়
বারংবার সে সুখ পিছে ফেলে
বেদনাকে রাখেনা হেলায়।

কষ্ট পেলেই প্রকৃত জ্ঞানেন্দ্রিয় জাগে
তাই শিক্ষা দাও
মর্মাহত কিছুতেই নয় এ সময়ে
বাংলার প্রণাম নাও।



|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ কেয়া চক্রবর্তী ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
কেয়া চক্রবর্তী



মুক্তির অপেক্ষায়

জানিনা কবে মুক্তি পাবো বন্দীজীবন থেকে,
আর কতদিন থাকবো এভাবেই বাড়িতে চুপটি করে বসে,
জানলার ধারে বসে তিতলি ভাবে শুধুই তাই,
আর বোধহয় বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়ার নাই।
পারবো না আর খোলা মাঠে করতে দৌড়াদৌড়ি,
পারবো না আর আচার খেতে যাবো না স্কুলে চড়ে কাকুর গাড়ি,
সারাদিন শুধু পড়া, আর হোমওয়ার্ক,
অনলাইনে পড়ে শুধু মাথায় বাড়ছে এখন চাপ,
নাচ, আঁকা, বন্ধু সবই এখন যে অতীত,
ঘরের বাইরে কবে যে যাবো ধারণাতীত,
মা গো আমায় ছুটি কি তুমি দেবে না,
একলা ঘরে আটকে যে যায় দম কিছুই ভালো লাগে না।
সবুজ ঘাসে জানিনা কবে করবো লুটোপুটি,
গাছের ফুল সূর্যের আলোয় উঠেছে কেমন ফুটি।
আজ যেন ঠিক আমি ওই খাঁচায় পোষা টিয়াপাখি,
যতই করি ডাকাডাকি, 
জানিনা কবে এই বন্দীদশা থেকে মুক্তি পাবো থাকি অপেক্ষায়,
জানিনা কবে পৃথিবী থেকে অসুখ নেবে বিদায়।
দূর আকাশ আমায় দিচ্ছে ওড়ার ডাক,
পাখির মতো উড়ে বেড়ানোর আমার যে বড় সাধ।

|| কোজাগরী সংখ্যা ≈ রিয়েল আবদুল্লাহ ||

|| মল্ল সাহিত্য ই-পত্রিকা ||
কোজাগরী সংখ্যা
রিয়েল আবদুল্লাহ



নেশা

মদ পান করে আমাকে নেশাগ্রস্থ হতে হয় না
তোমাকে দেখলেই মাতাল হয়ে যাই

তোমার কামোষ্ণ লাল চোখ আর ঘন কালো চুল
ডালিম ফাটা ঠোঁট - নিকষ দুটি চোখ
দেখলেই যৌবন টিকিতে আগুন ধরে যায়।

মদ পান করে আমাকে নেশাগ্রস্থ হতে হয় না
তোমাকে দেখলেই মাতাল হয়ে যাই।


চশমা

রঙিণ চশমা পরলে সবই রঙিলা লাগে
মানুষের দুঃখটাও রঙিণ হয়ে যায়

রঙিণ চশমা খোল-মানুষের কাছে যাও
মানুষ হও-তারপর গর্ব করে বলো
তুমি মানুষ -পৃথিবীতেই তোমার বসবাস।

রঙিণ চশমায় চেয়ে বেদনাকে দেখা যায় না
পরিশুদ্ধ দুটি চোখে শুধুমাত্র চেয়েই
বুঝা যায় বেদনা সকলের জন্মান্তর সঙ্গী।